লাইফস্টাইল
সুখের হোক দ্বিতীয়বারের বিবাহ
সুখের হোক দ্বিতীয়বারের বিবাহ





পালাবদল ডেস্ক
Thursday, May 20, 2021, 4:36 pm
 @palabadalnet

দ্বিতীয় ইনিংসও সুখের হয়

দ্বিতীয় ইনিংসও সুখের হয়

সুজানার ছয় স্বামী। প্রত্যেকেই নির্মম অত্যাচারী। একেক জনের বিকৃত কামনার শিকার হতে হয়েছিল সুজানাকে। কোনও ঝুঁকি নেয়নি সে। অকপটে খুন করে ফেলছে তাদের। লোকে জেনেছে তারা হয় নিখোঁজ, নয়তো অপঘাতে মৃত। খুনের কোনও প্রমাণ কেউ কোনোদিন পায়নি। প্রতিবার সম্পর্ক শুরু সময়ই সুজানা ভাবত এইবার মনের মানুষটিকে খুঁজে পেয়েছে সে। কিন্তু না। প্রতিবারই ভুল ভেবেছিল। সুজানার ভাগ্যে স্বামীর সুখ ছিল না। শেষ বয়সে প্রভু যিশুখ্রীস্টের কাছেই সে নিজেকে সমর্পণ করে।

রাস্কিন বন্ডের ছোটো গল্প 'সুজানাস্ সেভেন হাজব্যান্ড' অনেকেই পড়েছেন। গল্পটি পড়ে অনেকেরই গায়ে কাঁটা দিয়েছিল। অনেকেরই মনে হয়েছিল বারবার পুরুষের হাতে সুজানা ধরা না দিলেই পারত।

আসলে সুজানা একা নয়, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষই নিজের সঠিক জীবনসঙ্গীর স্বপ্ন দেখেন। অনেক সময়ই খারাপ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে নতুন সম্পর্ক তৈরি করেন। সাতপাকে বাধা পড়ার প্রথম অভিজ্ঞতা খারাপ হলেও দ্বিতীয় অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হতে পারে ভেবেও অনেকে নতুন সম্পর্ক শুরু করেন।

সেলিব্রিটিদের মধ্যে একাধির বিবাহের রেওয়াজের কথা লোকের মুখে মুখে ফেরে। অঢেল খরচ এবং লোক দেখানো জাঁকজমক করে সেলিব্রিটিদের বিয়ে করার পর বিবাহ বিচ্ছেদের গল্প সাধারণ মানুষের কাছে আলোচনা এবং তামাশার খোরাক হয়। কোন পরিস্থিতি থেকে সম্পর্কে বিচ্ছেদ হয়েছে সেসব তলিয়ে দেখার কথা কেউ ভাবেন না। আবার সেলিব্রিটিদের আচরণেও তা বোঝার উপায় নেই।

কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবন তো আর সেলিব্রিটিদের মতো নয়। দুঃখ-কষ্ট-সমস্যা সব মিলিয়েই তাদের জীবন। তাই প্রথম বিয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলে বিচ্ছেদের পর অনেকেই দ্বিতীয়বার বিয়েতে রাজি হন না। সেই তিক্ততার স্মৃতি দীর্ঘদিন বয়ে যেতে হয় তাদের। যদিও সময় সেই আঘাতে প্রলেপ দিতে শুরু করে। শেষপর্যন্ত অনেকেই আবার দ্বিতীয় বিবাহের সম্মত হন। কিংবা নিজেই পছন্দ করে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বার যাতে পুনরায় তিক্ত সম্পর্ক তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। ছোটখাটো কিছু বিষয় মাথায় রাখলেই দ্বিতীয়বারটাই জীবনের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত স্থায়ী হয।

১. প্রথমবারের অভিজ্ঞতা থেকে দ্বিতীয়বার সাবধান হওয়া ভালো। নতুন করে যার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে যাচ্ছেন তাকে ভালো করে চিনে বা জেনে নিন। তার সম্পর্কে খোঁজ খবর যেমন নেবেন তেমনই তার সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতেও পিছপা হবেন না। তার সঙ্গে বিয়ের আগেই অনেকটা সময় কাটান। দুজনে মন খুলে কথা বলুন। আপনার ভালোমন্দ সবকিছু তিনি গ্রহণ করছেন কিনা তা আগে নিশ্চিত হন। এমনকি তাঁর স্বভাব চরিত্র আপনি আদৌ পছন্দ করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখুন। অতীতের সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে গভীরে গিয়ে কথা না বললেও তাঁকে অন্তত এটা জানিয়ে দিন যে অতীতের প্রভাব বর্তমানে ফেলতে আপনি আগ্রহী নন। এমনকি তিনিও যেন তা না করেন।

২. নতুন সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলার সময় বারবার পুরোনো সম্পর্কের তুলনা টানবেন না। বারবার পুরোনো সঙ্গীর তুলনা বা কথা শুনতে শুনতে বর্তমান সঙ্গীটিও বিরক্ত হয়ে পড়বেন।

৩. ভুল থেকে শিক্ষা নিন। প্রথম বিয়েতে যেসব ভুল করেছিলেন সেগুলি পুনরাবৃত্তি করবেন না। এমনকি নিজেও সাবধান থাকবেন। যাতে আগের সঙ্গীর মতো এই সঙ্গীও আপনার ওপর জুলুম করতে না পারেন।

৪. সন্তান থাকলে তার সঙ্গে বিয়ে নিয়ে কথা বলুন। বিয়েতে সন্তানের মতামত একান্ত প্রয়োজন। নিজের সন্তান থাকলে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব করান। আর সঙ্গীর যদি সন্তান থাকে তাহলে তাদের সঙ্গে আপনি বন্ধুত্ব পাতান। দুই পক্ষেরই সন্তান থাকলে উভয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি করার চেষ্টা করুন। শেষপর্যন্ত সকলকে একসঙ্গে থাকতে হবে। এটা মাথায় রেখেই সন্তানদের প্রতি বিচার করবেন বা নতুন সম্পর্ক তৈরি করবেন।

নতুন সংসার হোক সুন্দর এবং সুখের। শুভকামনা রইল সকলের।

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]