শনিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
মতামত
বাস্তবতা যাচাই করা উচিত চীনের
বাস্তবতা যাচাই করা উচিত চীনের





আফসান চৌধুরী
Wednesday, Nov 27, 2019, 10:50 pm
 @palabadalnet

চীনকে নিয়ে চলতি সপ্তাহে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বেইজিং ও বিশ্ব শক্তির উচিত হবে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাস্তবতাটি যাচাই করা।

এক সময় বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ছিলো। মনে হচ্ছিল চীনও একই পথে চলেছে। কিন্তু চীন এখন এমন এক ভবিষ্যতের মুখোমুখি যা অনেক বেশি জটিল ও বহু-মেরুর। যুক্তরাষ্ট্রকে তার প্রভাব বিস্তারের প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।
 
এটা কোনো মনোলিথিক বিশ্ব নয়। তাই পরাশক্তিগুলোকে বাস্তবতা মেনে নিয়ে কাজ করতে হবে। এমনকি বৈশ্বিক আধিপত্যও স্থায়ী বা সর্বোচ্চ নয়।

চীনের কট্টর মডেল ও হংকং ধাঁধা

বিশ্বের সবগুলোর দেশের মধ্যে চীনের নাটকীয় উত্থানের কারণ পুঁজিবাদ-বিরোধী কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত একটি দেশে বাজার অর্থনীতিকে দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করা। এক্ষেত্রে মার্ক্সবাদী তত্ত্বকেও আমলে নেয়া হয়নি। অগে যেকোন দেশের চেয়ে অনেক বেশি কট্টর ছিলো চীন। এখন তারা একটি দেশের অর্থনীতি পরিচালনার জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অংশীদারিত্বের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। চীন এটা করার আগ পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে মুক্ত বাজার চর্চা চিন্তা করা যায়নি। কিন্তু সেটা যে করা যায় তারা তা দেখিয়েছে।

স্পষ্টতই চীনের পরবর্তী পদক্ষেপ ছিলো বড় বাজারের জন্য বাইরে দৃষ্টি দেয়া। সেই লক্ষ্য হাসিলের জন্যেই শি জিনপিংয়ের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)। এর বাস্তবায়নের কাজ এখন চলছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে তার প্রতিযোগিতা করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি চীনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার চেয়ে ভিন্ন এবং অনেক বেশি জটিল।

এই বাস্তবতার সর্বশেষ উদাহরণ হলো হংকং। ভূখণ্ডটির অবস্থান এমন যে, এটি পুরোপুরি আলাদা এক রাজ্য, আবার চীনেরও একটি অংশ। এটা এক বিশেষ এলাকা যা বিশেষ মর্যাদা ভোগ করে।

দীর্ঘদিন ব্রিটেনের কলোনি ছিলো হংকং। শেষ পর্যন্ত এটি চীনের হাতে ছেড়ে দেয়া হয় ‘দুই-রাষ্ট্র’ মডেলের ভিত্তিতে। হংকংয়ের উপর চীন যে বহি:সমর্পন চুক্তি চাপিয়ে দিতে চাইছে তার প্রবল বিরোধিতা করছে হংকংবাসী। চীন শক্তি প্রয়োগ করছে, কিন্তু আজকের বিশ্বে তারও সীমা আছে।

মনে হচ্ছে হংকংকে নিজের অন্যান্য এলাকার মতোই ভেবেছিলো চীন। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল বলে দিচ্ছে এই দ্বীপবাসীর মনোভাব বুঝতে আগাগোড়াই ভুল করেছে চীনের মূল ভূখণ্ড। বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকা চীনের ‘মূল ভূখণ্ড-বিরোধী’ গ্রুপটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছে, যা এখানে চীনের দুর্বল অবস্থাটি প্রকাশ করে দিয়েছে।

শক্তি দিয়ে বিক্ষোভ দমন

চীন এমন আকস্মিক প্রত্যাখ্যান আশা করেনি। চীনে এ ধরনের বিক্ষোভ ভাবা যায়না। চীনা শাসকদের তিয়ানানমের স্কয়ারের বিক্ষোভ দেখতে হয়েছে, যা শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করা হয়েছে। তাও ছিলো প্রায় তিন দশক আগে এবং ডিজিটাল যুগ তখন আসেনি। তখন থেকে পৃথিবী অনেক বদলে গেছে। হংকংয়ের বিক্ষোভ থামাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে চীন। কিন্তু তার এ কাজের প্রতি বিশ্বের দৃষ্টি অনেক বেশি তীক্ষ্ণ।

