শনিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
নাগা শান্তি আলোচনা: সময়সীমা শেষ, কিন্তু সমাপ্তির আলামত নেই
নাগা শান্তি আলোচনা: সময়সীমা শেষ, কিন্তু সমাপ্তির আলামত নেই





পালাবদল ডেস্ক
Monday, Nov 18, 2019, 2:16 pm
 @palabadalnet

চড়াই-উৎড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নাগা শান্তি আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় উপনীত হতে অনেক দেরী। অবশ্য, ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবরের চূড়ান্ত সময়সীমা অতিবাহিত হয়ে গেলেও আলোচনা ভেঙে যায়নি।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যস্ততাকারী ও নাগাল্যান্ডের গভর্নর আর এন রবি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ন্যাশনাল সোস্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড ও অন্যান্য নাগাগ্রুপ এখনো আলোচনায় রয়েছে এবং শিগগিরই চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে।

নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী ইস্যুটির সৃষ্টি উপনিবেশ আমল থেকে। ভারতের স্বাধীনতার সময় থেকে ফিজোর নেতৃত্বে নাগা ন্যাশনালিস্ট কাউন্সিল (এনএনসি) সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য একটি সেনাবাহিনী সৃষ্টি করেছে। তারা নাগাল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র ও নাগা ফেডারেল সরকারও গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। পরে ভারত সরকার নিরাপত্তাগত কারণে এএফএসপিএ আরোপ করে।

সরকারের প্রয়াসের ফলে এনএনসি আলোচনার টেবিলে আসে এবং ১৯৭৫ সালে শিলং চুক্তি হয়। তবে এনএনসির একটি অংশ এই চুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। ফলে দলটি ভেঙে ন্যাশনাল সোস্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড-আইজ্যাক মুইভা (এনএসসিএন-আইএম) ও এনএসসিএন-খাপলাং (কে) গঠিত হয়। এসব গ্রুপ গ্রেটার নাগালিম গঠনের দাবি অব্যাহত রাখে। তারা এর মাধ্যমে মনিপুর, অরুনাচল প্রদেশ, আসাম, মিজোরাম এবং এমনকি মিয়ানমারের নাগা অধ্যুষিত এলাকাগুলো নিয়ে আলাদা নাগা রাজ্য গঠনের দাবি জানাতে থাকে।

তারা তাদের সশস্ত্র সংগ্রাম অব্যাহত রাখে, ফলে ওইসব এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এমএনসিএন-আইএম ও এনএসসিএন-কে’কে আলোচনার টেবিলে হাজির করে। এনএসসিএন-আইএম অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাতের কারণে চায়নি এনএসসিএন-কেও মনোযোগ আকর্ষণ করুক।

অনেক বছরের চেষ্টার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার ও এনএসসিএন-আইএমের মধ্যে ১৯৯৭ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। পরে ২০০১ সালে এনএসসিএন-কের সাথেও চুক্তি হয়। অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকার কখনো বৃহত্তর নাগালিমের অংশ হিসেবে মিয়ানমারের কিছু ভূখণ্ড তাতে সামিল করার দাবিতে স্বস্তি অনুভব করেনি।

ভারত সরকার ২০১৫ সালে এনএসসিএন-আইএমের সাথে একটি কাঠামো চুক্তিতে সই করে। এর ফলে এনএসসিএন-কে নিজেকে পরিত্যক্ত মনে করে ভারতীয় সেনাবহরে হামলা চালায়, নিহত হয় ১৮ ভারতীয় সেনা। ভারত সরকার এনএসসিএন-কে’কে নিষিদ্ধ করে এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে মিয়ানমারে প্রবেশ করেও হামলা চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

এনএসসিএন-আইএম’র সাথে আলোচনার সময় তাদের আলাদা পতাকা ও সংবিধানের দাবিটিরও সুরাহা করতে হবে। সার্বভৌম ও অখণ্ড ভারতের কাছে এ দাবি অগ্রহণযোগ্য। এই যুক্তিতেই কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের এই বিশেষ অধিকার বাতিল করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারত সরকারের মধ্যস্ততাকারী আর এন রবি অন্যান্য নাগা রাজনৈতিক দলকে নাগা ন্যাশনাল পলিটিক্যাল গ্রুপের নামে একত্রিত করেছে। এটা ছিল একটি দারুণ চাল। এতে এনএসসিএন-আইএমের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এতে তারা চূড়ান্ত সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পরও আলোচনা ছেড়ে বের হয়ে যায়নি।

এখন সরকার আশ্বাস দিচ্ছে যে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সমঝোতা হবে। তবে মনিপুর ও আসাম প্রতিবাদ করছে, তারা তাদের কোনো ভূখণ্ড নাগাদের দিতে রাজি নয়।

মনিপুরে সম্ভাব্য নাগা চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মনিপুর ইন্টিগ্রিটি। কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর অখণ্ডতার আশ্বাস দিচ্ছে।

এর ফলে মধ্যস্ততাকারী আর এন রবির কাজ আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পর্যায়ে শিডিউল ৭ রেখায় থাকা স্বায়ত্তশাসিত জেলাগুলো হতে পারে যুতসই সমাধান। এতে নাগা এলাকাগুলোতে তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত স্বায়ত্তশাসন দেয়া হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারকে অবশ্য উত্তরপূর্বের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যও অনেক কিছু করতে হবে। সরকার একটি ত্রিপক্ষীয় মহাসড়ক (মোরে থেকে মান্দালয় ও মাসত পর্যন্ত) নির্মাণ করতে পারে বা কালাদান মাল্টিমডেল করিডোরকে উত্তর-পূর্বের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এতে করে উত্তর পূর্ব এলাকাটি সম্মিলিতভাবে মূলধারার ভারতের মধ্যেই কাজ করতে পারবে। এতে এলাকাটি ভারতের প্রবৃদ্ধির উজ্জ্বল বিন্দুতে পরিণত হবে। সূত্র: ওয়াইকেএ

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]