রাজনীতি
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে চায় দল-পরিবার
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে চায় দল-পরিবার





নিজস্ব প্রতিবেদক
Sunday, Jun 20, 2021, 10:37 pm
 @palabadalnet

গুলশানে নিজের বাসা ফিরোজায় ফেরেন খালেদা জিয়া

গুলশানে নিজের বাসা ফিরোজায় ফেরেন খালেদা জিয়া

ঢাকা: রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে টানা ৫৪ দিন চিকিৎসা শেষে শনিবার বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি অনেকটা ভালো আছেন। বড় ধরনের কোনো শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়নি তার। তবে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেননি বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। তার হার্ট, কিডনি ও লিভারে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এছাড়া তার পুরনো অসুখ আর্থারাইটিসও রয়েছে। এ অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে দল ও তার পরিবার।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়ানোর জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শমতে বাইরের কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে যাননি। শুধু তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ভাগ্নে ডা. আব্দুলতাহ আল মামুন বিকেলে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে বাসভবনে যান।

হাসপাতালে সংক্রমণের শঙ্কায় তাকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজাতেই চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা। একইসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুপারিশও করেছেন তাদের প্রতিবেদনে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে আবারও উদ্যোগ গ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তির পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারের কাছে আবেদন করেন পরিবারের সদস্যরা। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে ৯ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইন অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে সরকার অনুমতি দেবে না। কিন্তু এরপরও পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ করে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে।

এসব বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কারও বক্তব্য পাওয়া যাযনি। তবে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দীর্ঘ চার বছর খালেদা জিয়ার চিকিৎসা না হওয়ায় এবং কারাগারে রাখার কারণে তিনি অনেকগুলো রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে প্রথম তার হার্টে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার কিডনিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার লিভারে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার পুরনো অসুখ আর্থারাইটিসও রয়েছে। সবগুলো মিলে তিনি অত্যন্ত অসুস্থ আছেন। এসব রোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন।

একইভাবে রোববার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভাতেও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতৃবৃন্দ দলের চেয়ারপারসনের আশু রোগমুক্তির জন্য দোয়া করেন।

পোস্ট কভিড নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে খালেদা জিয়া গত ২৭ এপ্রিল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ৬ দিন পর ৩ মে তিনি শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয় তাকে। পরে অবস্থার উন্নতি হলে এক মাস পর গত ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে কেবিন ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় দু’দফা খালেদা জিয়া জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে তার জ্বর নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে গত ১০ এপ্রিল গুলশানের বাসা ফিরোজায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা-পরবর্তী জটিলতায় খালেদা জিয়ার ফুসফুস, হার্ট, লিভার ও কিডনি আক্রান্ত হয়েছে। হৃদরোগের কারণে তার শরীরের যে কোনো একটি চেম্বার বা অংশে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে লিভার ও কিডনি প্রায় অর্ধেক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের (প্রতিস্থাপন) সুপারিশ করেছেন চিকিৎসকরা। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় তার ছাড়পত্রেও একই সুপারিশ করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এএফএম সিদ্দিকী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা একটা লেভেল পর্যন্ত তার চিকিৎসাটা চালিয়ে কতগুলো জটিলতা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। কিন্তু কতগুলো বিষয় আছে, যেমন তার যে লিভারের সমস্যা আমরা ধরতে পেরেছি, সেটা কোনো স্টেজে আছে এবং এমন সব সেন্টারে এসব অ্যাসেসমেন্ট হওয়া উচিত, যেখানে আর্টিফিশিয়াল লিভার সাপোর্ট, আর্টিফিশিয়ালি অন্যান্য অ্যাডভান্স টেকনোলজি এপ্লাই হতে পারে।

তিনি বলেন, অসুস্থতা কিন্তু শুধু লিভারে থাকে না, খাদ্যনালীতে হয়, যেটা পরে সারা শরীরে গিয়ে প্রভাব ফেলে। যেটাতে মেজর কতগুলো কমপ্লিকেশন হতে পারে। সেই ধরনের টেকনোলজি বা সেই ধরনের অ্যাডভান্স টিট্রমেন্ট সাপোর্ট আমাদের বাংলাদেশে নেই বলে আমরা মনে করছি। আমাদের লিখিত প্রতিবেদনে সেটা আমরা বলেছি।

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]