বুধবার ২২ জানুয়ারি ২০২০ ৯ মাঘ ১৪২৬
 
অর্থ-বাণিজ্য
৪ দিনে বাজার মূলধন কমেছে ১৪ হাজার কোটি টাকা
৪ দিনে বাজার মূলধন কমেছে ১৪ হাজার কোটি টাকা





নিজস্ব প্রতিবেদক
Thursday, Jan 9, 2020, 12:11 am
 @palabadalnet

ঢাকা: দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। এর ধারাবাহিকতায় গতকালও বড় ধরনের পতন হয়েছে সূচকের। এদিন দেশের প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২২৮ পয়েন্টে। পরপর চারদিন দরপতনে ডিএসইর প্রধান এ সূচক কমেছে প্রায় ২৩০ পয়েন্ট, যা ৪৪ মাস আগের জায়গায় চলে এসেছে। এর আগে ২০১৬ সালের ২৭শে এপ্রিল এই সূচকের অবস্থান ছিল ৪ হাজার ২৩৮ পয়েন্টে। এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক প্রায় ১২৯ পয়েন্ট কমে হয়েছে ১২ হাজার ৮৮১ পয়েন্ট। ২০১৯ সালের মন্দাভাবেই ২০২০ সাল শুরু হয়েছে। দরপতনের ধাক্কায় ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারী হতাশ-ক্ষুব্ধ।

এতে বেড়েই চলছে বিনিয়োগকারীদের হাহাকার। এদিকে পরপর ৪ কার্যদিবসের দরপতনে ডিএসইর বাজার মূলধন হ্রাস পেয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছেন বলেই এমন পতন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দরপতনের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর পতন আরো বেগবান হয়েছে। রোববার থেকে টানা চারদিন বড় ধরনের পতন হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালে বড় ধ্বসের পর পুঁজিবাজারে সবচেয়ে ‘খারাপ’ অবস্থা গেছে ২০১৯ সাল। ২০১০ এর ধসের পর ২০১৬ সালের শেষ দিকে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে থাকে। ২০১৭ সাল গিয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে আবার পতন শুরু হয় পুঁজিবাজারে। ২০১৯ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও তা স্থায়ী হয়নি। পতনের ধাক্কায় বাজার একেবারে তলানীতে নেমে যায়। সেই মন্দার কবল থেকে বের হতে পারছে না বাজার। টানা পতনে এক বছরের মধ্যে ডিএসই বাজার মূলধন হারিয়েছে ৭১ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার লেনদেনের শুরুতে প্রথম ২০ মিনিট সূচক একটু বাড়লেও তা ধরে রাখতে পারেনি। ২০ মিনিট পরেই সূচক পতন শুরু হয়। লেনদেন শেষ হওয়া পযন্ত চলে পতন। সিএসইর অবস্থাও একই। প্রথম আধাঘন্টা সূচক ভাল থাকলেও পরের সাড়ে তিন ঘন্টা পতনের ধারাতেই কেটেছে। আগের তিন কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় গতকালও দেশের ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এদিন ডিএসইতে মাত্র ৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৯টির। আর ৫১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে গত ৪ দিনের পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮১১ কোটি টাকা থেকে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৪৬২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ দুই দিনে বাজার মূলধন কমেছে ১৪ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা না থাকায় এমন পতন হচ্ছে। এ দরপতনের যুক্তি সংগত কোনো কারণ নেই। তাদের মতে, আমাদের বাজারে বিদেশিদের বিনিয়োগ বেশি না হলেও, তারা যখন শেয়ার বিক্রি করেন তখন এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। যা সার্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিনিয়োগকারী তছলিম বলেন, ইতিমধ্যে বিনিয়োগ করা অর্থের অর্ধেক নাই হয়ে গেছে। কোনোভাবেই লোকসান কাভার করতে পারছি না। এখন যেভাবে পতন শুরু হয়েছে বুঝতে পারছি না, পোর্টফোলিও কী অবস্থায় দাঁড়ায়। মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েছি।

এদিকে ডিএসইর মতো করুণ দশা বিরাজ করছে অপর শেয়ারবাজার সিএসইতেও। বাজারটির সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৮৭ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেয়া ২১৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ১৪৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির।

কালো মুখোশ পরে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের প্রেক্ষিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর সামনে কালো মুখোশ করে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। কারসাজি করে যারা কোটি কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে তুলে নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

 গতকাল মতিঝিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষোভ করেন বিনিয়োগকারীরা। 

বিক্ষোভে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, যেখানে বাজার মূলধন ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা, সেখানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার ট্রেড হয, এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই। এই মুহূর্তে সূচক নেমে এসেছে ৫ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ তে নেমে এসেছে। এগুলো সব বাজার কারসাজির কুফল। দেশের পুঁজিবাজারের স্বার্থে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনারদের অব্যাহতির দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। সাধারণ বিনিয়োগকারী, ব্রোকারেজ হাউজ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে নিয়ে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]