দক্ষিণ এশিয়া
অধিকৃত কাশ্মিরকে নিয়ন্ত্রণ করতে সত্য বিকৃত করছে ভারত
অধিকৃত কাশ্মিরকে নিয়ন্ত্রণ করতে সত্য বিকৃত করছে ভারত





গ্লোবাল ভিলেজ স্পেস
Friday, Nov 20, 2020, 11:56 am
 @palabadalnet

ভারতের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সাবেক প্রধান তার স্মৃতিকথা কাশ্মির: দি বাজপেয়ি ইয়ার্স-এ স্বীকার করেছেন: কাশ্মিরিরা আপনার কাছে খুব কমই সত্য বলে, কারণ তারা মনে করে আপনি তার সাথে মিথ্যা বলেছেন। ব্রজেশ মিত্র যখন বলেন যে কাশ্মিরে একমাত্র যে জিনিসটি খাড়া, তা হলো পপলার বৃক্ষ, তখন তা ঠিক কথাই হয়। আর আমরাই তাদেরকে এমন বানিয়েছি। দিল্লির সমস্যা হলো, সে সবকিছু সাদা-কালো দেখে, অথচ কাশ্মিরের প্রিয় রং হলো ধূষর। 

বিতর্কিত রাজ্য জম্মু ও কাশ্মিরে গণভোট আয়োজন করার প্রতিশ্রুতি ভারত প্রথম দিন থেকেই লঙ্ঘন করে আসছে। ওই সময় কোনো আন্তর্জাতিক সমর্থন না থাকায় পাকিস্তানকে আগ্রাসী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তারা হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যায়নি। ভুয়া জেনেই রহস্যময় অন্তর্ভুক্তিমূলক ঘটনাটি জাতিসংঘে নিবন্ধন করেনি। 
পণ্ডিত জওহেরলাল নেহরু শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে বোকা বানিয়েছিলেন। তিনি কেবল শেখ আবদুল্লাহর প্রতিই আন্তরিকহীন ছিলেন না, সেইসাথে জাতিসংঘের প্রতিও ছিলেন। এমনকি অধিকৃত কাশ্মিরের সাংবিধানিক পরিষদকেও ধোঁকা দিয়েছেন। কাশ্মির প্রশ্নে নেহরুর পরিবর্তনশীল অবস্থানটি দেখা যাক। 

নেহরুর হাতিয়ার হলো তথাকথিত ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাক্সেশন এবং সাংবিধানিক পরিষদে এর সত্যায়ন। নেহরু ১৯৪৭ সালের ৩১ অক্টোবর। অন্তর্ভুক্তি চুক্তি সই করার চতুর্থ দিনে তিনি রাজ্যের বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এক চিঠিতেজাতিসংঘের তদারকিতে গণভোটের কথা বলেছিলেন। 

তিনি ১৯৫১ সালের ৩ নভেম্বর নয়া দিল্লিতে আবারো ওই কথার পুনরাবৃত্তি করেন।  তিনি একাধিকবার স্পষ্ট করে বলেন যে সাংবিধানিক পরিষদ নয়, গণভোটের মাধ্যমেই কাশ্মির সমস্যার সমাধান হবে। 

তিনি কখনো পাকিস্তানকে আগ্রাসী হিসেবে অভিহিত করেননি। তবে তিনি ১৯৫৪ সালের ১ মার্চ পার্লামেন্টকে বলেন, ছয় বছর আগে কাশ্মিরে যে আগ্রাসন ঘটেছিল, তার পরিণতি ছিল ভয়াবহ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও কখনো ওই ঘটনার নিন্দা করেনি। 

তবে নেহরু কাশ্মিরে গণভোট আয়োজন থেকে পিছিয়ে আসেন ১৯৫২ সালের ২৪ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে। তিনি ওই সময় রাজ্যের ভবিষ্যত নিয়ে বলতে গিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত যদি সাংবিধানিক পরিষদের সাথে ভিন্ন হয়, তবে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদকে তার সনদের অন্যান্য অংশের আলোকে কাজ করতে হবে। 

ওই একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সাংবিধানিক পরিষদ এখন কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে গণভোটের প্রয়োজন কী?

কাশ্মির পরিস্থিতিকে কারাগারের মতো বিবেচনা করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গিয়েছিল পাকিস্তান। ভারত এই ধারণা দেয় যে গোপন কিছু ধারার কারণে পাকিস্তান এই ইস্যুটি আন্তর্জাতিক ফোরামে নিয়ে যেতে পারে না। কথাটি সত্য নয়। পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল চীন। এই দুই দেশ কাশ্মির যে কারাগার, তা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিতর্ক হয়। তবে ভারত যেসব দেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করে, তারা ভারতের সমর্থনে এগিয়ে আসে। 

পরলোকগত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সচিব পি এন ধর কাশ্মির ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘের ভূমিকা আড়াল করার পরিবেশ সৃষ্টি করেন। 

তিনি কাশ্মির নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গোপন সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেন। কিন্তু পাকিস্তান তা কখনো স্বীকার করেনি। 

মহারাজ ভারতের সাথে একীভূত হয়েছিলেন ভারতের দৃষ্টিকোণ জাতিসঙ্ঘ কোনো প্রস্তাবে গৃহীত হয়নি। কাশ্মির প্রশ্নে প্রধান প্রস্তাবগুলো হচ্ছে: ক. ১৯৪৮ সালের ১২ আগস্টের ইউনাইটেড ন্যাশন্স কমিশন ফর ইন্ডিয়া পাকিস্তান প্রস্তাবে বলা হয় যে ভারত সরকার ও পাকিস্তান সরকার তাদের ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছে যে জম্মু ও কাশ্মিরের ভবিষ্যত নির্ধারিত হবে জনগণের ইচ্ছায়। উভয় সরকার সুষ্ঠু ও সাম্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির ব্যাপারে পরামর্শ করতেও সম্মত হয়। খ. ১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, ভারত বা পাকিস্তানে জম্মু ও কাশ্মিরের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নটি নির্ধারিত হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ গণভোটের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে। 

বিরোধপূর্ণ কাশ্মিরের মর্যাদা প্রশ্নে জাতিসংঘ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ভারত দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ভারত বলছে যে এই সমস্যার সমাধান হবে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে। কিন্তু ভারত যেহেতু পাকিস্তানের সাথে মুখোমুখি হতে রাজি হচ্ছে না, কাজেই জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। 

জাতিসংঘ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে ভারত নিজেকে যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে এনেছে: যদি পারো শক্তি দিয়ে কাশ্মির কেড়ে নাও। 

র-প্রধানের একমাত্র কাজ ছিল কাশ্মিরি নেতাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করা। পাকিস্তানের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও পাকিস্তান বিবদমান হুরিয়াত দলগুলোকে একত্রিত করতে পারেনি। এমনকি এখনো কাশ্মিরী নেতারা বিভক্ত রয়ে গেছেন। র প্রধান নির্লজ্জভাবে তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। 

জাতিসংঘ কাশ্মিরের ভারতের অন্তর্ভুক্ত নিবন্ধিত হয়নি। সিমলা চুক্তির ধারাগুলোতে স্পষ্টভাবে জাতিসংঘ সনদের কথা বলা হয়েছে।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]