চীনে যা কাজ করবে তা অন্য জায়গায় কাজ নাও করতে পারে। এ ব্যাপারে কঠিন শিক্ষা পেয়েছে বেইজিং। কথিত বহু-দলীয় বিশ্বের ক্ষেত্রে এটা বিশেষভাবে সত্য। আর এগুলো হলো সেসব দেশ যেখানে চীন তার বহুকোটি ডলারের বিআরআই ধারণাটি বিক্রি করতে চাইছে।

সমাজতন্ত্র-উত্তর বিশ্ব

চীন কোন গতানুগতিক ধরনের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রের মৃত্যু ও অন্যান্য জায়গায় সমাজতন্ত্রের ক্ষয় শুরু হওয়ার পর বিশ্বও অনেক বদলে গেছে। বিশ্বের সঙ্গে চীনের লেনদেন উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে। তাই সমাজতন্ত্র-উত্তর বিশ্বকে আরো গভীরভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন।

চীন যখন পশ্চিমের মনোপলি ভাঙ্গার চেষ্টা করছে তখনই এসব ঘটনা ঘটছে। এর ফল হলো সামরিক শক্তির বদলে অর্থনীতিতে প্রবেশের মাধ্যমে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা। এ থেকে লাভবান হচ্ছে দুর্বল দেশগুলো। এমনকি পশ্চিমা শক্তিধর দেশগুলোও নিজেদের ইচ্ছা আগের মতো আর চাপিয়ে দিতে পারছে না।

আগের মার্কিন-রাশিয়া মডেলের সঙ্গে বর্তমান মার্কিন-চীন সংঘাতের মডেলটির পার্থক্যটি হলো স্নায়ুযুদ্ধকালীন সংঘাত দৃঢ়ভাবে ছিলো সামরিক শক্তিকেন্দ্রিক, আর বর্তমান মডেলটি অর্থনীতিভিত্তিক। দ্বিতীয়টি অনেক বেশি টেকসই হবে। তাই সংঘাতের ভাষা হতে হবে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন; বর্বর শক্তি ও সামরিক ক্ষমতা হলে চলবে না।

পুরনো স্নায়ুযুদ্ধকালীন সংঘাত মডেলের মতো বিশ্বও বদলে গেছে। বেশিরভাগ দেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম ও ক্ষমতাধর। এর মানে হলো বিকল্পের সঙ্গে লেনদেন করার সামর্থ্যও বেশি। এর আরেকটি মানে হলো এখনকার মানসিকতা হচ্ছে এক দলীয় শাসন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ আর গ্রহণযোগ্য নয়। তাই চীনের সঙ্গে লেনদেন করার জন্য বিশ্বকে যেমন শিখতে হবে, তেমনি চীনকেও নতুন বিশ্বের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত তা শেখা উচিত।

চীনের উচিত হবে পিছিয়ে গিয়ে শান্ত মনে চিন্তা করা। তাকে মানতে হবে যে তার আরো ভালোভাবে জানা প্রয়োজন কিভাবে বিশ্ব প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে এবং সে কি ভাবছে।

প্রতিবাদের দীর্ঘকালীন ঐহিত্যটি স্বীকার করে নেয়াও চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সব ধরনের অত্যাচার-নিপীড়ন প্রতিরোধে নামে যেসব জনগণ, তারা একদলীয় রাষ্ট্রের জনগণের চেয়ে ভিন্নভাবে আচরণ করে। জনগণের পারস্পরিক সম্মান কামনার বিষয়টি জানার মানে হলো আন্ত:ক্রিয়া, অর্থনীতি বা অন্যান্য বিষয়ে নতুন পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়াতে সাফল্য দেখার জন্যও এটা একটি পূর্বশর্ত। চীনকে এটা মনে রাখতে হবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় গ্রহণযোগ্যতা

