শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
মতামত
ভারতের জন্য আফগানিস্তান এখন শাঁখের করাত
ভারতের জন্য আফগানিস্তান এখন শাঁখের করাত





মাইকেল কুগেলম্যান
Wednesday, Oct 30, 2019, 5:50 pm
 @palabadalnet

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে তালেবানদের সাথে আলোচনা বাতিল করার পর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরুর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে ২৮ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়নি এবং নতুন সরকার আসার আগেই এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সে কারণে প্রশাসনের মধ্যে তাড়াহুড়াও রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা যুদ্ধক্ষেত্রে তালেবানদের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। তালেবানদের উপর চাপ প্রয়োগ করা এবং তাদেরকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে বাধ্য করার জন্য এই চাপ বাড়ানো হচ্ছে, যাতে তারা আলোচনার শর্তে ছাড় দিতে (পড়ুন: অস্ত্রবিরতি) রাজি হয়, যেটার ব্যাপারে প্রথমে তারা রাজি ছিল না।
 
এদিকে, আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত জালমাই খালিলজাদ তার কূটনৈতিক তৎপরতাও আবার শুরু করেছেন। সম্প্রতি তিনি সমঝোতা নিয়ে ইইউ এবং ন্যাটো নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। ইসলামাবাদও সফর করেছেন তিনি, যেখানে তালেবান প্রতিনিধি দলের সাথে তাদের আলোচনা হয়েছে বলেও বলা হচ্ছে।

একই সাথে ট্রাম্প সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে তার আকাঙ্ক্ষার কথা বলেই যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিয়েছেন। ২০২০ সালের নির্বাচন এগিয়ে আসছে এবং ট্রাম্প তার ভোট ব্যাঙ্কের সামনে এটা বলতে চান যে, সেনাদের তিনি দেশে ফিরিয়ে আনছেন।

আফগানিস্তানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হলো তালেবানদের সাথে আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং একটা সেনা প্রত্যাহার চুক্তিতে পৌঁছা। তা না হলে ট্রাম্প হয়তো কোন চুক্তি বা অস্ত্রবিরতি ছাড়াই একতরফাভাবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে দিতে পারেন।

এটা সহজ হবে না। তড়িঘড়ি চুক্তিতে পৌঁছার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোন তাড়াহুড়া নেই তালেবানদের। সেনা প্রত্যাহারের আগে অস্ত্রবিরতিতে পৌঁছার ব্যাপারে তাদের রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ সহিংসতা জারি থাকায় আলোচনার টেবিলে সেটা দর কষাকষিতে কাজে লাগছে তাদের।

কঠিন পরিস্থিতি

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি ভারতকে একটা কঠিন পরিস্থিতিতে আর পাকিস্তানকে সুবিধাজনক জায়গায় ঠেলে দিয়েছে। যদি তালেবানদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা আবার শুরু হয়, তাহলে আফগানিস্তানে আবার সমঝোতার প্রচেষ্টা শুরু হবে, এবং সেটা সফল হলে এটা রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে যেখানে ক্ষমতা ভাগাভাগি করবে তালেবানরা। ভারতের জন্য এটা পছন্দনীয় সমাধান নয়। আলোচনা ব্যর্থ হলে যুদ্ধ আরও প্রবল হবে আফগানিস্তান আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে, ফলে সেখানে কাজ করাটা ভারতের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। অন্যদিকে, আলোচনা পুনরায় শুরু হলে এবং এর মাধ্যমে তালেবানরা রাজনৈতিক শক্তি পেলে সেটা পাকিস্তানের জন্যে খুবই ভালো হবে। আর আফগানিস্তানে যদি বিশৃঙ্খলা বজায় থাকে, তাহলেও পাকিস্তানের জন্য ভালো, কারণ এতে তালেবানরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং সম্ভবত শক্তি দিয়ে তারা ক্ষমতা কুক্ষীগত করবে।

কঠিন সিদ্ধান্ত

আগামী মাসগুলোতে নয়াদিল্লীকে হয়তো কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয় এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা না যায়, তাহলে ভারতকে ভাবতে হবে যে, কিভাবে তারা সেখানে তাদের স্বার্থকে রক্ষা করবে। আলোচনা যদি আবার শুরু হয়, তাহলে তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সেখানে তাদের ভূমিকা রাখা উচিত কি না, এবং সেটা কিভাবে হতে পারে। সবশেষে, যদি সমঝোতা প্রচেষ্টা হয় এবং সেটা তালেবানদের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগির দিকে যায়, তাহলে ভারতকে হিসাব কষে দেখতে হবে যে, তিক্ত প্রতিপক্ষের সাথে তারা বিনিময়ে যাবে কি না। এগুলো সবই কঠিন প্রশ্ন। কিন্তু আফগানিস্তানের নীতির প্রসঙ্গ আসলে, সেখানে সহজ বলে আসলে কিছু নেই।

সূত্র: দ্য হিন্দু

মাইকেল কুগেলম্যান: যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাংক উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ 

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]