সোমবার ১৮ নভেম্বর ২০১৯ ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
প্রতিরক্ষা
কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা: পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক সীমান্ত
কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা: পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক সীমান্ত





পালাবদল ডেস্ক
Saturday, Nov 2, 2019, 2:33 pm
Update: 02.11.2019, 2:35:03 pm
 @palabadalnet

১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে যখন ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয়, তখন থেকেই দুই দেশ পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। দুই দেশের মধ্যে ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৭৪ ও ১৯৯৯ সালে যুদ্ধ হয়েছে এবং ২০০৮ সালেও তারা যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল। ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ ছিল বিশেষভাবে বিপজ্জনক কারণ দুই দেশই তখন পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। উপমহাদেশে কোন যুদ্ধ যদি পারমাণবিক রূপ নেয়, তাহলে সেটা কতটা ভয়ানক হতে পারে?

ভারত তাদের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ১৯৭৪ সালের মে মাসে, যেটার কোডনেম ছিল স্মাইলিং বুদ্ধা। ১৯৬২ সালে চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর এই বোমা পরীক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয় ভারত। বর্তমানে ভারতের ৯০টি থেকে ১১০টির মতো পারমাণবিক ওয়্যারহেড রয়েছে, যেগুলো তাদের স্থল, বিমান ও নৌ বাহিনীর সক্ষম সরঞ্জামগুলোর মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে। পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে ১১০টি থেকে ১৩০টির মতো। তাদের এই সংখ্যা নিয়মিত বাড়ছে বলে ধারণা করা হয়। ২০১৫ সালে কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড অ্যান্ড দ্য স্টিমসন সেন্টার জানায় যে, পাকিস্তানের বছর ২০টির মতো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। এই হিসেবে পাকিস্তান সহজেই বিশ্বের চতুর্থ এমনকি তৃতীয় বৃহৎ পারমাণবিক শক্তিধারী দেশ হয়ে উঠতে পারে।

পারমাণবিক যুদ্ধের চেহারা কেমন হবে? দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক যুদ্ধের শুরুটা কনভেনশনাল যুদ্ধ দিয়েই হবে এবং সীমান্তে সঙ্ঘাত থেকে সেটা শুরু হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। সীমান্তের সঙ্ঘাত মাত্রা ছাড়ালে সেটা স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে যুদ্ধের আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যারা হেরে যাবে, তারাই হয়তো প্রধান শহরগুলোতে ট্যাঙ্কগুলো সরিয়ে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে পারে।

ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র হয়তো যুদ্ধে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে পারে, কিন্তু সেটা পুরোমাত্রায় পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে আসবে। বিজয়ী পক্ষ যখন দেখবে যে, প্রতিপক্ষ পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে, তখন তারা ব্যাপক মাত্রায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। শুধু প্রতিপক্ষের পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করার জন্য নয়, বরং তাদের সরকারকেও পঙ্গু করে দেয়ার জন্য যাতে তারা পাল্টা হামলা চালাতে না পারে। পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র, পরিচিত পারমাণবিক অস্ত্র কারখানা, বিমান ঘাঁটি যেখান থেকে পারমাণবিক অস্ত্রবাহী বিমান ওঠানামা করবে, সামরিক পোস্ট ও সামরিক সদরদপ্তরগুলোকে টার্গেট করে হামলা করা হতে পারে। এই সব স্থাপনার অনেকগুলোই মেট্রোপলিটন এলাকার আশেপাশে রয়েছে এবং যুদ্ধের সময় সেখানে ব্যাপক বেসামরিক মানুষ হতাহত হবে।

পারমাণবিক অস্ত্রের পাল্টাপাল্টি ব্যবহার যখন শুরু হবে, যখন প্রতিশোধের মাত্রাও বেড়ে যাবে এবং বহু মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হবে। ভারত ১৯৯৮ সালে যে ধরণের পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষার চেষ্টা করেছিল, সেই ধরণের দুই শত কিলোটন থার্মোনিউক্লিয়ার অস্ত্র ইসলামাবাদে ফেলা হলে সেখানে প্রায় ২২৫,০০০ মানুষের মৃত্যু হবে এবং আহত হবে আরও ৪৪২,০০০ জন। পঞ্চাশ কিলোটনের বোমা করাচিতে ফেলা হলে সেখানে আট লক্ষ মানুষ নিহত হবে আর আহত হবে আরও ১.৮ মিলিয়ন।

অন্যদিকে পাকিস্তান যদি নয়া দিল্লিতে ৫০ কিলোটন বোমা ফেলে তাহলে সেখানে ৪৬৮,০০০ জন মানুষ মারা যাবে আর আহত হবে ১.৫ মিলিয়ন। একই মাত্রার বোমা মুম্বাইয়ে ফেলা হলে একই ধরণের হতাহতের ঘটনা ঘটবে এবং জয়পুরে ফেলা হলে সেখানে ১.৩ মিলিয়ন হতাহত হবে। উভয় পক্ষেই ক্ষয়ক্ষতি হবে ভয়াবহ এবং স্থানীয় প্রশাসন ভেঙ্গে পড়বে এবং সমাজের উপর থেকে তারা নিয়ন্ত্রণ হারাবে।

কোন পক্ষই এখানে যুদ্ধ চায় না। বিপদ হলো সীমান্তে যে সব সঙ্ঘাত হয়, সেগুলোর কোন একটি মাত্রা ছাড়িয়ে প্রথমে কনভেনশনাল যুদ্ধ এবং পরে সেটা পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। আগের কনভেনশনাল যুদ্ধে এক দেশ হেরে গেছে, কিন্তু পারমাণবিক যুদ্ধে দুই পক্ষই হারবে, বহু মিলিয়ন মানুষ নিহত হবে এবং দুই দেশই বহু দশক পিছিয়ে যাবে। দুই দেশেরই পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত রাখার চুক্তি করাটা তাই গুরুত্বপূর্ণ। একবার পারমাণবিক বোমা যখন ব্যবহৃত হবে, তখন সেখানে জয়ের কিছু থাকবে না, টিকে থাকাটাও সেখানে কঠিন হয়ে যাবে।
সূত্র: ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]