শিক্ষাঙ্গন
হাত ধোয়ার সুবিধা নিশ্চিত করে স্কুল খুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
হাত ধোয়ার সুবিধা নিশ্চিত করে স্কুল খুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী





নিজস্ব প্রতিবেদক
Wednesday, Oct 14, 2020, 9:20 pm
Update: 14.10.2020, 10:08:54 pm
 @palabadalnet

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ফাইল ছবি

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ফাইল ছবি

ঢাকা: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আগামীতে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার সুবিধা নিশ্চিত করে স্কুল খুলতে হবে। করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে স্কুল বন্ধ থাকলেও অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা ও হাত ধোয়ার অভ্যাস নিয়মিতভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী বছর সরকার শিক্ষার্থীদের নতুন যে বই সরবরাহ করবে সেখানেও হাত ধোয়াসহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয় সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

বুধবার ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড আয়োজিত 'হ তে হাত ধোয়া, সুরক্ষিত হাতে সুরক্ষিত দেশ' শীর্ষক এক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। দিবসটি উপলক্ষে নতুন আন্দোলন শুরু করেছে ইউনিলিভারের সাবানের ব্র্যান্ড 'লাইফবয়'। গত ৬ অক্টোবর একটি পিটিশন সাইট চালু করা হয়েছে, যেখানে 'এইচ ফর হ্যান্ডওয়াশিং, হ তে হাত ধোয়া' আন্দোলনকে সমর্থন করার জন্য গ্রাহকদের স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। জীবাণুমুক্ত থাকার ক্ষেত্রে হাত ধোয়ার গুরুত্ব নিয়ে এবং শিশুসহ সব বয়সীদের মধ্যে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা নিয়ে মূলত বুধবার ওয়েবিনারে আলোচনা করেন বক্তারা।

ডা. দীপু মনি বলেন, ডায়রিয়া ও শিশুদের কৃমি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে টয়লেট ব্যবহারের পরে ও খাবার আগে হাত ধোয়ার প্রচার চালানো হচ্ছে এবং তার সুফলও পাওয়া গেছে। সারাবিশ্বে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুনাম অর্জন করেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি হাত ধোয়ার গুরুত্ব রয়েছে।


তিনি বলেন, হাত ধোয়াসহ অন্যান্য পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার উপকারিতা জানা থাকলেও ব্যবহারে অভ্যস্ততা অনেকের নেই। এই অভ্যস্ততা সৃষ্টির জন্য প্রচার দরকার। জ্ঞান ও অভ্যস্ততার মধ্যে যোগসূত্র সৃষ্টি করতে হবে। শিশুরা কিছু শিখলে তা সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। তিনি পকেটে বা ব্যাগে বহন করা যায় এবং অতিদরিদ্র লোকরা কিনতে পারে এমন দামে সাবান বাজারজাত করার জন্য সাবান প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেদার লেলে বলেন, শৈশবের শিক্ষা মানুষের বাকি জীবনকেও প্রভাবিত করে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। মহামারির এই সময়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব আগের চেয়ে বেশি। শিশুদের জীবনাচরণে পরিবর্তন আনার বিষয়ে লাইফবয় জনপ্রিয় তারকা, শিক্ষক-অভিভাবকসহ অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে। সেগুলোর মাধ্যমে খাবার আগে, টয়লেট থেকে বের হওয়ার পরসহ দিনে অন্তত ৫ বার হাত ধোয়ার গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে। শৈশব থেকেই হাত ধোয়ার বিষয়টি জীবনাচরণে অন্তর্ভুক্ত করতে পাঠ্যক্রমে ইংরেজিতে 'এইচ ফর হ্যান্ডওয়াশিং' এবং বাংলায় 'হ তে হাত ধোয়া' অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন তিনি।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, শিশুকাল থেকে হাত ধোয়াসহ স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করা সম্ভব হলে সার্বিকভাবে জাতীয় স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটবে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে জীবাণুমুক্ত থাকার গুরুত্ব অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের এই সংকটে জীবাণুমুক্ত থাকার সংস্কৃতি চালুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ নিতে হবে। ব্র্যাকের এক গবেষণায় দেখা যায়, ৪৯ শতাংশ মানুষের কাছে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার জন্য সাবান ও পানির পর্যাপ্ততা নেই। এই পর্যাপ্ততা সবার কাছে পৌঁছে দিতে ইউনিলিভারের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে ব্র্যাক।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের ওয়াটার, স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন (ওয়াস) বিভাগের প্রধান ডারা জনস্টন বলেন, গত বছর এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭৫ শতাংশ বাড়িতে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সাবান ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টি সন্তোষজনক নয়। তবে এই করোনার সময়ে আগের তুলনায় ১৬ শতাংশ মানুষের মধ্যে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে। তিনি স্কুলে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক (কর্মসূচি উন্নয়ন) রিফাত বিন সাত্তার বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাত ধোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। আগামীতে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হবে, তখন শিশুরা যাতে জীবাণুমুক্তভাবে আসা-যাওয়া করতে পারে তা গুরুত্বপূর্ণ। সব মানুষ যাতে সাবান কিনতে পারে তার জন্য আর্থিক সহযোগিতার সুপারিশ করে তিনি বলেন, জীবাণু থেকে সুরক্ষার অভাবে যেন শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ওরলা মারফি বলেন, টেকসই ভবিষ্যতের জন্য পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত পাঠের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থ হবে। সরকারি ও উন্নয়ন সহযোগীদের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্কুল পর্যায়ে জীবাণু থেকে সুরক্ষার বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করা যেতে পারে।

ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, হাত ধোয়া কাজ নয়, অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। বর্তমান মহামারির ফলে সবক্ষেত্রেই এই অভ্যাস দরকার। কারণ দেশের ৬০ ভাগ মানুষ হাত ধোয়ার বিষয়ে সচেতন নয়। আগামী বছরে শিক্ষার্থীদের হাতে যে নতুন বই দেওয়া হবে সেখানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিষয় সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]