সারাবাংলা
জজ তারিকের প্রত্যাহার দাবি কুড়িগ্রামে আইনজীবীদের
জজ তারিকের প্রত্যাহার দাবি কুড়িগ্রামে আইনজীবীদের





কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
Sunday, Jan 12, 2020, 9:36 pm
Update: 12.01.2020, 9:45:26 pm
 @palabadalnet

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো: তারিক হোসেন কর্তৃক সিভিল মোকদ্দমায় দুইজন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে জেলহাজতে প্রেরণ, বিচারপ্রার্থী সাধারণ জনগণসহ বিজ্ঞ আইনজীবীদের সাথে অসৌজন্য ব্যবহার, অ-বিচারক সুলভ আচরন, অনৈতিক ও বেআইনী কার্যকলাপের প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি রোববার সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করেছে। সংবাদ সম্মেলন উক্ত বিচারকের প্রত্যাহারের দাবিতে ৭দিনের আলটিমেটাম দেয় আইজীবী সমিতি। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অভিযুক্ত বিচারকের আদালত বর্জন কর্মসূচি চলবে। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

রোববার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে আইনজীবী সমিতিতে অবস্থিত অ্যাডভোকেট এনামুল হক চৌধুরী চাঁদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীববী সমিতির সভাপতি এড. ইয়াছিন আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট এরশাদুল হক চৌধুরী, শ্রী সুজিৎ চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, প্রমুখ। এর আগে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে এ আন্দোলন কর্মসুচি নেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে যেসব আইনগত দিক লঙ্ঘিত হয়েছে তা ব্যাখা করেন সাবেক বিচারক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু।

তিনি বলেন, তিনটি কারণে এ মামলা অবৈধ। প্রথমত, ফৌজদারী কার্যবিধির ১৯৫ ধারা পেনাল কোডের ৪২০ ও ১২০ ধারা উল্লেখ না থাকায় কোন সিভিল আদালতের বিচারক উক্ত ধারা সমূহের অধীনে কোন মামলা করতে পারেন না। দ্বিতীয়ত, অধঃস্তন আদালতের কোনো সিভিল আদালতের বিচারক ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৭৬ ধারা অনুয়ায়ী তার পেশকার বা সেরেস্তাদার দ্বারা কোনো মামলার এজাহার দায়ের করতে পারেন না। তৃতীয়ত, সিভিল মামলার চূড়ান্ত রায় ব্যতীত বিচার চলাকালে এমন কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।

কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত একটি সিভিল মামলায় বাদী ও বিবাদী আদালতের বাইরে সমঝোতা করার পর বাদী নার্গিস হক মামলা প্রতাহারের আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক বাদীর আবেদন আমলে না নিয়ে বে-আইনী ভাবে বিবাদী আসাদুর জামান সবুজ ও তার মা আসমা বেগমকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। যা সিভিল মামলায় ওই বিচারকের সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভুত।

শুধু তাই নয়, ওই বিচারক তার কোটের বেঞ্চ সহকারীকে বাদী করে উক্ত দুই বিবাদীর বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন যা আইন সম্মত নয়। এমতাবস্থায় জেলা ও যুগ্ম দায়রা জজ মো. তারিক হোসেন বিচারিক কাজ পরিচালনার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বেআইনী ভাবে ওই দুই বিবাদীকে জেলহাজতে প্রেরণের সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. ফখরুল ইসলাম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আমজাদ হোসেন ওই বিচারকের চেম্বারে দেখা করতে গেলে তিনি তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

পালাবদল/এমএম
 
 


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]