সোমবার ২০ জানুয়ারি ২০২০ ৭ মাঘ ১৪২৬
 
রাজনীতি
মন্ত্রিত্ব ছেড়ে নির্বাচনের প্রচারে আসুন, কাদেরকে চ্যালেঞ্জ ফখরুলের
মন্ত্রিত্ব ছেড়ে নির্বাচনের প্রচারে আসুন, কাদেরকে চ্যালেঞ্জ ফখরুলের





নিজস্ব প্রতিবেদক
Saturday, Jan 11, 2020, 11:19 pm
 @palabadalnet

ঢাকা: মন্ত্রী পদ ছেড়ে ওবায়দুল কাদেরকে ঢাকার সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেয়ার চ্যালেঞ্জ দিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নির্বাচনী প্রচারনায় অংশগ্রহণ নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের পর শনিবার দুপুরে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব  এই চ্যালেঞ্জ জানান।

তিনি বলেন, ‘‘এখানে(সিটি নির্বাচন) থুব দুঃখ করে ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন যে, মির্জা ফখরুল যদি নির্বাচনের প্রচারনায় অংশ নিতে পারেন আমি পারবো না কেনো? এক‘শ বার পারবেন। এই মুহুর্তে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেন, আসেন এক সাথে নির্বাচন করি। তাহলেই পারবেন। আইন তো তাই বলে। আইন বলে যে, আপনি মন্ত্রী এবং এমপি থাকলে আপনি এটা পারবেন না। সুতরাং মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আসুন- আপনি নৌকার জন্য করেন, আমি ধানের শীষের জন্য করি। লেট আস ফেইস দ্যা চ্যালেঞ্জ। দেখা যাক জনগণ কার দিকে থাকে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমরা একথা খুব পরিষ্কার করে বলতে পারি, আজকে ক্ষমতা থেকে নেমে আসুন লেভেল প্ল্যায়িং তৈরি করুন। একটা নিরপেক্ষ সরকার বসিয়ে দেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বা্চন করুক। সেই নির্বাচনে যদি আপনারা জিতেন মাথা পেতে নেবো। কিন্তু আপনারা জানেন সেটা কোনোদিন হবে না। সেজন্য কৌশল করে বিভিন্নভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদেরকে বোকা বানিয়ে আপনারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছেন। এটা কখনোই জনগন মেনে নেবে না।”

তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন দিচ্ছেন, নির্বাচন নির্বাচন খেলা করছেন আমরা জানি। তারপরেও আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। কেনো যাচ্ছি খুব পরিস্কার করে বলেছি- আমরা এই নির্বাচনটাকে আমাদের গণতন্ত্রের মুক্তি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সংগ্রামের আন্দোলনের একটা হাতিয়ার হিসেবে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি।”

উৎসব প্রসঙ্গে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘আজকে সরকার উৎসব পালন করছেন খুব ভালো কথা। কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে উৎসব পালন করছেন, গণতন্ত্রের নেত্রীকে কারাগারে রেখে উৎসব পালন করছেন।”

‘‘এই উৎসবে দেশের মানুষের হৃদয় কতটুকু থাকবে সেই কথাটা একটু চিন্তা করে দেখা দরকার আপনাদের। দেশের বেশির ভাগ মানুষকে অস্বস্তিতে রেখে, একটা দুরাবস্থায় রেখে এই উৎসব কতটুকু সফল হবে সেটা অবশ্যই আপনাদের ভেবে দেখতে হবে।”

বল ক্ষমতাসীন দলের কোর্টে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব মন্ত্রী অত্যন্ত প্রভাবশালী মানুষ, তিনি গণতন্ত্রের জন্যে সংগ্রামও করেছেন অনেকদিন, তিনি বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এমন কোনো অসুস্থ নন যে, তাকে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠাতে হবে। এই অন্যায়, এই ধরনের কথা আপনার কাছ থেকে আশা করি না।”

