বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৭ ফাল্গুন ১৪২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
আসামে সরকারি মাদ্রাসা বন্ধ করা হবে
আসামে সরকারি মাদ্রাসা বন্ধ করা হবে





বিবিসি
Thursday, Feb 13, 2020, 5:26 pm
Update: 14.02.2020, 1:27:36 am
 @palabadalnet

জনগণের অর্থে কোনো ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে আসাম সরকার। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা আর সংস্কৃত টোল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসাম সরকার।

জনগণের অর্থে কোনো ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন আসামের অতি প্রভাবশালী শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

বুধবার এক অনুষ্ঠানের শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, " কেউ যদি ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে চান, তাহলে বলার কিছু নেই। কিন্তু সরকারি অর্থে সেটা চলতে পারে না। যদি আরবি শিক্ষা দিতে হয়, তাহলে গীতা বা বাইবেল শিক্ষারও ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।"

আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই সব সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা আর সংস্কৃত টোল বন্ধ করে দিয়ে সেগুলিকে হাইস্কুলে পরিণত করা হবে বলেও মন্ত্রী জানিয়েছেন।

মাদ্রাসা বা টোলগুলিতে যারা ধর্মশিক্ষা দেন, তাদের যতদিন চাকরী বাকি আছে, ততদিনই মাসে মাসে বেতন পেয়ে যাবেন, আর যারা অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষক রয়েছেন, তাদের স্কুলে পড়াতে হবে।

বিশ্বশর্মা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "এই সিদ্ধান্ত কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয় নি। সংস্কৃত টোলও তো বন্ধ করা হচ্ছে!

তার এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আসাম সংখ্যালঘু ছাত্র ইউনিয়ন বা আমসুর প্রধান রেজাউল করিম সরকার বলেন, "তিনি মুখে যতই বলুন না কেন যেকোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি, তবে বিশ্বশর্মার টার্গেট হচ্ছে মুসলমানরা। অসমে কীভাবে মুসলমানদের কোণঠাসা করে দেওয়া যায়, সেই কাজই তিনি করে চলেছেন একের পর এক - তা সে এনআরসি হোক বা মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত," বলেন সরকার।

তিনি আরো বলেন, "টোল বা মাদ্রাসাগুলি বন্ধ না করে সেগুলিকে উন্নত করার কথা কেন ভাবা হল না? যে ধর্মীয় শিক্ষা তো টোল বা মাদ্রাসাতে দেওয়া হয়, তা তো আসলে সুস্থ সমাজ গড়ার জন্য, যেখানে কোনো হিংসা বা দ্বেষ থাকবে না। সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে সরকার চাইছে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা বিদ্বেষ ছড়াক আর তা থেকে আগামী বছরের নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণ হোক।"

আসামে এখন ৬১৪টি স্বীকৃত মাদ্রাসা রয়েছে, যেগুলি পরিচালনা করে রাজ্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। সংস্কৃত টোল বা বিদ্যালয় রয়েছে এক হাজারেরও বেশি, কিন্তু সরকারি সাহায্য পায় মাত্র ৯৭টি টোল।

সেগুলিতেও ছাত্র সংখ্যা হাতে গোনা, কারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সংস্কৃত পড়ার আগ্রহ খুবই কম।

আসামে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল ১৭৮০ সালে।

রাজ্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, "আসামের মাদ্রাসা শিক্ষা আন্তর্জাতিক স্তরেও স্বীকৃতি পেয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীক হিসাবে। এমনকি পাকিস্তানে মাদ্রাসাগুলিতে যেভাবে কট্টর ইসলামি শিক্ষা দেওয়া হয়, তাদেরও আসামের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শেখা উচিত।"

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আরো লিখেছে যে "২০০৯ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে শিক্ষার উঁচু মানের কারণে অ-মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা বড় সংখ্যায় মাদ্রাসায় পড়তে আসছে।"

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]