জাতীয়
এলো ত্যাগের ঈদ
এলো ত্যাগের ঈদ





নিজস্ব প্রতিবেদক
Wednesday, Jul 21, 2021, 1:02 am
 @palabadalnet

ঈদের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। ফাইল ছবি

ঈদের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। ফাইল ছবি

ঢাকা: করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে, বিধি-নিষেধ তুলে দিয়ে আনন্দ উদযাপনের সুযোগ করে দিল সরকার; তাতে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা মাথায় নিয়ে আরেকটি ঈদ এলো বাংলাদেশে।

ঈদ আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও বুধবার ঈদুল আজহার দিন সেই খুশি আসবে না সবার ঘরে। অন্তত মঙ্গলবারও যে ২০০ জন কোভিড-১৯ রোগী মারা গেছে, তাদের পরিবারে। যারা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, তাদের পরিবারে।

এভাবে গত কিছু দিন ধরে প্রতিদিন দুই শতাধিক মৃত্যু আর ১১ হাজারের বেশি আক্রান্ত হওয়ায় ঈদের খুশিতে যেন স্বাস্থ্যবিধি না হারায়, সেই আহ্বানই আসছে বারবার। যদিও তা উপেক্ষিত দেখা গেছে ঈদের বাড়ি ফেরা এবং কুরবানির হাটের ভিড়ে।

ফলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করে মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে বিধি-নিষেধ থেকে মুক্তির সুযোগ যেভাবে মানুষ নিয়েছে, তাতে ঈদের পরে সংক্রমণ পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।

সরকার অবশ্য ঈদের দুদিন পর থেকে আবার কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। আর স্বাস্থ্যবিধি মানার মধ্য দিয়ে সেই লড়াইয়ে জেতার আশাবাদ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মহামারীর মধ্যে আগের তিনটি ঈদের মতো এই কোরবানির ঈদেও জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের পা পড়বে না। ঈদের নামাজ পড়তে হবে মসজিদে। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার কিংবা দিনাজপুরের গোর-ই শহীদ ময়দানেও এবার ঈদের জামাত হচ্ছে না।

লোভ, হিংসা ত্যাগ করে, নিজের ভেতরের পশুত্বকে কোরবানি করার ভেতর দিয়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করাই এই ঈদের মূল তাৎপর্য। হজরত ইব্রাহিম (আ.) যেমন করে মহান আল্লাহর নির্দেশে তার সন্তুষ্টি লাভের জন্য পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন, সেই ত্যাগকে স্মরণ করে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে পশু কোরবানি করবে।

ঈদের দিন মহান আল্লাহ তার বান্দাদের দোয়া কবুল করে থাকেন। মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করে নিজের, পরিবারের, দেশ-জাতির কল্যাণের পাশাপাশি, করোনা মহামারি থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করবেন।

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাতেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি ও হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

করোনা মহামারির মধ্যে এবার নিয়ে চতুর্থ ঈদ উদযাপিত হতে যাচ্ছে। তা ছাড়া এই সময়ে দেশে করোনা সংক্রমণও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ঈদের চিরাচরিত উৎসব উদযাপন হবে না। 

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগে থেকেই ঈদুল আজহার দিনটি নির্ধারিত থাকে। ঈদুল আজহা আমাদের দেশে সাধারণত ‘কুরবানির ঈদ’ নামেই পরিচিত। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে মহান আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে এই ঈদ উদ্‌যাপিত হবে। তবে ঈদের পরের দুই দিন, অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও কোরবানি করার বিধান রয়েছে।

করোনা সংক্রমণের কারণে এবারও গতবারের মতো সীমিতসংখ্যক হজযাত্রী নিয়ে পবিত্র হজ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে ঈদ উদ্‌যাপিত হয়েছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করে এবং কোরবানির বর্জ্য যথাস্থানে ফেলে পরিবেশদূষণ বন্ধে সবাই সচেষ্ট থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]