বৃহস্পতিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ১০ মাঘ ১৪২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
ভারতের জন্য লাল রেখা টেনে দিলো শ্রীলঙ্কা
ভারতের জন্য লাল রেখা টেনে দিলো শ্রীলঙ্কা





ইন্ডিয়ান পাঞ্চলাইন
Wednesday, Dec 4, 2019, 11:28 am
 @palabadalnet

নয়া দিল্লিতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসা

নয়া দিল্লিতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসা

নয়া দিল্লি: কূটনীতি যে সব দেশের জাতীয় নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সে ধরনের দেশের আদর্শ উদাহরণ হলো শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার ভূমিকাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাতে হবে কারণ তাদের সামনে একটি জাতীয়তাবাদের অসমাধানকৃত প্রশ্নও রয়েছে, যে ব্যাপারে তাদের বড় প্রতিবেশী ভারত ঐতিহাসিকভাবে নিজেদের একটি পক্ষ দাবি করে আসছে। ভারতের এই দাবিটি কলম্বো ফেলে দিতে পারে না, কারণ দুই দেশের জাতীয় শক্তির মধ্যে পার্থক্যটা অনেক বড়।

তাছাড়া, ভারতের সদিচ্ছা ও সহযোগিতা ছাড়া শ্রীলঙ্কার চলারও উপায় নেই, কারণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বড় প্রতিবেশী দেশটি অনেক সহায়তা করতে পারে, আবার উল্টা দিক থেকে ইচ্ছা করলে মারাত্মক ক্ষতি করারও সামর্থ রয়েছে তাদের। সে কারণে খেলাটা হলো ভারতের ভূমিকাকে ