শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
প্রতিরক্ষা
সীমান্তে শক্তি বাড়াতে ৬০০ ট্যাংক সংগ্রহ করছে পাকিস্তান, ভারতের জন্য উদ্বেগের
সীমান্তে শক্তি বাড়াতে ৬০০ ট্যাংক সংগ্রহ করছে পাকিস্তান, ভারতের জন্য উদ্বেগের





পালাবদল ডেস্ক
Monday, Nov 25, 2019, 11:50 am
 @palabadalnet

রাশিয়ার টি-৯০ ট্যাংক

রাশিয়ার টি-৯০ ট্যাংক

পাকিস্তানের সাঁজোয়া বাহিনীর আধুনিকায়ন যখন শম্ভুক গতিতে চলছিল তখনই দেশটি ৬০০ ট্যাংক সংগ্রহের এক উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এগুলোর মধ্যে রাশিয়ার টি-৯০ মেইন ব্যাটল ট্যাংকও রয়েছে। মূলত ভারত সীমান্তে যুদ্ধ করার শক্তি বাড়াতে এই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সামরিক ও গোয়েন্দা সূত্রে রোববার এ তথ্য পাওয়া গেছে।

পাকিস্তান এমন ট্যাংক কিনবে সেগুলো যেন ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূর থেকে টার্গেটে আঘাত হানতে পারে। এসব ট্যাংকের কিছু জম্মু-কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় মোতায়েন করা হবে বলে সূত্র পিটিআইকে জানায়।
 
ব্যাটল ট্যাংক ছাড়াও পাকিস্তান সেনাবাহিনী ইতালি থেকে ২৪৫টি ১৫০এমএম এসপি মাইক-১০ কামান সংগ্রহ করছে। এগুলোর মধ্যে ১২০টি ইতোমধ্যে হাতে পেয়েছে তারা।

সূত্র জানায়, রাশিয়ার টি-৯০ ট্যাংকের উপর পাকিস্তানের নজর পড়েছে। ভারতীয় সেনাবহিনীর সাঁজোয়া বহরের মূল শক্তি এসব ট্যাংক। এর মানে হলো রাশিয়ার সঙ্গে আরো গভীর সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় পাকিস্তান। এখন পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র যোগানদাতার আসন ধরে রেখেছে মস্কো।

রাশিয়ার কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা ছাড়াও গত কয়েক বছর ধরে দেশটির সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়াতেও যোগ দিচ্ছে পাকিস্তান। এ নিয়ে নয়া দিল্লি উদ্বেগে রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের মধ্যে সাঁজোয়া বাহিনীকে ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করতে এই মেগা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাকিস্তান বিভিন্ন দেশ থেকে ৩৬০টি ট্যাংক সংগ্রহের পাশাপাশি চীনের সহায়তায় ২২০টি ট্যাংক নিজ দেশে তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে।

গত এক বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তেজনা বেড়ে চলার মধ্যে পাকিস্তান তার সাঁজোয়া বহর শক্তিশালী করার এই পরিকল্পনা নিলো।

ভারতীয় সূত্র দাবি করে, পাকিস্তানের প্রতিটি উষ্কানিমূলক হামলার সমুচিত জবাব দেয় ভারতীয় বাহিনী। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনী যখনই সন্ত্রাস-দমন অভিযানের দিকে মনযোগ দেয় তখনই পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্রুততার সঙ্গে প্রতিপক্ষ বাহিনীর সঙ্গে শক্তির পার্থক্যটি ঘুচিয়ে ফেলে।

সূত্র জানায় পদ্ধতিগত বিলম্বের কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের কাজটি শামুকের গতিতে চলছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীও তার পাদাতিক ও সাঁজোয়া বাহিনীকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে ৬০,০০০ কোটি রুপির ফিউচারিস্টিক ইনফেনট্রি কমব্যাট ভেহিকেল কর্মসূচিও রয়েছে। কিন্তু নানা কারণে সবগুলো কর্মসূচিই আটকে আছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক ট্যাংক রয়েছে ভারতের। এগুলোর মধ্যে টি-৯০, টি-৭২ ও অর্জুন ট্যাংক রয়েছে।

কিন্তু সূত্র জানায় যে, এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে পাকিস্তান ঐকান্তিকভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যেখানে ৬৭টি সাঁজোয়া রেজিমেন্ট সেখানে পাকিস্তানের রয়েছে ৫১টি।

কিন্তু পাকিস্তানের হাতে থাকা ট্যাংকের ৭০ শতাংশই রাতে অভিযান চালানোর ক্ষমতা রাখে, যা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, টি-৯০ ট্যাংক ছাড়াও চীন থেকে ভিটি-৪ ও ইউক্রেন থেকে অপলোড-পি ট্যাংক সংগ্রহের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাবাহিনী শেষোক্ত দুটি ট্যাংকের ট্রায়ালও দিয়েছে।

পাকিস্তানের হাতে চীনা অরিজিনের টি-৫৯ ও টি-৬৯ ট্যাংক সজ্জিত ১৭টি ইউনিট রয়েছে। যা মোট শক্তির ৩০ শতাংশ।

এছাড়া রয়েছে ১২ রেজিমেন্ট আল-জারার ট্যাংক। যা মোট ট্যাংক শক্তির ২০ শতাংশ।

বাকি ৫০ শতাংশ হলো ইউক্রেনের তৈরি টি-৮০-ইউডি ও টি-৮৫-ইউডি এবং টি-৫৯ ট্যাংকের আপগ্রেড সংস্করণ।

নাম প্রকাশে এক ভারতীয় অস্ত্র বিশেষজ্ঞ বলেন, পাকিস্তান দ্রুত ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী তার সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়ন করছে। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে তেমনটি হচ্ছে না।

পাকিস্তান যেভাবে ট্যাংক বহরের আধুনিকায়ন করছে তার ভারতের জন্য উদ্বেগের বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী লাদাখের জন্য আলাদা ট্যাংক বিগ্রেড গঠন করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। সূত্র: পিটিআই

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]