মিডিয়া
বিএফইউজে (একাংশ) নির্বাচনে বিজয়ীদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর আজ
বিএফইউজে (একাংশ) নির্বাচনে বিজয়ীদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর আজ





নিজস্ব প্রতিবেদক
Tuesday, Nov 17, 2020, 2:17 am
Update: 17.11.2020, 5:02:18 pm
 @palabadalnet

বিএফইউজে’র নতুন সভাপতি এম আবদুল্লাহ মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন

বিএফইউজে’র নতুন সভাপতি এম আবদুল্লাহ মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন

ঢাকা: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) একাংশের নির্বাচনে বিজয়ীদের কাছে আজ মঙ্গলবার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

বিএফইউজে’র এই অংশটি হলো বিএনপি-জামায়াত গ্রুপের। 

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি-জামায়াত গ্রুপের ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও বিএফইউজে জামায়াতের একচ্ছত্র আধিপত্য চলছে। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতিরা ডিইউজে’র পদে থাকায় তারা ইচ্ছেমতো সদস্য বানিয়েছে। এই নতুন সদস্যদের অধিকাংশ অসাংবাদিক এবং দলীয় ক্যাডার। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে জামায়াত উদার হস্তে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে। এর জন্য তারা বিএনপিপন্থি বলে পরিচিত বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নেতাকে দীর্ঘদিন ‘লালন-পালন’ করেছে। আর এই নেতারা অসাংবাদিক এবং জামায়াতের ‘রুকন’কে ডিইউজের নেতা বানিয়েছেন। ফলে বর্তমানে অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে ডিইউজেতে বিএনপিপন্থি সাংবাদিকরা চরমভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। সবশেষ ডিইউজে’র নির্বাচনে জামায়াতের কাছে বিএনপিপন্থিরা গো-হারা হারে। আর এতে বিএনপিপন্থি সাংবাদিক নেতারা অপাঙক্তেয় হয়ে পড়েন।

শনিবার অনুষ্ঠিত বিএফইউজে নির্বাচনে বিএনপিপন্থি সাংবাদিকরা একাট্টা হয়ে মাঠে নামে। বিএনপি ও জামায়াতপন্থি সাংবাদিকরা পৃথক দুটো প্যানেলে মুখোমুখি হয়। জামায়াত তার দলীয় ক্যাডারদের মাঠে নামায়। নির্বাচন শেষে ভোট গণনার আগে জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর দুই নেতা জাতীয় প্রেস ক্লাবে দলীয় ক্যাডারের সঙ্গে নিয়ে মহড়া দিয়ে যান। 

কিন্তু ফলাফল তাদের অনুকূলে আসেনি। 

নির্বাচনে বিএনপিপন্থি এম আবদুল্লাহ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহাসচিব হয়েছেন বিএনপিপন্থি নুরুল আমিন রোকন। ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান কায়কোবাদ মিলন। এর আগে বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ  হয়। সকাল ৯টায় দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এম আবদুল্লাহ প্যানেল থেকে সভাপতি ও মহাসচিবসহ ১০ জন এবং রুহুল আমিন গাজীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে একটি সহ-সভাপতি পদসহ ৯ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। সভাপতি পদে এম আবদুল্লাহ পান ১৫৯ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী রুহুল আমিন গাজী পান ১৫০ ভোট। মোট ৩২৮ জন ভোটারের মধ্যে ৩১৪ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সারাদেশের ১২টি অঙ্গ ইউনিয়ন থেকে প্রতি দশ জনে একজন কাউন্সিলর নির্বাচন করে পাঠানো হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারাই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

নির্বাহী পরিষদের ১৮টি পদে ভোট গ্রহণ করা হয়। ১৯টি পদের মধ্যে অপর পদটি মহাসচিবের। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুস শহীদ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করায় অপর প্রার্থী নুরুল আমিন রোকনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচিত অপর কর্মকর্তারা হচ্ছেন: তিন জন সহ-সভাপতি মোদাব্বের হোসেন, রাশিদুল ইসলাম ও ওবায়দুর রহমান শাহীন, তিন জন সহকারী মহাসচিব নাসির আল মামুন, শফিউল আলম দোলন ও শহীদুল্লাহ মিয়াজি, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, সাংগঠনিক সম্পাদক খুরশিদ আলম, দফতর সম্পাদক তোফায়েল হোসেন এবং প্রচার সম্পাদক মাহমুদ হাসান। নির্বাহী সদস্যের সাতটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন এইচ এম আলাউদ্দিন, জিয়াউর রহমান মধু, আবদুস সেলিম, শামসুদ্দিন হারুন, আবু বকর মিয়া, একেএম মোহসিন ও মো. জাকির হোসেন।

নির্বাচনের কিছুদিন আগে জামায়াতে প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী রুহুল আমিন গাজী ডিজিটাল আইনে গ্রেফতার হন। তিনি কারগার থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবং পরাজিত হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জামায়াতের হয়ে ডিইউজে ও বিএফইউজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হলো।

এবারের বিএফইউজে’র নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, কমিটিতে সংগ্রামের কোনো প্রতিনিধি নেই। অন্তত তিন যুগ পর এই প্রথম দৈনিক সংগ্রামমুক্ত বিএফইউজে’র কমিটি হলো।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]