সারাবাংলা
রংপুরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন: দুই ডজন প্রার্থীর দৌড়ঝাপ
রংপুরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন: দুই ডজন প্রার্থীর দৌড়ঝাপ





রংপুর ব্যুরো
Monday, Nov 25, 2019, 10:54 pm
Update: 25.11.2019, 10:56:30 pm
 @palabadalnet

রংপুর: দীর্ঘ এক যুগেরও বেশিয় সময় পর কাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে রংপুর মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এজন্য পাবলিক লাইব্রেরী মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। সভাপতি ও সম্মাদক হতে ইতোমধ্যেই প্রায় দুইডজন প্রার্থী তাদের প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন। এদিকে সম্মেলকে ঘিরে যাতে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙখলাবাহিনী 

দলীয় সূত্রে প্রকাশ, দীর্ঘ তের বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল কাঙ্খিত এই সম্মেলন। ২০০৭ সালে সাফিয়ার রহমান সাফিকে সভাপতি ও তুষার কান্তি মণ্ডলকে সাধারণ সম্পাদক করে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। আর ১৯৯৭ সালে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন হয়। ২০০৬ সালে রংপুর জেলা সম্মেলন আহ্বান করা হলে দলের দুই গ্রুপের বিরোধের জেরে প- হয়ে যায়। পরে আহবায়ক কমিটি দ্বারা জেলা আওয়ামী লীগ পরিচালিত হয়। ২০০৯ সালে মরহুম আবুল মনছুর আহমেদকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজুকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় কমিটি। পরে আবুল মনসুর আহমেদের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। 

মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন জানান,  সম্মেলনের জন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন সভাপতি ম-লীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। প্রধান বক্তা থাকবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেলন হক ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক টিপু মুনশি। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উপ কমিটির মাধ্যমে সম্মেলনের বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন করে দেয়া হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, এই সম্মেলনে রংপুর মহানগরীর ৩৩ ওয়ার্ডের ৪৫০ জন ও জেলার আট উপজেলার ৩৫০ জন কাউন্সিলর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। 

 এদিকে রংপুর মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক পদে দুই ডজন নেতা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেম, বর্তমান মহানগর কমিটির সভাপতি সাফিউর রহমান সফি, সহ-সভাপতি কায়সার রাশেদ খান শরীফ, শামীম তালুকদার, ডা. দেলোয়ার হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ও  রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি আতাউজ্জামান বাবু, ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি ম-ল, যুগ্ম সম্পাদক নওশাদ রশীদ, রওশানুল ইসলাম সংগ্রাম, অ্যাডভোকেট দিলশাদ হোসেন মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম তোতা, কোষাধ্যক্ষ সামসুর রহমান কোয়েল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মিল্টন অন্যতম। 

অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সহ-সভাপতি সাবেক নারী সাংসদ অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজেদ আলী বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চৌধুরী, এ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, মোতাহার হোসেন মণ্ডল মওলা, দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় হাইকমান্ড নেতাদের অতীত কর্মকাণ্ডের হিসাব-নিকাশ করছেন। ফলে বর্তমান নেতৃবৃন্দের অনেকেই আতঙ্কে আছেন। যাদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে তারা বাদ যেতে পারেন। এছাড়াও আগের এবং বর্তমান আর্থিক সম্পদের উৎস কী তা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। শুধু তাই নয় বর্তমান সরকারের সফলতা সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচার প্রচারণায় বর্তমান নেতৃত্ব কেমন ভূমিকা রেখেছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দলীয়ভাবে চাঁদাবাজি, প্রভাব দেখিয়ে সরকারি কাজে টে-ারবাজি, চাকরির নামে টাকা হাতিয়ে নেয়া, বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থেকে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করার সাথে জড়িত থাকাসহ নানা কর্মকাণ্ড এবারের নেতা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। 

এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন সভাপতি-সম্পাদকের মাধ্যমে কাউন্সিলরদের ভোট আদায়ের চেষ্টা করছেন।  সম্মেলনে পদপ্রত্যাশীরা কাল ব্যাপক শোডাউন নিয়ে মাঠে নামবেন।  ফলে বৃহৎ এই কাউন্সিলে অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করছেন তৃণমুল নেতাকর্মীরা। এমন আশংকা থেকে আইনশৃঙখলা বাহিনীও শক্ত অবস্থানে আছেন।

মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদ জানান, আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় আইনশৃঙখলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে সতর্ক অবস্থায় থাকবেন। 

পালাবদল/এসএফ




  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]