দক্ষিণ এশিয়া
চীনা নেতৃত্বের বাণিজ্য ব্লকের কাছে রফতানি হারানোর ঝুঁকিতে ভারত
চীনা নেতৃত্বের বাণিজ্য ব্লকের কাছে রফতানি হারানোর ঝুঁকিতে ভারত





ব্লুমবার্গ
Friday, Nov 27, 2020, 10:57 pm
 @palabadalnet

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রফতানিমুখী উৎপাদন খাত চীনা-নেতৃত্বাধীন এশিয় বাণিজ্য ব্লকের কাছে বাজার হারাতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের স্থানীয় কৃষক আর শিল্পের স্বার্থ রক্ষার জন্য যে ব্লক থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছর বের হয়ে এসেছেন। 

ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, রাসায়নিক, ফার্মাসিউটিক্যালস, এবং ইলেক্ট্রনিক্সসহ ভারতের শীর্ষ ১০টি রফতানি পণ্যের বাজার শেয়ার কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা, কারণ এশিয়ার ১৫ দেশীয় রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ নিজেদের মধ্যে স্বল্প শুল্কে পণ্য আমদানি রফতানির সুযোগ পেয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতের রফতানি পণ্যের এক চতুর্থাংশই হলো ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য। 

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আমিতেন্দু পালিত টেলিফোনে জানান, “যে  খাতগুলোতে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে ভারতে অবদান রাখে, আরসিইপি সেটার জন্য অসুবিধার কারণ ঘটাবে”। তিনি আরও বলেন, “আরসিইপির অধীনে বাণিজ্যের ব্যায় কমে আসবে যেটা অধীনস্থ দেশগুলোর জন্য একটা বড় সুবিধা”।

বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্তত ৯২% পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক থাকবে না। ভারত জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা আসিয়ান দেশগুলোর সাথে এফটিএ’র অধীনে যে বাণিজ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার চেয়ে এটা অনেক বড়। 

মোদি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছেন কৃষকদের সন্তুষ্ট করার জন্য এবং এটাকে ভারতের দরিদ্রদের বিজয় হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অর্থনীতির অবনতি হয়েছে এবং বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে ভারতের জিডিপির অবনতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আরসিইপি এখন সদস্য দেশগুলোর জন্য বাণিজ্য বাধা কমিয়ে আনছে, বিশেষ করে যে সময়টাতে মহামারীর কারণে একটা বৈশ্বিক বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। 

অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির প্রধান প্রিয়াঙ্কা কিশোর এক ইমেইলে জানান, অভিন্ন নিয়মের কারণে এই ব্লক সরবরাহ চেইনের আকর্ষনীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে, যেখানে ব্লকের ভেতরে থেকে আরসিইপি সদস্য দেশগুলোর জন্য লেনদেন সহজ হয়ে গেছে। 

অন্যদিকে, ভারত এখান থেকে বেরিয়ে আসায় ২০৩০ সালের জন্য ভারতের জিডিপির যে ভবিষ্যদ্বানী ছিল, সেটা ১.২% শতাংশ কমে গেছে। পিটারসন ইন্সটিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক্স এ তথ্য জানিয়েছে। 

এতে রফতানিকারকরা তাদের বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়বে এবং এই বিশাল বাজারে প্রতিযোগিতামূলক প্রবেশাধিকার না থাকায় তাদের রফতানিতে আঘাত আসবে। 

পালাবদল/এসএস


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]