শনিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
পশ্চিমা পণবন্দীর বিনিময়ে মুক্তি পাচ্ছে তিন তালেবান নেতা
পশ্চিমা পণবন্দীর বিনিময়ে মুক্তি পাচ্ছে তিন তালেবান নেতা





দ্য গার্ডিয়ান
Thursday, Nov 14, 2019, 12:16 am
 @palabadalnet

 কেভিন কিং (বাঁয়ে) ও টিমোথি উইকিস

কেভিন কিং (বাঁয়ে) ও টিমোথি উইকিস

অপহৃত আমেরিকান ও অস্ট্রেলিয়ান দুই অধ্যাপকের মুক্তির বিনিময়ে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট তিন তালেবান যোদ্ধাকে মুক্তি দানের নির্দেশ দিয়েছেন।

অপহৃত ব্যক্তিরা হলেন নিউ সাউথ ওয়েলেসের টিমোথি উইকস ও পেনসিলভেনিয়ার কেভিন কিং। তিন বছর আগে তালেবান যোদ্ধারা সামরিক উর্দি গায়ে দিয়ে ছদ্মবেশে কাবুলে আমেরিকার ইউনিভার্সিটির বাইরে থেকে এই দুইজনকে অপহরণ করে।

সোমবার এক টেলিভিশন ভাষনে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেন যে এই বন্দি বিনিময়ের শর্তে তালেবান সমর্থিত হাক্কানি নেটওয়ার্কের তিনজন বন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের বাইরে গ্রেফতার হওয়া এই তিন বন্দীকে মুক্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা, যাতে সরাসরি আলোচনার পথ প্রশস্ত করা যায়।

এই বন্দী বিনিময় সফল হলে তা হবে তালেবান ও মার্কিন সমর্থিত কাবুল সরকারের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগিত প্রথম লক্ষণ। গত সেপ্টেম্বরে তালেবান ও মার্কিন সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা বাতিল করেন।

২০১৬ সালের আগস্টে বন্দুকের নলের মুখে  ৫০ বছর বয়সি উইকিস ও ৬৩ বছর বয়সী কিংকে অপহরণ করা হয়। পরে তাদের উদ্ধারে মার্কিন সিল বাহিনী অনেক অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়।

২০১৭ সালে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায় যে এই দুইজন তাদের অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা তাদের মুক্ত করতে তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য মার্কিন সরকারকে রাজি করায়। ২০১৭ সালের জুনে আরেক ভিডিওতে তালেবান জানায় যে কিং হার্ট ও কিডনির গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন।

তখন তালেবানের বিবৃতিতে বলা হয়: আমরা তাদেরকে সময়ে সময়ে চিকিৎসা প্রদানের চেষ্টা করছি কিন্তু আমাদের তেমন চিকিৎসা সুবিধা নেই এবং আমরা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি।

এর আগে এক তালেবান কমান্ডার এই পত্রিকাকে বলেছিলেন যে তারা আমেরিকান ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের বিপজ্জনক বিবেচনা করেন কারণ তারা সমাজের মনোভাব বদলে দিচ্ছেন।

ঘানি বলেন যে তালেবানদের মুক্তির ব্যাপারে তাকে অনেক কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তালেবান বন্দীদের মধ্যে হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধানের ভাই আনাস হাক্কানি ও আরেক সিনিয়র নেতা হাফিজ রশিদ রয়েছে।

তালেবানের আগেই হাক্কানি নেটওয়ার্ক গঠিত। পরে এটি তালেবানদের সঙ্গে একীভূত হয়। ২০০১ সাল থেকে মার্কিন বিরোধী যুদ্ধে এই গ্রুপটি সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর কয়েকটির সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হয়।

২০১৪ সালে বাহারাইন থেকে আনাস হাক্কানিকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে আরব দেশগুলো থেকে চাঁদা ও সামাজিক গণমাধ্যমে সদস্য সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়। তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। তালেবান অনেক দিন ধরেই তার মুক্তি দাবি করে আসছিলো।

দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তোনে হাক্কানি নেটওয়ার্কের কমান্ডার রশিদ এবং তার বিরুদ্ধে টার্গেট নির্ধারণ ও আত্মঘাতি বোমাবাজদের সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।

তৃতীয় বন্দী হাজি মালি খানও হাক্কানি নেটওয়ার্কের একজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার।

এক বিবৃতিতে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব আফগানিস্তান এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে।

আফগানিস্তানের ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান প্রায় কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিলো। শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প তা বানচাল করে দেন। ওই অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির বেশিরভাগ শর্ত গোপন থাকলেও তাতে ২০২০ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫,০০০ সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিলো। এর বিনিময়ে আল-কায়দার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার অঙ্গীকার করে তালেবান এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিকে আইএস-এর ঘাঁটিতে পরিণত হতে না দেয়ার অঙ্গীকার করে।

পালাবদল/এমএম

 


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]