সোমবার ১৮ নভেম্বর ২০১৯ ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
প্রতিরক্ষা
বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা আমেরিকার
বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা আমেরিকার





পালাবদল ডেস্ক
Thursday, Nov 7, 2019, 4:08 pm
 @palabadalnet

 ঢাকায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের (বাঁয়ে) সঙ্গে কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের এ্যাক্টিং এসিসট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট এলিস ওয়েলস (ডানে)

ঢাকায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের (বাঁয়ে) সঙ্গে কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের এ্যাক্টিং এসিসট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট এলিস ওয়েলস (ডানে)

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে একটা সম্প্রসারিত সামরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে, যে নিরাপত্তা পদক্ষেপটি ঢাকাকে নৌ ও সীমান্ত নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সহকারী অ্যালিস ওয়েলস মঙ্গলবার এ কথা বলেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর নতুন এই বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং এতে শ্রীলংকা, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপকে সামরিক সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে তাদের নৌ ও সীমান্ত নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সাথে বৈঠকের পর ওয়েলস সাংবাদিকদের বলেন, “বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভের অধীনে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি”।

ওয়েলস বলেন, “আমাদের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং মানবিক সহায়তা ও বিপর্যয় মোকাবেলায় এবং নৌসীমানায় সচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমরা একসাথে কাজ করেছি”। মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে ঢাকা আসেন ওয়েলস। এই সফরে বৃহস্পতিবার তার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনেরও কথা রয়েছে।

ঢাকা সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, চীনের প্রযুক্তিগত ও প্রশিক্ষণ সহায়তা নিয়ে তারা দেশের প্রথশ সাবমেরিন ঘাঁটি তৈরি করবে। এই ঘোষণার পরপরই ওয়াশিংটন এই প্রস্তাব দিলো ঢাকাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র বিষয়ক পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফারুক খান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জঙ্গি বিমান, মিসাইল সিস্টেম ও কমব্যাট হেলিকপ্টার কেনার জন্য দর কষাকষি করছে।

খান গত মাসে বেনারনিউজকে বলেন, “অ্যাটাক হেলিকপ্টার, জঙ্গি বিমান ও মিসাইল কেনার বিষয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দর কষাকষি করছি”।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বেনারনিউজকে বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ওয়াশিংটনের দ্বারস্থ হচ্ছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সামরিক সরঞ্জামের জন্য বাংলাদেশ মূলত চীনের উপর নির্ভর করে এসেছে।

আশির দশক থেকে বাংলাদেশের ১৫৭,০০০ সদস্যের সামরিক বাহিনী চীন, পুরনো অস্ত্র সরবরাহকারী রাশিয়া, ব্রিটেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জামাদি কিনে এসেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রশিদ বেনারনিউজকে বলেন, “এই কর্মসূচির অধীনে সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটা আমাদের জন্য একটা সুযোগ। আমাদের এটাকে লুফে নিতে হবে”।

রশিদ উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত বঙ্গোপসাগরে আধিপত্য অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতা করছে।

তিনি বলেন, “তিন দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিযোগিতার কারণে শক্তিধর এই দেশগুলো বাংলাদেশকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে”।

রশিদ বলেন, সামরিক অস্ত্রাদির জন্য বাংলাদেশ চীনের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

বেইজিং ঢাকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চীন বাংলাদেশকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিয়েছে। বাংলাদেশের মোট আমদানিকৃত অস্ত্রের মধ্যে এটা ৭১.৮ শতাংশ। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এ তথ্য জানিয়েছে।

ঢাকা বেইজিংয়ের কাছ থেকে ২০৫ মিলিয়ন ডলারে যে দুটো সাবমেরিন কিনেছে, সে দুটোকে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ যে সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে, সেটির কাজ শেষ হলে সাবমেরিন দুটোকে সেখানে রাখা হবে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বেনারনিউজকে জানিয়েছেন। সূত্র: বেনারনিউজ

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]