সারাবাংলা
করিমগঞ্জে পুলিশের বিরুদ্ধে ‘হত্যার ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা’ নেয়ার অভিযোগ, এলাকায় বিক্ষোভ
করিমগঞ্জে পুলিশের বিরুদ্ধে ‘হত্যার ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা’ নেয়ার অভিযোগ, এলাকায় বিক্ষোভ





কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
Tuesday, Sep 22, 2020, 5:49 pm
Update: 22.09.2020, 5:53:03 pm
 @palabadalnet

কিশোরগঞ্জ: করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর ইউনিয়নের কদিমমাইজহাটি গ্রামের যুবক রেদওয়ান আহম্মদ খান লিজনকে (২৮) হত্যার অভিযোগে এলাকায় মানববন্ধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার গুনধর বাজারের কিশোরগঞ্জ-মরিচখালি সড়কে এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে লিজনের পারিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ ইউনিয়নের সব শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেয়।

লিজন গুনধর-কদিমমাইজহাটি গ্রামের মরহুম আমিনুল ইসলাম খান ওরফে আমিন মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার নাবাবগঞ্জে একটি জুতার কারখানায় চাকরি করতেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে গুনধরের পার্শবর্তী জয়কা ইউনিয়নের পানাহার গ্রামের সামনে মাদলের ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে যায়। 

করিমগঞ্জ থানা পুলিশ শুক্রবার দুপুরে ব্রিজের নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।  

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, লিজনকে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ মরদেহের পাশ থেকে কয়েক জোড়া স্যান্ডেল, প্লাস্টিকের (কোল্ড ড্রিংসের) তিনটি বোতল ও একটি মোবাইল সেট পায়।  লাশ উদ্ধারের সময় তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। বুকের অনেকাংশ ও পেটের চামড়া কালো হয়ে রক্ত জমাটবাধা অবস্থায় ছিল। তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে থেতলানো দাগ পাওয়া যায়। গোপন অঙ্গে একাধিক দাগ ছিল। মানুষ সেগুলোর ভিডিও করে রেখেছে।  সেগুলোর অনেক কিছুই পুলিশ সুরতহাল রিপোর্টে লিখেছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, লিজনের লাশ উদ্ধারের সময় হত্যার একাধিক আলামত পাওয়া সত্ত্বেও করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম ‘রহস্যময় কারণে’ ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করছেন। 

মানববন্ধনে  লিজনের বড় ভাই  অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ আমাদের হত্যার এজাহার না নিয়ে এটিকে  বজ্রপাতের ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। তারা ঘটনাটিকে ‘অপমৃত্যুর’ মামলা নিয়েছে।  পুলিশের  কাছে আশ্রয় না পেয়ে তাই ভাই হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধনে নামতে বাধ্য হয়েছি।’    

মানববন্ধনে বক্তৃতায় লিজনের খালাতো বোন ইসরাত ফারাবি  বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে, প্রাথমিকভাবে পুলিশ সে অভিযোগ আমলে নেবে, এমনটাই নিয়ম হওয়ার কথা, পুলিশের কাছে সেটাই আশা করি আমরা। আমার খালামণির কোল যে বা যারা খালি করেছে আমরা চাই পুলিশ তাদের খুঁজে বের করুক।’ 

লিজনের মামাতো ভাই হাসানুল রেজা শরীফ বলেন, ‘রাতে ফোন করে নিয়ে লিজনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত লিজনের ফোন লিস্ট চেক করে এবং অন্যান্য আলামতের সুত্র ধরে পুলিশ ইচ্ছা করলেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারে।’  তিনি বলেন, ‘৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ এ ঘটনায় হত্যার মামলা না নিলে আমরা এলাকাবাসীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো। প্রয়োজনে আমরা মরবো।’

মানবন্ধনে নিহত পরিবারের মধ্য থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন, লিজনের বড় বোন মিশন খানম, চার খালা- মাকসুরা আক্তার লাকি, মাহমুদা আক্তার, রনি আক্তার, রিংকি আক্তার, মামা শাহীন ভূঞা, রায়হান ভূঞা, গুনধর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুনায়েত কবীরসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার পাঁচ শতাধিক লোক। 

মানববন্ধন শেষে গুনধর বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলও  হয়।   

এ ব্যাপারে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওরা যদি হত্যা মামলা করতে চায় করুক, মানববন্ধন করছে কেন? হত্যা মামলা করলে আমার তো এখানে লাভ লস নাই। তবে আমি কাকে ধরবো, কাকে অহেতুক হয়রানি করবো আমি? ওরা তো কারো নাম দিতে পারছে না। আমার কাছে বিষয়টি বজ্রপাতের ঘটনা মনে হয়েছে তাই অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।  ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি অন্য কোনো আঘাতজনিত কারণ বা হত্যার আলামত আসে তখন অপমৃত্যুর মামলাই হত্যা মামলায় রুপান্তর হবে। এ নিয়ে তো অস্থির হওয়ার কিছু নেই।’ 
      
পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]