বুধবার ২২ জানুয়ারি ২০২০ ৯ মাঘ ১৪২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
‘ভারতে মুসলিম নাম পরিবর্তন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’
‘ভারতে মুসলিম নাম পরিবর্তন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’





স্পুটনিক
Saturday, Dec 7, 2019, 1:56 am
Update: 07.12.2019, 1:58:02 am
 @palabadalnet

নয়া দিল্লি; ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলো বেশ কয়েক বছর ধরে বিখ্যাত স্থান ও স্থাপনাগুলোর মুসলিম নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করে আসছে। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি তাজ মহলের জন্য বিখ্যাত আগ্রা নগরীর নাম।

কিন্তু শিগগিরই পর্যটকরা যখন ভারতীয় সংস্কৃতির অনন্য এই স্থাপনাটিকে দেখতে যাবেন তখন তারা আর তাজ মহলের সঙ্গে আগ্রাকে যুক্ত করতে পারবেন না। কারণ উত্তর প্রদেশের হিন্দুত্বাবাদী সরকার নগরীর নাম পরিবর্তন করে আগ্রাভান রাখার পরিকল্পনা করেছে।
 
সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী এরই মধ্যে ভারতের শতাধিক নগরী ও শহরের মুসলিম নাম বদলে ফেলা হয়েছে। ফলে এই তৎপরতার তাৎপর্য এবং এর মাধ্যমে মোদি সরকার কি অর্জন করতে চায় সে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব বলেন, ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর নতুন নামকরণ অতীতকে রং মাখিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার এক অদ্ভুত বাতিক।

তিনি বলেন, কিছু মানুষ একেবারে সাম্প্রদায়িক পরিভাষা দিয়ে একে সংজ্ঞায়িত করে। ভারতের মধ্যযুগের সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছুই তারা বদলে ফেলতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধিন বর্তমান ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা দলের সরকারসহ বিভিন্ন সরকার অতীতে সারা দেশে বহু জায়গার নাম বদল করেছে। এগুলোর বেশিরভাগ মূলত মুসলিম যুগের সঙ্গ সম্পর্কিত।

এই ইতিহাসবিদ বলেন, ইতিহাস হলো দলীয় বিষয়। কেউ একে পছন্দ করে আবার কেউ করে না। এর মানে এই নয় যে আপনি আপনার অতীতকে মুছে ফেলবেন। এটা কোনো যুক্তিগ্রাহ্য বিষয় নয়। এসব কাজ করা হচ্ছে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। কারণ বর্ণ ও ধর্মের ভিত্তিতে মেরুকরণ করার জন্য অতীত বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তবে বিজেপি বা উত্তর প্রদেশ সরকারই যে শুধু নাম পরিবর্তন করেছে তা নয়।

সাবেক কংগ্রেস সরকারের আমলে ব্যাঙ্গালোর, থিরুভানানথাপুরাম ও ক্যালকাটার নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে বেঙ্গালুরু, ত্রিভানদ্রুম ও কলকাতা করা হয়েছে।

২০১৬ সালে হরিয়ানার আইটি সিটি গুরুগাওয়ের নাম পরিবর্তন করে গুরুগ্রাম রাখা হয় হিন্দু পৌরানিক দেবতা গুরু দ্রোনাচারিয়ার নামে।

একইভাবে গত জানুয়ারিতে ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এবং বিশ্বের অন্যতম পুরনো নগরীগুলোর একটি এলাহাবাদের নাম পরিবর্তন করে প্রাজ্ঞরাজ রাখা হয়েছে।

হাবিব বলেন, নাম পরিবর্তনের ফল আজ বোঝা যাবে না। কিন্তু ভবিষ্যতের প্রজন্ম তাদের অতীতের প্রতারণাপূর্ণ চিন্তাভাবনা নিয়ে সমস্যায় পড়বে।

এদিকে আর্কিলজিওক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সাবেক পরিচালক সৈয়দ জামাল হোসাইন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নগর ও শহরের নাম পরিবর্তন শুধু দেশের বৈচিত্রপূর্ণ প্রকৃতিরই ক্ষতি করবে না সরকারি অর্থের অপচয়ও করবে।

তিনি বলেন, জায়গার নাম পরিবর্তন করলে কোনো লাভ হবে না বরং সরকারি অর্থের অপচয় হবে। সরকারের সব রেকর্ড ও পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। এতে করদাতাদের অর্থের হরিলুট হবে।

২০১৮ সালে মোদি সরকার সারা দেশে প্রায় ২৫টি স্থানের নাম পরিবর্তন অনুমোদন করে। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশের ফাইজাবাদ জেলার নাম পরিবর্তন করে অযোধ্যা রাখা হয়েছে। এখানেই বাবরি মসজিদ ছিলো, যা হিন্দু উগ্রবাদিরা গুড়িয়ে দিলে সেখানে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। হিন্দু পুরান মতে অযোধ্য হলো দেবতা রামের জন্মস্থান।

হোসাইন বলেন, এ ধরনের রাজনীতিতে আমি প্রত্মতত্ত্ববিদ হিসেবে অবাক হই। নাম বদলানোর পেছনে টাকা খরচ না করে জনকল্যাণে তা ব্যয় করা যেতো। সরকার স্বচ্ছ ভারতের মতো ভালো কাজে সরকার টাকা খরচ করতে পারতো।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]