শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
জাতীয়
‘হাইকোর্টের রায়ের পরেও সরকার খেলার মাঠ রক্ষা করছে না’
‘হাইকোর্টের রায়ের পরেও সরকার খেলার মাঠ রক্ষা করছে না’





নিজস্ব প্রতিবেদক
Friday, Nov 8, 2019, 3:42 pm
 @palabadalnet

ঢাকা: পরিবেশবাদিরা অভিযোগ করেছেন, হাইকোর্টের রায় থাকার পরেও সরকার রাজধানীতে খেলার মাঠগুলো এখন রক্ষা করছে না। তারা বলেন, দেশের মাঠ ঘাট এবং পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আর ভোটে নির্বাচিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা  সেটা দেখেও কিছু করছেন না।  আর জনগণ নীরবে সব নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছে। তারা দুই মেয়র এবং তাদের অধীনে অসৎ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাঠগুলোকে সাধারণ মানুষ এবং শিশু-কিশোরদের খেলার উপযোগী করে উন্মুক্ত করার দাবি জানান।  দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আহ্বান জানান পরিবশেবাদিরা।


বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও গ্রিনভয়েস’র যৌথ উদ্যোগে আজ ( ৮ নভেম্বর) জাতীয় জাদুঘরের সামনে নাগরিক সমাবেশে তারা এসব দাবি জানান। ‘মোহাম্মদপুর জাকির হোসেন মাঠ সহ সারাদেশের খেলার মাঠে মেলা ও সব ধরণের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করো, খেলার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করো” দাবিতে এক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং গ্রিনভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক ও বাপা’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব মিহির বিশ্বাস,  গ্রিনভয়েসের হুমায়ুন কবির সুমন, নিরাপদ নৌপথ আন্দোলনের সমন্বয়কারী আমিনুর রসুল, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী ইবনুল সাঈদ রানা, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ, গোলাপবাগ মাঠ রক্ষা আন্দোলনের নেতা হাসনাত জোবায়ের,  গ্রিনভয়েসের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক মো. শাকিল কবির, পার্বত্য অঞ্চল শাখার  গ্রিনভয়েসের প্রতিনিধি খিন খিন উ সহ  গ্রিনভয়েসের বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধি যথাক্রমে মর্তুজা মিলন, তারেক রহিম, ফাহমিদা নাজনীন, ফাতেমা এ্যানী, সুমন মোহাম্মদ, ইসরাত জাহান, ইমরান প্রধান প্রমুখ।

ডা. মো. আব্দুল মতিন তার লিখিত বক্তব্যে একটি জাতীয় দৈনিকের সূত্রে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে বলেন, মোহাম্মাদপুরের জাকির হোসেন রোড সংলগ্ন খেলার মাঠে আবারও মেলা বসেছে। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তারা অভিযোগ করে বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে (ডিএনসিসি) অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে খেলার মাঠে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ডিএনসিসির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি প্রতি বৃহস্পতিবার এই মাঠে মেলা বসান। এর আগে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে মাঠের চারপাশের জায়গা দখল করে নির্মিত ফুটপাত ভেঙে দেয়া হয়, তাতেও মেলা বন্ধ হয়নি। সবটা মিলে এতে স্থানীয় নাগরিকরা এখন হতাশ। মেলা বসানোর কারণে মাঠের আশেপাশের বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন। কারণ, মেলার দিনে এই এলাকা দিয়ে স্বাভাবিক চলাচলের উপায় থাকে না। কয়েক বছর ধরে সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার জাকির হোসেন রোড-সংলগ্ন খেলার মাঠে মেলা বসছে। গত বছর ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা খরচ করে মাঠটি সংস্কার করা হয়। অথচ এখনই সেটি মেলা বসিয়ে বিনষ্ট করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত অর্থ আয়ের লক্ষ্যে সরকারি মাঠ ধ্বংস করা হচ্ছে। 

আব্দুল মতিন ওই এলাকার কাউন্সিলরের বিচার দাবি করেন। 

মিহির বিশ্বাস বলেন, সরকারকে এক মাঠের জন্য কতবার সিদ্ধান্ত নিয়ে হয় তা আমার জানা নাই।  হাইকোর্টের রায় থাকার পরেও সরকার এ মাঠগুলো এখন রক্ষা করতে পারছে না। 

আমিনুর রসুল ঢাকার মেয়রদ্বয়ের উদ্দেশ্যে বলেন, আর কয়েদিন পরেই ভোট আসছে, নিশ্চই আপনারা ভোট চাইতে ভোটাদের দ্বারে দ্বারে  যাবেন। যখন জনগণ আপনাকে প্রশ্ন করবে আমার ছোট বাচ্চার খেলার মাঠটি আপনি দখলদারদের দিয়েছেন, আমার শিশুর মানসিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন- আপনি তখন কী উত্তর দিবেন। এখনও সময় আছে মাঠগুলো খেলার উপযোগী করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে তার পরে ভোট চাইতে যাবেন।

আলমগীর কবির বলেন, মাঠগুলোকে রক্ষা করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুয়ায়ী সারাদেশের সকল খেলার মাঠ ও পার্ক চিহ্নিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করারসহ পুরাতন ঢাকা, ঢাকা মহানগরী ও সারাদেশের সকল খেলার মাঠ ও পার্ক অবিলম্বে দখলমুক্তের দাবি জানান। 

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]