রোববার ১৯ জানুয়ারি ২০২০ ৬ মাঘ ১৪২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
নারীদের জন্য বিপজ্জনক দেশ ভারত
নারীদের জন্য বিপজ্জনক দেশ ভারত





পালাবদল ডেস্ক
Saturday, Dec 7, 2019, 4:25 pm
Update: 07.12.2019, 4:26:30 pm
 @palabadalnet

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আরএসএস-বিজেপি’র কেন্দ্রীয় সরকার মনুবাদী হিন্দুত্বের দিকে যত দ্রুত এগিয়ে চলেছে ততই ভারত মহিলাদের পক্ষে বিপজ্জনক দেশ হয়ে উঠছে। নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ শুধু সংখ্যায় বাড়ছে না, অপরাধের চরিত্র ক্রমশ নৃশংসতা ও বর্বরতায় অতীতের অসভ্য-বর্বর সমাজকেও অতিক্রম করে যাচ্ছে। 

অথচ আশ্চর্যরকম নীরব ও নিস্পৃহ রয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি। শাসক নেতৃত্ব ও সরকারি কর্তাদের মনোভাব থেকে স্পষ্ট, এক্ষেত্রে তাদের যেন কোনও দায়দায়িত্ব বা ভূমিকা নেই। নারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, খুন ইত্যাদি অপরাধগুলি যেন আর পাঁচটা অপরাধের মতোই স্বাভাবিক। তাই এমন ভয়ঙ্কর অপরাধ একটার পর একটা ঘটে গেলেও পুলিশ-প্রশাসন-বিচার ব্যবস্থার মধ্যে কোনোরকম বাড়তি উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা দেখা যায় না। ফলত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার ক্ষেত্রে তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না।

ভারতজুড়ে সুস্থ চেতনার সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান হারে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শাসন কর্তাদের স্মরণ করিয়ে দিলেও তাদের মানবিক বা সামাজিক চেতনায় দোলা লাগছে না। তার বদলে অভিযুক্তদের গুলি করে হত্যা করে বাহবা আদায়ের চমক দেওয়া হচ্ছে। হা‌য়দরাবাদে চিকিৎসক তরুণীকে রাস্তার পাশে ধর্ষণ করে চারজন মিলে। ধর্ষণের পর তরুণীকে খুন করে তারা। এরপর মৃতদেহ ট্রাকে টেনে তুলে ফের ধর্ষণ করে তারা। তারপর দেহে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে পোড়া দেহ ফেলে দেয়। 

স্মরণ করা যেতে পারে কিছুকাল আগে এক হিন্দুত্ববাদী নেতা মৃত মুসলিম মেয়েদের কবর থেকে তুলে ধর্ষণ করতে বলেছিল হিন্দু যুবকদের। বিহারের বক্সারে ধর্ষকরা এক কিশোরীকে প্রথমে ধর্ষণ করে তারপর গুলি করে হত্যা করে। অতপর তাকে আগুনে পুড়িয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। পশ্চিমবঙ্গের মালদহে ঘটেছে অনুরূপ ঘটনা। এক যুবতীকে দলবদ্ধভবে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারে ধর্ষক-খুনিরা। 

এরই মধ্যে উত্তর প্রদেশের উন্নাও’র সেই ধর্ষণের বীভৎসতা আরও বীভৎসতা নিয়ে ফিরে এসেছে। গত বছর ১২ ডিসেম্বর থেকে এ বছর ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত একক ও দলবদ্ধভাবে বার বার ধর্ষিতা হয়‍‌ এক যুবতী। বছর গড়ালেও এখনো সাজা হয়নি ধর্ষকদের। উল্টো জামিন পেয়ে যায় তারা। জামিনে থাকা অবস্থায় প্রমাণ লোপাটে জামিনে থাকা ধর্ষকরাই সেই যুবতীর গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। ৯০ শতাংশ পোড়া নিয়ে যুবতী এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত হেরে যায়। 

একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। কি কেন্দ্র কি রাজ্য কোথাও কোনো তাপ উত্তাপ নেই। পুলিশ কি তদন্ত করছে আদালতেই বা কি বিচার হচ্ছে মানুষের বোধগম্য হচ্ছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত বিচার দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পুলিশ নাকি সাক্ষ্য প্রমাণ জোগাড় করতে পারছে না। ফলে পুলিশের সদিচ্ছা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যত সময় নষ্ট হয় সাক্ষ্য প্রমাণ লোপাটের সু‍‌যোগ বা‍‌ড়ে। অপরাধীরাও সুযোগ পায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতাদের ধরে ছাড় পাবার রাস্তা বার করতে। ফলে অপরাধীরা হয় ছাড়া পেয়ে যায় অথবা মৃদু সাজা পায়। 

এই বাস্তবতা ধর্ষণের প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ ধর্ষণের মানসিকতায় ভীতির প্রতিবন্ধকতা কমে যাচ্ছে। ধর্ষকরা আরও সাহসী, উৎসাহী ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আর এই প্রবণতা বাড়ছে যখন হিন্দুত্ববাদী শাসকদের মতাদর্শ নারীদের সামাজিক ও মানবিক অধিকারকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। আরএসএস-বিজেপি’র মনুবাদী হিন্দুত্ব নারীদের পুরুষভোগ্য হিসাবে গণ্য করে। মহিলার কাজ সন্তান উৎপাদন, লালন-পালন, সংসার দেখভাল, পুরুষের সেবাযত্ন ও দৈহিক ও মানসিক তৃপ্তি দেওয়া।

সূত্র: কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক গণশক্তির সম্পাদকীয়

পালাবদল/এসএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]