‘‘আমরা আশা করি, সত্যিকার অর্থে একজন রাজনৈতিক নেত্রী বাংলাদেশের মানুষ যাকে ভালোবাসে তার চিকিৎসার জন্য আপনারা সঠিক কথা বলুন। এখন আপনাদের কোর্টে বল, এখন আর আদালতে কোর্টে বল নেই, বল আপনাদের কোর্টে। বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের যেকোনো অবণতির দায়-দায়িত্ব সব আপনাদের। এদেশের মানুষ যদি বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হয় তাহলে সম্পূর্ণভাবে আপনাদেরকেই দায়ী থাকতে হবে।”

খালেদা জিয়া কেনো জামিন পাবেন না প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘‘এমন একটা মামলা যে মামলায় যেকোনো মানুষ জামিন পায়। উনি কেনো জামিন পাবেন না। আজকে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা জামিন পায়, মহিউদ্দিন খান আলমগীর জামিন পায়, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জামিন পায় তাহলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কেনো জামিন পাবেন না?”

‘‘কারণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে আপনাদের ওই তাখতে তাউস, আপনাদের মসনদ জনগন ভেঙে ফেলবে, থাকতে দেবে না। এই কারণে আপনারা তাকে আটকিয়ে রেখেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আপনারা আটকিয়ে রেখেছেন। আমরা খুব পরিস্কার করে বার বার বলছি, এ্খনো বলছি, সময় থাকতে দেয়ালের লিখুন পড়ুন, মানুষের চোখের ভাষা দেখুন, মানুষের  কথা বুঝার চেষ্টা করুন।এভাবে দখল করে, জোর করে দাবিয়ে রেখে, নির্যাতন, করে, গুলি করে, গুম করে চিরদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। শেখ মুজিবুর রহমানের কথা আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- দাবায়ে রাখতে পারবা না। বাংলার মানুষকে দাবায়ে রাখা যাবে না।”

১/১১ এই দিনটি স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমি সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ধন্যবাদ জানাতে চাই তারা আজকে ১/১১ দিনে অর্থাৎ যে দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কলংকময় দিন বলে লেখা আছে সেইদিনে তারা জনপ্রিয় নেত্রীকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছে তার মুক্তির জন্য এই সমাবেশের আয়োজন করেছে। এই সরকার রাষ্ট্র যন্ত্রকে দখল করে বিচার বিভাগকেও নিয়ন্ত্রণ দেশনেত্রীকে আটকিয়ে রেখেছে।”

‘‘আমরা বার বার প্রশ্ন তুলেছি, যে আইনে যে ধারায় সাজা দিয়েছেন সেই আইনে সেই ধারায় আরো অনেক লোককে আপনারা জামিন দিয়েছেন। এই প্রশ্ন আমার বিচার বিভাগের কাছে, মাননীয় বিচারকদের কাছে। জনগনের আস্থা আপনাদের ওপরে থাকার কথা। যে সব জায়গায় হেরে গেলে, নির্যাতিত হলে, নিপীড়িত হলে মানুষ বিচার বিভাগের কাছে যায়, বিচারকদের কাছে যায় তাদের আস্থা পাওয়ার জন্য যেন অন্যায় তাদের উপরে না হয়। কী দুর্ভাগ্য ! আজকে সেইখান থেকেই আজকে বেশি অন্যায় করা হচ্ছে এমন একজন নেত্রীর উপরে যিনি ১৬ কোটি মানুষের প্রাণের নেত্রী। আর কালক্ষেপণ না করে এই মুহুর্তে’ খালেদা জিয়ার আবারো মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

‘‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এতটুকু দেরি না করে এই মুহুর্তে মুক্তি দিন। তার শরীরটার অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেছে। ডাক্তার সাহেবরা বলেছেন, তার(খালেদা জিয়া) উচ্চতর সেন্টারে চিকিৎসা দরকার। বাংলাদেশে এমন কোনো সেন্টার নেই। সেজন্য তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন যে, আমরা তার চিকিৎসা করতে চাই। এই কোনো ধরনের অমানবিকতা আপনারা দেখাচ্ছেন। ভালো নজির হচ্ছে না এটা, এই নজির সৃষ্টি করবেন না।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দা্বিতে এই মানববন্ধন হয়।

সংগঠনের সদস্য সচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, অ্যাডভোটে ফজলুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম, ড্যাবের অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, জাকির হোসেন, কৃষিবিদ হারুনুর রশীদ, শামীমুর রহমান শামীম, জাতীয়তাবাদী সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।  

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]