দক্ষিণ এশিয়া
মিয়ানমারের কারা শিবিরে ফিরতে চায় না রোহিঙ্গারা
মিয়ানমারের কারা শিবিরে ফিরতে চায় না রোহিঙ্গারা





আরব নিউজ
Saturday, Oct 17, 2020, 10:07 am
Update: 17.10.2020, 10:09:39 am
 @palabadalnet

মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার ফলে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। অবশ্য এখনো দুই থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে রয়ে গেছে। তাদের সম্পর্কে তেমন কিছু শোনা যায় না।

এর কারণ হলো, সেখানকার অবস্থা এতই খারাপ, যা কল্পনাও করা যায় না। এসব রোহিঙ্গার বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ বাস্তচ্যুত ব্যক্তিদের ক্যাম্পে অবস্থান করছে। ২০১৭-১৮ সময়কালে তারা সামরিক শুদ্ধি অভিযানের কারণে দেশত্যাগ করতে না পারার কারণ হলো, তারা তখনো এসব ক্যাম্পেই ছিল।

তাদের বেশির ভাগই সেখানে আছে ২০১২-১৩ সাল থেকে। রাখাইনে তাদের সাথে তাদের বৌদ্ধ প্রতিবেশীদের প্রচণ্ড সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে তারা সেখানে থাকতে বাধ্য হয়। ওই সময় তাদের উপর কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনী আক্রমণ চালায়নি, অবশ্য আগ্রাসীদের পক্ষে কিছু পুলিশ ও সেনাসদস্যকে ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছিল। এ কারণে তাদের বেশির ভাগই ওই সময় মিয়ানমার থেকে পালায়নি।

তা সত্ত্বেও তাদের গ্রামগুলো ধ্বংস করা হয়। ফলে তাদেরকে সরকারে নির্মিত ক্যাম্পে অবস্থান করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।

ওই সময় থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদের অবস্থা কারাগারের মতোই। অবশেষে গত সপ্তাহে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে তাদের অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করা হয়েছে। আর এতে বোঝা যাচ্ছে, যেমনটা আশঙ্কা করা হয়েছিল, তাদের অবস্থা তেমনই। এতে বলা হয়েছে, এসব উদ্বাস্তু ক্যাম্প আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে নয়। বরং এগুলো কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের মতো। এসব ক্যাম্প পুরোপুরিভাবে অর্থনৈতিকভাবে বদ্ধ, প্রত্যেকের জন্য পর্যাপ্ত খাবার জোটে না, শিক্ষার কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেই, স্বাস্থ্য পরিষেবা বা স্যানিটেশনের বালাই নেই। মনে হচ্ছে, সরকার তাদেরকে গবাদি পশুর মতো রেখে দিয়ে তাদের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে।

কয়েকজন এসব ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বিদেশে চলে যেতে সক্ষম হয়েছে। বস্তুত, ওই এলাকায় যখনই নৌকায় থাকা উদ্বাস্তুদের কথা শুনবেন, বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা এ ধরনের কোনো দেশে তাদের অবতরণের কথা শুনবেন, তখনই ধরে নিতে পারেন, তারা মিয়ানমারের এসব ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা উদ্বাস্তু। উদ্বাস্তুদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ পাঠানোর কথা বলে আদম পাচারকারীরা এসব লোককে নিয়ে রওনা হয়। কিন্তু বেশির ভাগই ওই পথে যেতে পারে না। তাদের অনেকের সলিল সমাধি হয়, অনেকে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে পড়ে, অনেক আবার জিম্মি হয়ে পড়ে বা ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি হয়। বিক্রি হওয়াদের বেশির ভাগের স্থান হয় থাইল্যান্ডের মাছধরা ট্রলারে। আর সেখানে তাদের মৃত্যু নিশ্চিতই বলা যায়।

অন্য দিকে তিন বছর আগে যারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে পেরেছিল, তাদের ভাগ্যবানই বলা যায়। তারাও তা জানে। নামকাওয়াস্তে মিয়ানমার সরকার তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু তাদের গ্রামগুলো অনেক আগেই ধ্বংস করা হয়েছে। এখন তারা ফিরতে হলে তাদেরকে ফিরতে হবে এসব কারা শিবিরে। এগুলোর অবস্থা বাংলাদেশের উদ্বাস্তু শিবিরগুলোর চেয়ে অনেক খারাপ।

আর এ কারণেই তারা বাংলাদেশেই থেকে যেতে চাচ্ছে। তিন বছর আগে যে মিয়ানমার তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, দেশটি এখনো তেমনই রয়ে গেছে। দেশটি এখনো যেকোনোভাবেই তাদেরকে বাদ দিতে বদ্ধপরিকর। আবারো তাদের তাড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেমে বা তাদের শুকিয়ে মারার ব্যবস্থা করবে। আর তা করা মানে খুন।

পালাবদল/এসএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]