দক্ষিণ এশিয়া
‘কুটিল’ ভারতকে কঠিন শিক্ষা দিতে হবে: চীনা বিশেষজ্ঞ
‘কুটিল’ ভারতকে কঠিন শিক্ষা দিতে হবে: চীনা বিশেষজ্ঞ





গ্লোবাল টাইমস
Monday, Sep 28, 2020, 12:49 pm
 @palabadalnet

সীমান্তে উত্তেজনা হ্রাস করতে ২১ সেপ্টেম্বর চীন-ভারত সামরিক কমান্ডার-পর্যায়ে ষষ্ট দফার বৈঠকে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন দিন পর হিন্দু পত্রিকায় এক সিনিয়র ভারতীয় কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘পিএলএ (পিপলস লিবারেশন আর্মি) যদি কাছে আসে, তবে ভারতীয় সৈন্যরা গুলি করবে।’ এ ধরনের বক্তব্য কেবল এটাই প্রকাশ করে যে ভারত আসলে সিংহের চামড়া পরা এক কাপুরুষ।

দুই দেশ তাদের সর্বশেষ আলোচনায় রণাঙ্গনে আর কোনো সৈন্য না পাঠানোর ব্যাপারে একমত হয়। এতে তুলনামূলকভাবে ভারতের অনুকূলে থাকে পরিস্থিতি। কারণ বেইজিংয়ের চেয়ে নয়া দিল্লী সীমান্ত এলাকায় অনেক বেশি সৈন্য পাঠিয়েছে। প্যাংগং সো লেকের কাছে সর্বশেষ সঙ্ঘাতে ভারতীয় সৈন্যরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে। তারা কয়েকটি টিলা দখল করে। ভারত আশা করছে, তারা এ ধরনের সুবিধা বজায় রাখতে পারবে এবং পিএলএ কাছাকাছি আসতে পারবে না।

ভারত কি প্রথম গুলিটি করবে? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ভারতীয় সামরিক বাহিনী বা এই বাহিনীর কিছু অংশ জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগ ও ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দ্বারা প্রভাবিত। দেশটির অনেক লোকও সম্ভবত যুদ্ধ উস্কে দিতে চায়।

ভারত সবসময়ই তার গলাবাজী দিয়ে হিসাব কষছে। পরিস্থিতি ভারতের অনুকূলে হলে তারা আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের অবসান চায়। চলতি মে মাসে তেমনটিই ঘটেছিল। কিন্তু ১৫ জুনের সঙ্ঘাতের পর, যখন মনে হলো যে ভারত ক্ষতির শিকার হয়েছে, দেশটি যুদ্ধের জন্য চিৎকার করে। তারপর আগস্টের শেষ দিকে প্যাংগংয়ে আগ্রাসনের পর তারা আবার চীনের সাথে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলে তারা চায় আলোচনার মাধ্যমে চীনের কাছ থেকে ছাড় আদায় করতে। এখন এমন অবস্থাই চলছে। সামান্য সুবিধার মাধ্যমে বিরাট ফায়দা হাসিল করা তাদের লক্ষ্য।

ভারত এভাবে সীমান্ত এলাকার আরো অনেক কৌশলগত টিলা দখল করতে চায়।

অবশ্য, সঙ্ঘাতে ভারত কিছু সমস্যায় পড়েছে। দেশটিতে মহামারির সঙ্কট বাড়ছেই। সীমান্ত এলাকায় বিপুল সৈন্য মোতায়েন করলেও দেশটির লজিস্টিক খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়েছে।

আধুনিক যুদ্ধে লজিস্টিক সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চীনের সৈন্য, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরিবহনের সক্ষমতা ভারতের চেয়ে অনেক ভালো। ভারত যদি প্রথমে গুলি করার সাহস দেখায়, তবে সে দ্বিতীয়বার গুলি করার কোনো সুযোগ পাবে না।

চীন যুদ্ধ চায় না। সে ভারতকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি ভাই হিসেবে দেখতে চায়। ভারতের সাথে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে চীন। 

কিন্তু ভারত সেভাবে চিন্তা করে না। সে চীনকে বাদ দিয়ে নতুন বৈশ্বিক শিল্প শৃঙ্খল গঠন করতে চায়। চীনের উত্থানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অবস্থান গ্রহণ করেছে ভারত। ভারত ভয় পাচ্ছে যে চীন এশিয়ার প্রধান শক্তিতে পরিণত হবে।

ভারতের কৌশলগত মহল এখন চীনের সাথে সীমান্ত সঙ্ঘাতকে এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভবিষ্যতের সাথে এক করে দেখছে। তারা মনে করছে, ভারত জয়ী হলে চীনের উত্থান থমকে যাবে। আর ভারত হেরে গেলে চীন প্রাধান্য বিস্তার করবে এশিয়ায়। তারা আশা করছে, শক্তি প্রয়োগ করে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (এলএসি) তাদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

ভারত সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যাপারে আন্তরিক নয়। ভারতের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ভারতের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করতে চীনকে রাজি করানো। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, দুই শক্তির প্রয়োজন একে অপরের উত্থানের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া। কিন্তু ভারতীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী, এই খাপ খাওয়ানোর অর্থ হলো, ভারতের উত্থানের সাথে চীনের নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ চীনকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাববলয় স্বীকার করে নিতে হবে, বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে ভারতের মর্যাদা স্বীকার করতে হবে।

চীন যদি প্রত্যাঘাত না করে তবে চীন-ভারত সীমান্তে প্রায়ই সঙ্ঘাত সৃষ্টি হবে। আর সেটাই হয়ে পড়বে নতুন স্বাভাবিকে। ভারতের পদক্ষেপ সম্পর্কে অনুমান করা যায় না। তারা সবসময় সঙ্ঘাত সৃষ্টি করে হিসাব কষে। ২০১৭ সালের দোকলাম অচলাবস্থা হয়েছিল চীনের জিয়ামেনে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম সম্মেলনের আগে দিয়ে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সঙ্ঘাত মোকাবেলা করছিল চীন। এবারো একই ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, চীন যখন কোভিড-১৯ নিয়ে ব্যস্ত তখনই তা ঘটছে। 

ভারত যদি এই কৌশল অবলম্বন করা অব্যাহত রাখে, তবে চীনকে অবশ্যই আগের অবস্থান ও ভারতের প্রতি তার নীতি নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে। ভারতের প্রতি আরো কঠোর হওয়ার সময় এসেছে।

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]