সাইটেক
কিভাবে তথ্য ফাঁস করে পেগাসাস
কিভাবে তথ্য ফাঁস করে পেগাসাস





এনডিটিভি
Monday, Jul 19, 2021, 5:11 am
 @palabadalnet

ইসরাইলভিত্তিক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘এনএসও গ্রুপ’ আলোচিত স্পাইওয়্যার ‘পেগাসাস’-এর উদ্ভাবক। ধারণা করা হয়, ২০১৬ সাল থেকে ‘পেগাসাস’  কখনো ‘কিউ সুইট’ কখনো বা ‘ট্রাইডেন্ট’ নামে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে অত্যাধুনিক স্পাইওয়্যার সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে পেগাসাসকে সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হয়। এটি সহজেই আইওএস, অ্যাপল ও অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট ফোনে অনুপ্রবেশ করতে পারে। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার বৈধ লাইসেন্সের মাধ্যমে ‘পেগাসাস’ ব্যবহার করছে। ২০১৯ সাল থেকে সীমিত পরিসরে এই হ্যাকিং প্রযুক্তি বিক্রি শুরু করে। প্রাথমিক অবস্থায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোই ছিল এর প্রধান ক্রেতা। সফটওয়্যারটির উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান ‘এনএসও গ্রুপ’-এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অনুসন্ধান ও বৈশ্বিক অপরাধ প্রতিরোধের মাধ্যমে হাজারো মানুষকে রক্ষায় সরকারি সংস্থাকে সহায়তার করে তারা।

এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির মানবাধিকার বিষয়ক নীতিতে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী কিছু বাধ্যবাধকতা মেনে চলে তারা। এর মধ্যে রয়েছে আলোচিত সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধ তদন্ত এবং প্রতিরোধ করা। নিজেদের পণ্যের মাধ্যমে যেন মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা সতর্ক বলেও উল্লেখ করা হয়।

পেগাসাসের বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১৯ সালের শেষ দিকে ফেসবুকের মালিকানাধীন মেসেজিং সার্ভিস হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, ওই বছরের মে মাসে বিশ্বের ২০টি দেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীকে ‘পেগাসাস’ টার্গেট করে। এর মধ্যে বেশ কিছু ভারতীয় সাংবাদিকও রয়েছে বলে জানায় তারা।

তথ্য ফাঁসের জন্য প্রথমে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অন্য একটি হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে ভিডিও কল দেয়। যখন কোনো সন্দেহহীন ব্যবহারকারীর ফোন বেজে ওঠে, তখন ওই নম্বরে একটি ক্ষতিকর কোড চলে গিয়ে স্পাইওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়ে যায়। কেউ ফোন রিসিভ না করলেও সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়ে যেতে পারে।

এরপর আক্রমণকারী ফোনের পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এটা এতটাই ভয়ংকর যে, একবার স্পাইওয়্যারটি ইনস্টল হয়ে গেলে সহজেই যে কারওর হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজিং ও কথা বলা, ভয়েস কল, পাসওয়ার্ড, কন্টাক্ট তালিকা, বিভিন্ন ইভেন্টের ক্যালেন্ডার, ফোনের মাইক্রোফোন এমনকি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ ও তাদের হাতে চলে যায়।

এত কিছুর পরেও ‘এনএসও গ্রুপ’ সফটওয়্যারটির মাধ্যমে কাউকে ক্ষতি করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। উল্টো দাবি করছে, তারা বৈধ ও পরীক্ষিতভাবে সরকারি সংস্থাগুলোতে সহায়তা করার জন্য তাদের কাছে সফটওয়্যার বিক্রি করছে।

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]