দক্ষিণ এশিয়া
শ্রীলঙ্কার তামিল সংখ্যালঘুরা রাজনৈতিকভাবে আরও ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে
শ্রীলঙ্কার তামিল সংখ্যালঘুরা রাজনৈতিকভাবে আরও ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে





দ্য ইকোনমিস্ট
Friday, Nov 27, 2020, 11:01 pm
Update: 27.11.2020, 11:07:04 pm
 @palabadalnet

জাফনার মেয়র এমানুয়েল আরনল্ডের ডেস্কের উপরে তিন হিন্দু দেবতার পাশাপাশি বুদ্ধ, যীশু আর মদীনার নবীর মসজিদের প্রতিকৃতি ঝুলছে। তাকে শহরের সব ধর্মকেই শ্রদ্ধা করতে হয়, ব্যাখ্যা করে বললেন তিনি। দেশের সবচেয়ে বড় জাতিগত গোষ্ঠি হলো বৌদ্ধ, উত্তরের তামিলের অধিকাংশই হিন্দু, আর ক্ষুদ্র খ্রিস্টান ও মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠিতো রয়েছেই।  (আরনল্ড নিজে খ্রিস্টান)। কিন্তু তার ডেস্কে ধর্মীয় সম্মিলন থাকলেও জাফনাতে এখন ঐক্যের তেমন অস্তিত্ব নেই। তামিলদের নিজেদের মধ্যেই ঐক্য নেই, বিভিন্ন ধর্ম আর জাতির মধ্যে তো দূরের কথা। 

২০০৯ সালে সরকার যখন তামিল টাইগারদের হারিয়ে দেয়, তখন তামিলদের স্বাধীন মাতৃভূমির আশা ধসে পড়ে। কিন্তু উত্তরের অনেকেই এখনও স্বায়ত্বশাসন চায়। ১৯৮৭ সালের সংবিধানের সংশোধনীতে এই প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও কখনও সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গোতাবায়া রাজাপাকসা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনের উদ্বেগ চেপে বসেছে, কারণ গোতাবায়া তামিল টাইগারদের পরাজিত করার ব্যাপারে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন এবং সে সময় বহু বেসামরিক তামিলও নিহত হয়েছিল। 

প্রায় ২০ বছর ধরে শ্রীলঙ্কায় তামিলদের প্রতিনিধিত্ব করেছে মূলত তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (টিএনএ)। বহুদলীয় এই জোটের নেতৃত্ব দিয়েছে মি. আরনল্ডের ইল্লানকাই তামিল আরাসু কাচ্চি (আইটিএকে) দল। কিন্তু আগস্টের নির্বাচনে ২২৫ আসনের পার্লামেন্টে তাদের আসন সংখ্যা ১৬ থেকে কমে ১০ এ নেমে এসেছে। 

টিএনএ’র মুখপাত্র ও এমপি মাথিয়াপারানান সুমানথিরান এই পরাজয়ের কারণ হিসেবে আগের মৈত্রিপালা সিরিসেনা সরকারের সাথে স্বায়ত্বশাসনের প্রশ্নে চুক্তিরর ব্যাপারে টিএনএ’র ব্যর্থতাকে দায়ি করেছেন। বর্তমান প্রেসিডেন্টের ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসার বিপরীতে ২০১৫ সালে সিরিসেনার বিস্ময়কর বিজয়ের পেছনে টিএনএ’র বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু সিরিসেনা উত্তরাঞ্চলের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের ব্যাপারে অবহেলা করেছেন। একইভাবে নতুন সংবিধান গ্রহণের বিষয়টিও চাপা পড়ে গেছে এবং এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন প্রস্তাব ওঠানো হয়নি। সিরিসেনা তার প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঝগড়া শুরু করেন এবং অধিকাংশ সংস্কারের ইস্যুগুলো বাদ পড়ে যায়। সুমানথিরান আফসোসের সাথে বলেন, “আমরা একটা পক্ষের উপর সব ভরসা করে বসেছিলাম”। 

ফলে তামিল রাজনীতি বিভক্ত হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কানাগাসাবাপাথি বিগ্নেসরন – যিনি আগে নর্দার্ন প্রভিন্সের মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন, তিনি টিএনএ থেকে বেরিয়ে নিজের দল গঠন করেছেন। আগস্টের নির্বাচনে একটি আসন পেয়েছেন তিনি। আরেক তামিল জাতীয়তাবাদী গজেন্দ্রকুমার পোন্নামাবালামও আইটিএকে থেকে আলাদা হয়ে গেছেন। আরও অনেকে রাজাপাকসা ভাইদের শ্রীলঙ্কা পিপলস ফ্রন্টের (এসএলএফপি) সাথে গিয়ে জুটেছে এই যুক্তিতে যে, তারা অন্তত উন্নয়নের তহবিলটা যোগাতে পারবে। এদের একজন আনগাজান রামানাথান, যিনি একটি আসনে জিতেছেন। সত্তরোর্ধ প্রাদেশিক কাউন্সিলর ভেলুপিল্লাই সিভাগনাম আইটিএকের সাথে আছেন। তিনি বলছেন তার স্মরণকালে এতগুলো আলাদা তামিল দল তিনি কখনও দেখেননি। 

পার্লামেন্টে দেয়া প্রথম বক্তৃতায় মি বিগ্নেসরন তামিলদের স্বাধিকারের দাবি জানান। তামিল অ্যাক্টিভিস্ট সিঙ্গারাভেলু কুমারাভেল বলেন, অনেক তামিল এটাই চায় এবং বিগ্নেসরন সেই দাবিটাই জানিয়েছেন। 

তবে অনেক তরুণ তামিল এই বিচ্ছিন্নতার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের কোন স্মৃতি তাদের নেই বলে জানান জাফনা ইউনিভার্সিটির সিভাসুব্রামানিয়াম রাগুরাম। তাদের আশা হলো ভালো চাকরি, এবং সে জন্যই তারা এসএলএফপির ঘনিষ্ঠ হয়েছে। মি রাগুরাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আরও বেশি তরুণ উজ্জীবিত ব্যক্তিরা না থাকলে ‘মুক্তি সংগ্রামের’ ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো হবে না। 

সুমানথিরান অবশ্য আরও আশাবাদী। তিনি সন্দেহ করছেন মি. রাজাপাকসার সরকার সিংহলী জাতীয়তাবাদকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং এমনভাবে তামিলদের ব্যাপারে বৈষম্যমূলক রাজনীতির দিকে এগুবে যে, তামিলরা অবশ্যম্ভাবীভাবে আবার একত্র হবে। নতুন পার্লামেন্ট এরই মধ্যে বেশ কিছু সাংবিধানিক সংশোধন করেছে, এবং রাজাপাকসা সম্পূর্ণ নতুন সংবিধান চান, কিন্তু তামিলদের স্বায়ত্বশাসনের বিষয়টি কখনই সেখানে আসেনি। 

পালাবদল/এসএস


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]