শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
মতামত
নেপালকে শি’র দৃঢ় আলীঙ্গন মোদির প্রতিবেশী প্রথম নীতির জন্য দুঃসংবাদ
নেপালকে শি’র দৃঢ় আলীঙ্গন মোদির প্রতিবেশী প্রথম নীতির জন্য দুঃসংবাদ





নয়ানিমা বসু
Saturday, Oct 19, 2019, 2:58 am
 @palabadalnet

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আক্ষরিক অর্থেই বিখ্যাত চীনা প্রবাদকে কার্যকর করেছেন – “হাজার মাইলের যাত্রা শুরু হয় একটি পদক্ষেপ দিয়ে”। ২৩ বছর পর প্রথম কোন চীনা প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত সপ্তাহে নেপাল সফর করেছেন তিনি।

শুধু এই একটি ঘটনাই ভারতের সোজা হয়ে বসার জন্য যথেষ্ট ছিল। কারণ চীন দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার যে পরিকল্পনা করেছে, প্রেসিডেন্ট শি’র অধীনে সেটি ধীর গতিতে কিন্তু নিশ্চিতভাবে এগিয়ে চলেছে।

কিন্তু বেইজিংয়ের সাথে ‘অনানুষ্ঠানিক সম্মেলনের’ প্রভাব –দৃশ্যত যেটার কোন অর্জন নেই, সেটার কারণে প্রতিবেশী নেপালে চীনের প্রভাব নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি’র কাছে আপত্তিটুকু জানানোর সুযোগ পায়নি ভারত।

ভারতের ব্যাপক প্রভাবের ইতি টানার প্রচেষ্টা

নেপালে শি’র সফরের সবচেয়ে বড় দিক – যেটিকে ভারত খাটো করার চেষ্টা করছে – সেটা হলো চীন জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা হিমালয় অঞ্চলের এই দেশটির ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা’ রক্ষা করবে যাতে নেপাল ‘স্বাধীনভাবে’ তাদের সামাজিক ব্যবস্থা ও উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

নেপালের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ বেড়ে যাচ্ছে – এ রকম একটা ইঙ্গিত দিয়েছে চীন। প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির অধীনে নেপাল নিজেও দৃঢ়ভাবে এটা উল্লেখ করেছে। নেপাল এটা স্পষ্ট করেছে যে, তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের অতিমাত্রায় প্রভাব থেকে বের হয়ে আসতে চায়। তবে, নেপাল-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। যেমন প্রত্যর্পন চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্ব, যেটা শি’কে হতাশ করেছে বলে জানা গেছে।

সীমান্তে অবরোধ ছিল একটা পররাষ্ট্র নীতি বিপর্যয়

নেপালে শি’র সফর ছিল ২০১৫ সালে সীমান্তে অবরোধের একটা জবাব, যে অবরোধের জন্য ভারতকে দায়ি করেছে নেপাল। ভারত যদিও নেপাল সরকারের অভিযোগ নাকচ করে এসেছে এবং বলেছে যে ওই অবরোধের পরিকল্পনা নয়াদিল্লী করেনি, তবে এটা একটা বাস্তবতা যে, সে সময় নেপাল যে সংবিধান গ্রহণ করেছিল, সেটার ব্যাপারে মোদি সরকার খুশি ছিল না এবং তারা এমনকি এটাও বলেছিল যাতে মাধেসি ও জাঞ্জাতিসদের খুশি করার জন্য সংবিধান পরিবর্তন করা হয়।

২০১৫ সালের সীমান্ত অবরোধের বিষয়টি মোদি সরকার যেভাবে দেখেছে, সেটা ছিল মোদির প্রথম আমলে পররাষ্ট্র নীতির সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। নজিরবিহীন এই অবরোধের সময়, জ্বালানি, খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য দরকারি জিনিস ভারত থেকে নেপালে যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতিতে আটকা পড়ে আছে নেপাল

নেপাল নিয়ে ভারত আর চীনের মধ্যে লড়াইটা নতুন নয় কিন্তু মোদি সরকার যখন ক্ষমতায় আসলো, তারা ঘোষণা দিলো যে, ভারতের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান নীতি হবে ‘প্রতিবেশী প্রথম’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমনকি ২০১৪ সালের আগস্টে নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরও করেন এবং দেশটির পার্লামেন্টে বক্তৃতা করেন। মোদি তখন বলেছিলেন, “দুই দেশের মধ্যে উন্নয়ন এবং নতুন সূচনার দিকে মনোযোগ দিয়েই এই সফরে এসেছি আমি”।

২০১৮ সালে মোদি যখন তৃতীয় দ্বিপাক্ষিক সফরে নেপাল যান, তখনও তার উদ্দেশ্য বদলায়নি। সম্পর্কের মধ্যে একটা অর্থ ও গুরুত্ব ফিরিয়ে আনাই ছিল সেই সফরের উদ্দেশ্য। সফরে শুধু মুখের কথাই ছিল মুখ্য এবং নেপালের দিক থেকে এমন কোন দৃশ্যমান লক্ষণ ছিল না যে, তারা ভারতের সংবেদনশীলতার দিকে এতটুকুও নজর দিচ্ছে।

চীন-নেপালের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়ছে

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য নেপাল ক্রমেই চীনের দিকে ঝুঁকছে। চলতি বছরের জুনে, নেপালের সেনাবাহিনী প্রধান পুর্ন চন্দ্র থাপা চীন সফর করেন। সেখানে তিনি ‘এক চীন’ নীতির ব্যাপারে কাঠমাণ্ডুর একাত্মতা পুনর্ব্যক্ত করেন।

কৌশলগত দিক থেকে, ভারত নেপালে তাদের শক্তি হারাচ্ছে এবং চীনের কাছে জায়গা ছেড়ে দিতে হচ্ছে। নেপালে নিজেদের প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ করতে পারেনি ভারত। নয়াদিল্লী তাছাড়া কাঠমাণ্ডুর সাথে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্কও বাড়াতে পারেনি। নয়াদিল্লী জানে যে, ভারতের স্বার্থের জন্যই একটা স্থিতিশীল নেপাল প্রয়োজন, কারণ দুই দেশের মধ্যে শতছিদ্র সীমান্ত রয়েছে।

সূত্র: দ্য প্রিন্ট

নয়ানিমা বসু: ডিপ্লোমেসি এডিটর, দ্য প্রিন্ট

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]