বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ১ কার্তিক ১৪২৬
 
মতামত
ইমরান খান প্রীতি মূলত রোমান্টিক ধর্মান্ধদের বিকার
ইমরান খান প্রীতি মূলত রোমান্টিক ধর্মান্ধদের বিকার





খোমেনি এহসান
Sunday, Oct 6, 2019, 11:18 am
 @palabadalnet

ইমরান খান প্রীতি মূলত রোমান্টিক ধর্মান্ধদের বিকার। এরা কোনো শাসকের মুখে ধর্মের দোহাই শুনলেই লম্ফঝম্প শুরু করে। কিন্তু ইমরানরা কেন ধর্মের কথা মুখে নেয় তা তারা জানে না।

ইমরান খান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হাত ধরে ক্ষমতায় আসছেন। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন, কারণ তার দলের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভিত্তি তৃতীয় সারির।

একদিকে নওয়াজ শরিফকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা, পাকিস্তানের সঙ্কটের মূলে দুর্নীতিই প্রধান কারণ বলে ইমরানের মতো কাউকে প্রধানমন্ত্রী করে অর্থনীতি চাঙা করার কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইমরান কিছু মিডিয়া স্ট্যান্টবাজির বেশি কিছু করতে পারেননি। তার হাত ধরে পাকিস্তানের অর্থনীতির আরও অবনতি হয়েছে। হবেই বা কিভাবে, পাকিস্তানের অর্থনীতির মূলে যে সেনা কর্তৃত্ব তা ইমরানের হাত ধরে আরও চেপে বসেছে। চার দিন আগের এই খবরটি যাদের চোখে পড়েছে তারা বিষয়টি আমলে নিলে এসতেমাল করা সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সরিয়ে রেখে পাকিস্তানের শিল্পপতিদের সঙ্গে রুদ্ধ-দ্বার বৈঠক করেছেন পাক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া। সেই আলোচনায় উঠে এসেছে দেশের আর্থিক ঘাটতি, দুর্নীতির সমস্যা, প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি কমে আসার মতো বিষয়। পাকিস্তানের মতো দেশে, যেখানে বারবার সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ওই বৈঠক ঘিরে তুমুল জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। কূটনীতিকদের ভিতরে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি নীরব সামরিক অভ্যুত্থানের পথে হাঁটতে চলেছে পাকিস্তান? 

পাকিস্তানের ইতিহাস বলছে, সেখানে সামরিক বাহিনী অনেক সময়েই সরকারের চেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে। তা ছাড়া,  ইমরান এখন নিজঘরেই বিরোধের মুখে। এই পরিস্থিতিতে সে দেশের অর্থনীতির বেহাল দশা নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। 

করাচি ও রাওয়ালপিন্ডির সামরিক দফতরে এ বছরে এমন তিনটি বৈঠক ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে বলে একটি সূত্রে দাবি। সূত্রটি জানিয়েছে, বৈঠকে বাজওয়া শিল্প মহলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে প্রশ্ন করেছেন, কী ভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায় এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা যায়। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি দ্রুত কার্যকর করতে নির্দেশও পৌঁছেছে সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে।  এই বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্তব্য করতে চাননি সেনা মুখপাত্র আসিফ গফুর। যদিও পরে পাক সেনাবাহিনী এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বুধবার বাজওয়া শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু শিল্পপতি ও আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিবৃতিতে বাজওয়া বলেছেন, ‘‘অর্থনীতির সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।’’

বেহাল অর্থনীতির প্রভাব পড়েছে পাক সেনাবাহিনীতে। এক দশকের মধ্যে এই প্রথম ২০২০-র আর্থিক বর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে কোনো বৃদ্ধিই হয়নি। সামরিক প্রধানের ভূমিকাকে পাকিস্তানের শিল্পপতি এবং আর্থিক উপদেষ্টারা স্বাগত জানিয়েছেন  বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। তাদের অনেকেরই দাবি, ব্যবসায়ীরা ইমরানের দলকে ততটা যোগ্য মনে করছেন না। তবে অনেকের মতে, সেনার গুরুত্ব বেড়ে গেলে পাকিস্তানে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। 

বাজওয়ার এই বৈঠক নিয়ে পাক অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওমর হামিদ খান বলেছেন, ‘‘অর্থনীতি নিয়ে সেনাপ্রধানের ধারণা থাকতেই পারে। তবে আমাদের মনে হচ্ছে না, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ ঘটেছে। তারা তাদের মতো কাজ করছে, সরকার সরকারের মতো।’’ 
প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এর আগে প্রকাশ্যে বলেছেন, “সেনার সঙ্গে তার সরকারের কাজ করতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।’’ তিনিই ৫৮ বছর বয়সি বাজওয়াকে গত আগস্টে আরো তিন বছরের জন্য পদে বহাল রেখেছেন। বাজওয়া প্রাথমিক ভাবে দায়িত্বের মেয়াদবৃদ্ধিতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে শাসক দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা নাকি ইমরানকে বোঝান, বাজওয়াকে রেখে দেওয়া কেন জরুরি- জানিয়েছেন সেনা মুখপাত্র আসিফ গফুর।

দেশটির সব ব্যবসা বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ মূলত আর্মির হাতে। ক্রমাগতভাবে প্রাইভেট সেক্টর সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। একের পর এক সেনা শাসনের সুযোগে অর্থনীতির সব খাতের ব্যবসা চলে গেছে ফৌজি কোম্পানির হাতে। আর পাক সেনারা ভয়ঙ্কর রকমের দুর্নীতিবাজ। ফলে দেশটিতে অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।

এখন খেয়াল করে দেখেন কিছু আরব দেশের ভিক্ষা আর ধর্মের দোহাই দিয়ে বাক্যবাগিশতা ইমরান খানের দৃশ্যত কোনো তৎপরতা নাই। ফলে হুহু মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব বাড়ছে।

এ অবস্থায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো সর্বদলীয় সংগ্রাম গড়ে তুলছে। যদিও মাওলানা ফজলুর রহমান আগামী ২৭ অক্টোবর ইসলামাবাদ অভিমুখে মার্চ করার ডাক দিয়েছেন। কিন্তু এতে শামিল আছে সব ইসলামী ও সেক্যুলার দল।

পাকিস্তানের শক্তিশালী নাগরিক সমাজও ইমরানকে চায় না। সেনাপুতুল হিসেবে তাকে বিজয়ী করার বিষয়ে তারা সব সময় নিমরাজি ছিল।

এখন ঘটনাটা বিচার করে দেখেন ভারতের নরেন্দ্র মোদিকে। এই লোকও ধর্মীয় ও কর্পোরেট মাফিয়াদের হাত ধরে ক্ষমতায় চলে আসলেন দুই দুইবার। তিনি বললেন অর্থনৈতিক উন্নতির কথা। কিন্তু ভারতের অর্থনীতি দিন দিন খারাপ হয়ে গেছে। দ্রুত প্রবৃদ্ধির দেশ ভারত এখন খুড়িয়ে চলতে শুরু করেছে।

খেয়াল করলে দেখবেন এ অবস্থায় নরেন্দ্র মোদি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার কার্ড খেলছেন আর আর্মি-প্রশাসন-ধর্মীয় ক্যাডারদের মাঠে নামাচ্ছেন। কাশ্মির থেকে এনআরসি পর্যন্ত চলছে বিদ্বেষ, বিভক্তি আর নিপীড়ন।

অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে না পারা সব দেশের ব্যর্থ নেতারাই জনগণের চোখে ধুলা দিতে চায়। কিন্তু তারা ধরা খেয়ে যায়।

খোমেনি এহসান: চীন প্রবাসী সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]