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলেও চীনকে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করতে হবে। এখানে চীনের উপস্থিতি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক অর্থনীতির মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। দেশটি কৌশলগত ও অন্যান্য পরিমণ্ডলেও একইভাবে সম্পৃক্ত।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, বাংলাদেশে চীনের অর্থনৈতিক উপস্থিতি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য ইস্যুতে পছন্দ বেছে নিতে ঢাকার সামর্থ্য অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। চীন এই অঞ্চলে একটি ভারসাম্য সৃষ্টিকারী শক্তি। ভারতের মুষ্টি শিথিল করে দিচ্ছে বেইজং। ত্রিপাক্ষিকতা এখন বাস্তবতা, দ্বিপাক্ষিকতা নয়।

রাজনৈতিকভাবে খুবই উচ্চাভিলাষী একটি অঞ্চল এই দক্ষিণ এশিয়া, যা দ্রুত উন্নতি করছে। এখানকার শত শত কোটি মানুষ সামাজিক-রাজনৈতিক ফল লাভের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে। তাই অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক জায়গাটি সম্প্রসারণের প্রত্যাশাও স্বাভাবিক। সব দেশের ক্ষেত্রে এটা সত্য। সেখানকার রাষ্ট্রীয় অবস্থা বর্তমানে যাই থাক না কেন।
 
রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশে এখন আগের চেয়ে উদ্বেগ কিছুটা বেশি। বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা যেকোনো ভাবেই হোক না কেন রোহিঙ্গাদের বিদায় চায়। বিষয়টি আরো চাঙ্গা হয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে বলে আইসিসি ঘোষণা দেয়ার পর।

মিয়ানমারের কাছ থেকে শক্ত প্রতিবাদ আসবে বলে আগেই ধারণা করা গিয়েছিলো। কোন শক্তিশালী আন্তর্জাতিক শক্তি যুক্ত না থাকলে এ ধরনের তৎপরতা তেমন বেশি কাজ করে না। বাংলাদেশ বা মিয়ানমার এমন কোন দেশ নয় এবং দুটি দেশকে কেউই এ ব্যাপারে সমর্থন দান বা বিরোধিতা করছে না। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা বিপর্যয় দেখা দেয়ার পর চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ হয়। ফলে তারা মিয়ানমারের পক্ষে বা বিপক্ষে কোন অবস্থান নেবে না। ফলে ইস্যুটি একই রকম অচলাবস্থার মধ্যে থাকলেও সম্ভবত আরো বেশি মনযোগ কাড়বে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ রীতিমত কুস্তি করছে কিন্তু এর সবচেয়ে ভালো সমাধানটি খুঁজে পাচ্ছে না। বাংলাদেশ ঘোষণা করেছে যে রোহিঙ্গাদেরকে একটি উপকূলীয় দ্বীপে সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে তার বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে এর বিরোধিতা রয়েছে। এদিকে মানবপাচার সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে এবং বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ থেকে পালানোর চেষ্টাকালে বিমানবন্দর বা অন্যান্য নির্গমণপথে রোহিঙ্গাদের ধরা পড়ার খবর  প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এরই প্রেক্ষাপটে আইসিসি’র তদন্তের বিষয়টি সামনে এসেছে।

আইসিসি ও আইসিজে’র উদ্যোগ

মিয়ানমার বারবার দাবি করে আসছে যে আরসাকে মোকাবেলার জন্য নিরাপত্তার প্রশ্নে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এই দমন অভিযান জরুরি ছিলো। রাখাইনে তদন্ত চালানোর ব্যাপারে আইসিসি’র বিবৃতির জবাবে তারা বলেছে যে এ ব্যাপারে আইসিসি’র এখতিয়ার তারা স্বীকার করে না।

কিন্তু গত বছর আইসিসি’র রায়ে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত করার আইনি এখতিয়ার তাদের রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ এর সদস্য এবং সেখানে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে।

এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সম্প্রতি, আফ্রিকার একটি ছোট্ট দেশ গাম্বিয়া যখন জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত – ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মামলা করে। ৫৭-জাতি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)’র পক্ষে দেশটি এ কাজ করে। তারা মিয়ানমারকে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে এবং ডিসেম্বরের শুরুর দিকে এ ব্যাপারে শুনানি শুরু হতে পারে। আইসিজে সাধারণভাবে আইসিসি’র চেয়ে অনেক বেশি আইনি বিষয়ে কাজ করে।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের এই মনযোগের কারণে মিয়ানমার মোটেই খুশি হবে না। তবে বাংলাদেশ আশা করতে পারে যে বিশ্ব এবার আরো বেশি করে ইস্যুটির প্রতি মনযোগ দেবে। এবং আশা করবে যেন এই বিপত্তি থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারে।

