অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ারবাজারের জন্য বিশেষ তহবিল
শেয়ারবাজারের জন্য বিশেষ তহবিল





নিজস্ব প্রতিবেদক
Monday, Feb 10, 2020, 11:34 pm
Update: 10.02.2020, 11:45:25 pm
 @palabadalnet

ঢাকা: শেয়ারবাজারে নতুন বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে পৃথকভাবে বিশেষ তহবিল গঠন করে সে বিষয়ে একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, যে কোনো তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা আকারের তহবিল গঠন করতে পারবে। চাইলে সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে রেপোর মাধ্যমে ঋণ নিতে পারবে সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

সোমবার রাতে এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজার পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারল্য সহায়তা প্রদানই এ তহবিল গঠনের উদ্দেশ্য।

গত দুই বছরের বেশি সময় অব্যাহত দরপতনের প্রেক্ষাপটে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছিল। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্মতি পেয়ে এমন তহবিল গঠনের বিষয়ে সার্কুলার করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বর্তমানে দেশে তফসিলি ব্যাংক ৫৯টি। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে আরও ৩৪টি। এই ৯৩টি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রতিটি ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করলে মোট ১৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার তহবিল হবে। তবে শেয়ারবাজারে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ নেই।

তহবিলের অর্থের উৎস

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, চাইলে প্রতিটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে। এ তহবিলের অর্থ সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উৎস থেকেই সংগ্রহ করবে। তবে চাইলে ইতোপূর্বে ক্রয়কৃত ট্রেজারি বিল বা বন্ড রেপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সমপরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।

রেপোর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো নিলাম হবে না। এ ক্ষেত্রে সুদহার হবে ৫ শতাংশ এবং মেয়াদ ৯০ দিন। চাইলে এই মেয়াদ ৯০ দিন করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ এ তহবিল থেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিলে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী তা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের হিসাবে যোগ হবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তহবিলের ব্যবহার

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগ্রহী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বা শেয়ারবাজার সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ঋণ প্রদানের জন্যই এ তহবিল গঠন করবে। তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠিত তহবিলের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ বা ৮০ কোটি টাকা নিজেই শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, তহবিলের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ মেয়াদি বা বেমেয়াদি বা উভয় প্রকার মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হবে। আরও ১০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে হবে স্পেশাল পারপাস ফান্ডে।

গঠিত তহবিলের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ নিজস্ব সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসকে ঋণ দেওয়া যাবে। এ ঋণের অর্থ সংশ্নিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠান শুধু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

এর বাইরে তহবিলের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ঋণ দেওয়া যাবে। এর বাইরে আরও ১০ শতাংশ অন্য যে কোনো ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংককে ঋণ হিসেবে বিতরণ করা যাবে। এসব ঋণের সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। সর্বোচ্চ মেয়াদকাল হবে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি।

কিসে বিনিয়োগ করা যাবে

বিশেষ এ তহবিলের অর্থ কোথায় বা কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করা যাবে- সে বিষয়ে নীতিমালা করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নীতিমালা অনুযায়ী যে কোনো শেয়ারে বিনিয়োগ করা যাবে না। সার্কুলারে বলা হয়েছে- সংশ্নিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনা যাবে না। এককভাবে অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ২ শতাংশের বেশি শেয়ার কেনা যাবে না। তালিকাভুক্ত অন্য কোনো কোম্পানির ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার কেনা যাবে না।

এমন সব কোম্পানির শেয়ার কিনতে হবে, যেগুলো গত তিন বছরে অন্তত ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে। তাছাড়া যেসব কোম্পানির ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার (বিনা ঘোষণায় যেসব শেয়ার বিক্রি করা যায়) ৭০ শতাংশের বেশি নয়।

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একক কোনো মেয়াদি ফান্ডের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ এবং বেমেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ইউনিট কেনা যাবে। তবে সর্বশেষ ৩ বছরে প্রতি বছর ৫ শতাংশের কম লভ্যাংশ দিয়েছে এমন কোনো ফান্ডে বিনিয়োগ করা যাবে না।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]