দক্ষিণ এশিয়া
ফের ট্রাম্পের মুখে কাশ্মির
ফের ট্রাম্পের মুখে কাশ্মির





ডিডব্লিউ
Thursday, Jan 23, 2020, 12:19 am
Update: 23.01.2020, 12:21:09 am
 @palabadalnet

দাভোস: তার আসন্ন ভারত সফরের আগে আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পাশে নিয়ে কাশ্মিরে মধ্যস্থতা করার কথা বললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়ে চতুর্থবার৷

আবার কাশ্মিরে মধ্যস্থতার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প৷ আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পাশে নিয়ে কাশ্মির সম্পর্কে তার এই মনোভাবের কথা জানালেন তিনি৷ এর আগে নিজের দেশে ইমরানের সঙ্গে আলোচনার পর এই ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন৷ এ বার জানালেন দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের বৈঠকের ফাঁকে৷  গত তিনবারই ভারতের তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কাশ্মির নিয়ে তৃতীয় কোনও দেশের মধ্য়স্থতার প্রশ্নই আসে না৷ কাশ্মির ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ৷ সমস্যা দ্বিপাক্ষিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হবে৷ প্রশ্ন হল, তারপরেও ট্রাম্প কেন আবার কাশ্মির প্রসঙ্গ তুললেন?

ট্রাম্প দাভোসে বলেছেন, ''আমরা কাশ্মির নিয়ে এবং ভারত ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি৷ আমরা যদি কাশ্মিরে সাহায্য করতে পারি, তাহলে অবশ্যই তা করতে চাই৷ আমরা পরিস্থিতির ওপর ভালোভাবে নজর রাখছি৷'' 

দাভোসে গিয়েও কাশ্মির প্রসঙ্গ কেন টেনে আনতে হচ্ছে ট্রাম্পকে? দেশে-বিদেশে যখনই ইমরানের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, তখনই কাশ্মিরে মধ্যস্থতার কথা কেন বলছেন ট্রাম্প? বিজেপি সাংসদ এবং পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য স্বপন দাশগুপ্তের কাছে উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার৷ তিনি জানিয়েছেন, “ভারত প্রতিবারই পরিষ্কার করে দিয়েছে, কাশ্মির আমাদের অঙ্গ, তা নিয়ে তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতার প্রশ্নই আসে না৷ তারপরেও ট্রাম্পকে এই কথা বলতে হচ্ছে কারণ, গত কয়েক বছরে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক খুবই খারাপ হয়েছে৷ কিন্তু আফগানিস্তান নিয়ে পাকিস্তানকেও ট্রাম্পের দরকার৷ তাই তিনি পাকিস্তানকে নরমে-গরমে রাখতে চান৷ ভারতের অনড় অবস্থানের পরেও কাশ্মির প্রসঙ্গ বারবার টেনে আনা, মধ্যস্থতার কথা বলা সেই নরম কৌশলের অঙ্গ৷ এর ফলে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক বা বাণিজ্য লেনদেনে কোনো প্রভাব পড়বে না৷”  

গতবছরের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারতের নরেন্দ্র মোদির সরকার৷ এরপর বিক্ষোভ প্রতিরোধের নামে ওই এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়৷ এখনও তা অব্যাহত আছে৷ ফলে ১৬২ দিন ধরে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না কাশ্মিরিরা৷ কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের শাসনামলে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ ঘটনা৷

ইমরানও দাভোসে বলেছেন, “বেশ কিছু বিষয় আছে যা নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই৷ যেমন, আফগানিস্তান৷ সৌভাগ্যের বিষয়, অন্তত আফগানিস্তান নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের কোনো মতভেদ নেই৷ অন্তত এখানে আমেরিকা হস্তক্ষেপ করুক৷ বড় ভূমিকা নিক৷ ওরাই একমাত্র এই সমস্যার সমাধান করতে পারে৷” পাক প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে মনে হচ্ছে, আফগান সমস্যা সমাধানের বিষয়কেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি৷ 

প্রবীণ সাংবাদিক আশিস গুপ্তও মনে করেন, ট্রাম্প জানেন কাশ্মির নিয়ে ভারত তার অবস্থান বদল করবে না৷  তিনি বলেছেন, ''এই অবস্থান জেনেও কাশ্মির প্রসঙ্গ তোলার অর্থ, পাকিস্তানকে খুশি করার একটা ভাব দেখানো৷ ট্রাম্পের কাছে ভারত এখন অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে৷ আসন্ন সফরে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হবে৷  সেখানে দুই দেশের বাণিজ্য নিয়ে যে সমস্যা ছিল তা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ সব থেকে বড় কথা, কাশ্মির পরিস্থিতি, ডেমোক্র্যাটদের ভারত নিয়ে কড়া অবস্থানের পরেও তিনি দিল্লি আসছেন৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথমবার৷ তার মানে তো কাশ্মির নিয়ে ভারত যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা মেনে নিয়েই তিনি আসছেন৷'' 

ট্রাম্প কবে ভারত আসবেন সেই তারিখ এখনো সরকারিভাবে জানানো হয়নি৷ তবে সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে তিনি আসতে পারেন৷ ২৪ ও ২৫ তারিখ তার ভারত সফরের সম্বাবনা আছে৷ তিনি দিল্লি ছাড়া গুজরাটেও যেতে পারেন৷ তবে সফরের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি, অনেক আলোচনার পর যা নিয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ৷  
 
পালাবদল/এসএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]