মিয়ানমারে মুখপাত্র জাও তায়ে বলছেন যে, কোন ধরনের অপরাধ হয়ে থাকলে তার তদন্ত করবে মিয়ানমারের নিজস্ব কমিটি এবং প্রয়োজন হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

জাও তায়ে বলেন, গণহত্যা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী মিয়ানমার ‘আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা’ অনুযায়ী সাড়া দেবে।

বর্তমান সময়টি অং সান সু চি’র জন্য আর আগের মতো সুখকর নয়। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য আর্জেন্টিনায় যে মামলা হয়েছে সেখানে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার নামও রয়েছে। গণহত্যা নিয়ে তার বিরুদ্ধে এটাই প্রথম মামলা। রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে সেনা প্রধান মিন অং লাইং ও বেসামরিক নেতা সু চি এখন বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।

আইসিসি’র অবস্থান

ঢাকায় আইসিসি’র ডেপুটি প্রসিকিউটর জেমস স্টুয়ার্ট জানান যে তিনি আইসিসি প্রসিকিউটর ফাতু বেনসুদার নির্দেশ অনুযায়ী মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগণের বিরুদ্ধে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার তদন্ত করছেন।

তিনি বলেন, ২০০২ সালের ১ জুলাইয়ের পর যেসব যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করার জন্য আইসিসি প্রতিষ্ঠা করা হয়। আদালত হিসেবে আমরা শেষ আশ্রয়স্থল। যেখানে এ ধরনের অপরাধের তদন্ত করা হচ্ছে না এবং জাতীয় কর্তৃপক্ষ নিপীড়ন চালিয়ে থাকে সেখানে আমরা কাজ করি।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো অবিচার ও আগ্রাসন সংঘটিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ঠ কারণ রয়েছে – এমনটা মনে করার পর প্রসিকিউটর বেনসুদা আইসিসি’র বিচারকরদের অনুরোধ করেন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ প্রদানের জন্য।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ-চীনের অবস্থান

আইসিসি যদি মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করেও অবস্থার তেমন কোন হেরফের হবে না। কারণ এটি এমন কোন আন্তর্জাতিক সংকট নয় যে আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য পরাশক্তিগুলো গরজ অনুভব করবে। এটা একটি মানবিক ইস্যু এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে দেখা যায় যে কোন কিছু বৈশ্বিক বা চরমপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হলে বিশ্ব দূরে দাঁড়িয়ে দেখাতে থাকার নীতিই গ্রহণ করে।

আন্তর্জাতিক আদালতগুলোর কার্যকারিতাও সুনির্দিষ্ট। তাই এটা মিয়ানমারকে তেমন কোন ধাক্কা দেবে না।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে মিয়ানমার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে লাভবান হবে চীন। মঞ্চে হাজির হবে বেইজিং এবং মিয়ানমাকে কাছে টেনে নেবে।

একসময় পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করতেন যে চীনকে মুঠোয় পুরতে পেরেছে ইয়াঙ্গুন। এর উল্টাটাও সত্যি। বাংলাদেশেও প্রধান বিনিয়োগকারীতে পরিণত হয়েছে চীন। বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হলেও এখানে টাকা কথা বলে। যেকোন দেশের চেয়ে টাকার শক্তি বেশি চীনের। ফলে মিয়ানমারকে সমর্থন দেয়ার মূল্য যে খুব বেশি নয় সেটা চীন মানবে বলে বাংলাদেশ আশা করবে।

হংকং নীতির প্রতিও তাকাতে পারে চীন এবং কিছুটা নমনীয় ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। আর বর্তমান বিশ্বে বড় দেশগুলোর কাছে না হলেও ছোট দেশগুলোর কাছে ভাবমূর্তি অনেক বড় বিবেচনার বিষয়।

এ অবস্থায়, রোহিঙ্গারা এমন একটি ভূখণ্ডে দীর্ঘকাল অবস্থানের আশা করতে পারে যাকে তারা নিজের দেশ বলতে পারছে না। আবার তারা এমন একটি দেশ থেকে দূরে রয়েছে যে দেশটি তাদেরকে নিজের বলে স্বীকার করে না।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

আফসান চৌধুরী: বিশিষ্ট সাংবাদিক


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]