মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর ২০১৯ ২৮ কার্তিক ১৪২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
‘দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি হলেই নোবেল’, অমর্ত্য-অভিজিৎকে ব্যক্তিগত আক্রমণে বিজেপি
‘দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি হলেই নোবেল’, অমর্ত্য-অভিজিৎকে ব্যক্তিগত আক্রমণে বিজেপি





পালাবদল ডেস্ক
Saturday, Oct 19, 2019, 1:49 am
 @palabadalnet

কলকাতা: শুকবার সকালে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাম ঘেঁষা’ বলে দাগিয়েছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়াল। বিকেলে তাকেও ছাপিয়ে গেলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহ। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নোবেলজয়ীকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি। নাম না করে একই সঙ্গে কটাক্ষ করলেন আর এক নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকেও। রাহুলের কথায়, ‘‘যাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি, তারাই নোবেল পান।’’

শুক্রবার সকালেই অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন পীযূষ গয়াল। অভিজিতের চিন্ত-ভাবনাকে বাম ঘেঁষা বলে উল্লেখ করেন তিনি। তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্যকেই সমর্থন করেন রাহুল সিংহ। তিনি বলেন, ‘‘পীযূষ গয়াল ভুল কিছু বলেননি। দেশের অর্থনীতিটাকেও বামপন্থী নীতিতে নামিয়ে এনেছেন তারা। যাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি, তারাই নোবেল পেয়ে যাচ্ছেন। এটাই বুঝি এখন নোবেল পাওয়ার ডিগ্রি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় নোবেল পাওয়ার পর থেকেই তার উদ্দেশে একাধিক তির্যক মন্তব্য উড়ে এসেছে গেরুয়া শিবির থেকে। এদিন তাতেই নয়া সংযোজন পীযূষ ও রাহুল। এদিন সকালে পুনেতে একটি আলোচনা সভায় পীযূষ বলেন, ‘‘নোবেল পাওয়ার জন্য অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু অর্থনীতি নিয়ে ওনার চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে সকলেই অবগত, যা সম্পূর্ণ বাম ঘেঁষা। কংগ্রেসের ন্যায় প্রকল্পের প্রশংসা করেছিলেন উনি। কিন্তু ভারতের মানুষ তার সেই ভাবনাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন।’’ 

পীযূষ আরও বলেন, ‘‘একজন ভারতীয় নোবেল পেয়েছেন। তার জন্য গর্বিত আমি। তাই বলে তার চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে একমত হতে হবে এমন নয়। বিশেষত, গোটা দেশ যখন তার ধারণা খারিজ করেছে। আমার মনে হয় তার পরামর্শের প্রয়োজন নেই আমাদের।’’ 

বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের এমন মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। আর এক নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সঙ্গেও বরাবর বিরোধ বিজেপির। আবার অভিজিতও মোদি সরকারের নীতি-নিয়মের ঘোর সমালোচক বলে পরিচিত। তাই ইচ্ছাকৃত ভাবে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে বলে দাবি বাম-সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের।

ইতিমধ্যেই রাহুল সিংহের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। তার কথায়, ‘‘অমর্ত্য সেনের মতো অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবনকে কলুষিত করার চেষ্টা চলছে। ওদের এই কথা বলার কোনো যোগ্যতাই নেই। নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের দয়ায় নেতা হয়েছেন রাহুল সিংহ। পশ্চিমবঙ্গ ফাজলামি করার জায়গা নয়।’’

মতাদর্শ ভিন্ন হলেও, এ ব্যাপারে বামেদের সঙ্গে একমত তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তার মতে, ‘‘বিজেপির নীতি সমর্থন না করলেই আক্রমণ করবে ওরা। অভিজিৎ এমন কিছু বলেননি যে বামপন্থী স্ট্যাম্প মেরে তাকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে। আর বামপন্থী-দক্ষিণপন্থী যাই হোন না কেন, অর্থনীতি এবং দেশের মঙ্গল চাইছেন কি না দেখতে হবে। একজন অতিবামও যদি সঠিক কিছু বলেন, হাসিমুখে তা গ্রহণ করব আমি।’’

পীযূষের মন্তব্য নিয়ে সুজন বলেন, ‘‘বিজেপির মতো একটা দল, যারা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, রেল এবং বিএসএনএল-কে বিক্রি করতে উঠেপড়ে লেগেছে, তাদের কাছ থেকে আর কিছু আশাও করা যায় না। বিজেপি এবং পীযূষ গয়ালের মতো নেতারা যে অভিজিতকে পছন্দ করবেন না, বরং তাকে হেয় করার চেষ্টা করবে, সেটাই তো স্বাভাবিক! বিজেপি নেতাদের কাছে একটাই অনুরোধ, দেশের গর্বকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য না করলেই ভালো।’’

কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ন্যয় প্রকল্পকে সমর্থন করেছিলেন বলে কি অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃতিত্ব এভাবে খাটো করা যায়? এই ধরনের মন্তব্য বিজেপি নেতাদের শিক্ষা এবং মূল্যবোধকেই প্রতিফলিত করে।’’

তবে শুধুমাত্র রাজনীতিকরাই নন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতজুড়ে নিন্দা শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি নেতাদের ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।- আনন্দবাজার পত্রিকা

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]