সোমবার ২৭ জানুয়ারি ২০২০ ১৩ মাঘ ১৪২৬
 
সারাবাংলা
১০ ডিসেম্বর মুক্তাগাছা মুক্ত দিবস
১০ ডিসেম্বর মুক্তাগাছা মুক্ত দিবস





হেলাল উদ্দিন নয়ন
Monday, Dec 9, 2019, 10:57 pm
Update: 09.12.2019, 11:01:04 pm
 @palabadalnet

মুক্তাগাছা: ১০ ডিসেম্বর। মুক্তাগাছা মুক্ত দিবস। পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তাগাছা শত্রু মুক্ত হয়। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয়  মুক্তাগাছা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বর্বর পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, গণহত্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে মুক্তাগাছার জনপদ। মুক্তিকামী জনতার সকল বাধা  অতিক্রম করে পাকবাহিনী ‘৭১ এর ২৩ এপ্রিল শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে জিপ ও ট্রাকের এক বিশাল বহর নিয়ে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহে আসার পথে দখল করে মুক্তাগাছা। এসময় রাস্তার দু’পাশের জনবসতির ওপর পাকবাহিনীর কনভয় থেকে বিরামহীন গুলি বর্ষণ এবং শহরের বিভিন্ন স্থান লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের ফলে পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপ। পাকসেনাদের গুলিতে শহীদ হন অনেকেই। 

২৩  এপ্রিলের আগে ৭০’এর নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য খোন্দকার আঃ মালেক শহীদুল্লাহ্ হানাদার বাহিনীর প্রতিরোধে শেকড় পর্যায়ে গড়ে তুলেন প্রতিরোধের দুর্গ। সামরিক সজ্জায় বলিয়ান না হলেও স্থানীয়ভাবে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি সামরিক কায়দায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এসময় খাদ্যের যোগান দেন ময়মনসিংহ ইপিআর কেম্পে অবস্থানরত বাঙালি জওয়ানদের। ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন থেকে ৫০ টি রাইফেল ও প্রচুর গোলাবারুদ সংগ্রহ করে প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করেন। এ সময় শিশির কুমার রক্ষিত, ফজলুল হক দুদু, আঃ হাই আকন্দ, হায়তুল্লা ফকির, মহিউদ্দিন আহমেদ, হুলাস চন্দ্র আগরওয়ালা, আঃ রহিম খান বাদশাসহ আরও অনেকে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন ।

২৯ মার্চ মেজর শফিউল্লাহ (পরে জেনারেল ও সেনা প্রধান) তার বাহিনীসহ মুক্তাগাছায় এসে মহাবিদ্যালয়ে স্থাপন করেন অস্থায়ী ক্যাম্প। আটানীবাজারে খোলা হয় আশ্রয় কেন্দ্র। সেই সাথে চালু হয় অস্থায়ী প্রশিক্ষণ শিবির। প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নায়েক আবু রুশদ (রজ)। পরে পর্যায় ক্রমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন অবসর প্রাপ্ত হাবিলদার রেফাজ উদ্দিন রেফাজ, সুবেদার আব্দুল হামিদ। সহযোগী হিসেবে ছিলেন বছির উদ্দিন (তছি সিপাই)। ২৫০ জন তরুণ এখানে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। 

এই শিবির থেকে বাছাই করা হয় ২৭ জন দুঃসাহসিক তরুণের একটি দল। যারা পাকহানাদারদের রুখবার জন্য ১০ এপ্রিল মধূপুরে অবস্থানরত অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগ দেয়। এসময় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবায় গঠিত হয় একটি চিকিৎসা দল। দৈনন্দিন যুদ্ধের খবরাখবর প্রচারের জন্য বিশেষ বুলেটিন প্রকাশ করা হয়। বেসামরিক প্রশাসন চালানোর জন্য স্থানীয়ভাবে কয়েকটি উপ কমিটিও গঠন করা হয়। 

অবশেষে পাকহানাদার বাহিনীর বিশাল বহরের আগমন বার্তা পেয়েই ২৩ এপ্রিল খোন্দকার আঃ মালেক শহীদুল্লাহ্সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সহযোগী লোকজন হালুয়াঘাট সীমান্ত অতিক্রম করে মেঘালয়ের ঢালুতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধের জন্য প্রেরণ করা হয় এ অঞ্চলে। এসময় যুদ্ধের খবরাখবর সম্বলিত সেখান থেকে প্রকাশিত হতো সাপ্তাহিক ‘মুক্তি’। ইবনে আদম ছদ্ম নামে এটি সম্পাদনা করতেন খোন্দকার আঃ মালেক শহীদুল্লাহ্। 

২৩ এপ্রিল থেকে মুক্তাগাছার বিভিন্ন জনপদে শুরু হয় হত্যা, অগ্নিসংযোগ,লুটতরাজ, নারী নির্যাতনসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। বেশ কয়েকটি স্থানে গণহত্যা সংগঠিত হয়। ভিটিবাড়ি গ্রামে মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকহানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ ছিল সবচেয়ে দুঃসাহসিক। এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর কাছে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা টিকতে না পেরে পলায়ন করে। বেশ কয়েকজন রাজাকার এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধৃত হয় এবং পরে তাদের হত্যা করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা তাণ্ডবে পাকহানাদার বাহিনী বিরাট সামরিক কনভয় নিয়ে ১০ ডিসেম্বর প্রথম প্রহরে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায় পাশের জেলা টাঙ্গাইলের দিকে। পূবর্ দিগন্তে রক্তিম সূর্য উদয়ের সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধা ও হাজার হাজার মুক্তিপাগল মানুষ সবুজের মাঝে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা হাতে বিজয়ের শ্লোগান দিতে দিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তুলে। হানাদার মুক্ত হয় মুক্তাগাছা। এদিনটিকে পালনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি পালন করে থাকে। 

পালাবদল/এসএস


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]