চট্টগ্রাম সিটি
চট্টগ্রামে আক্রান্ত ১২ শিশুর সবার শরীরে করোনার ডেলটা ধরন
চট্টগ্রামে আক্রান্ত ১২ শিশুর সবার শরীরে করোনার ডেলটা ধরন





চট্টগ্রাম ব্যুরো
Sunday, Jul 18, 2021, 11:44 pm
Update: 18.07.2021, 11:49:23 pm
 @palabadalnet

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের দুই হাসপাতালে গত জুন ও জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ১২ শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের সবাই করোনাভাইরাসের ডেলটা ধরনে আক্রান্ত ছিল। শিশুদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে এ তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা। ১২ জনের মধ্যে ৮ জন বর্তমানে সুস্থ। চারজন এখনো চিকিৎসাধীন।

করোনাভাইরাসের জীবনরহস্য উন্মোচনবিষয়ক এ গবেষণায় বলা হয়, চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতাল এবং জেনারেল হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত ১২ শিশু এসেছিল। এদের মধ্যে ছয়জন মেয়ে। ৮০ ভাগ শিশুর বয়স ১০ বছরের মধ্যে। বাকি ২০ ভাগের বয়স ১৬ বছরের মধ্যে। ৯৫ ভাগ শিশুর উপসর্গ হিসেবে জ্বর এবং ৭০ ভাগের সর্দি-কাশি ছিল। আর এক শিশুর শরীরে কোনো উপসর্গই ছিল না।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্ত জার্মানভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার ‘গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা’-তে গৃহীত হয়েছে। শনিবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়।

গবেষণার নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী, আবদুর রব মাসুম, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সঞ্জয় কান্তি বিশ্বাস ও নাহিদ সুলতানা। সার্বিক পরিকল্পনায় ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক আদনান মান্নান। গবেষক দলে আরও ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মো. মিনহাজুল হক, রাজদীপ বিশ্বাস, আকরাম হোসেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ফাহিম হাসান রেজা। এ ছাড়া গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে ছিলেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) ভাইরোলজি বিভাগের গবেষক মুস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন।

গবেষক হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, মে মাস পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের আলফা ও বিটা ধরনের প্রকোপ ছিল। কিন্তু জুন থেকে ৯০ শতাংশ রোগীর শরীরে ডেলটা ধরন দেখা গেছে। শিশুরাও বেশি মাত্রায় সংক্রমিত হচ্ছে। গবেষক দলের সদস্য সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, গত এক বছরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য হারে শিশুরা হাসপাতালে আসেনি। গত জুন থেকে শিশুদের সংক্রমিত হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। ভারতে পাওয়া ডেলটা ধরনের কারণেই এমনটি হচ্ছে।

গবেষকেরা বলছেন, শিশুরা সাধারণত জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, ক্ষুধামন্দ্য, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি উপসর্গ নিয়েই চিকিৎসকের কাছে আসছে। এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুদের ক্লান্তি, দুর্বলতার লক্ষণও দেখা গেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে করোনার প্রথম ঢেউয়ে শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু আক্রান্তের হার ছিল ২। বর্তমানে তা প্রায় ৩ শতাংশ। ইতিমধ্যে ১ হাজার ৭২৭ শিশুর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ছেলে ৭৩৩ ও মেয়ে ৯৯৪ জন। ছেলে তিন, মেয়ে একসহ মোট চারজন মারা গেছে।

জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান আবদুর রব মাসুম বলেন, সামনের দিনগুলোতে শিশুদের জন্য বেশি সংখ্যায় বিশেষায়িত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। ফলে পরিবারের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]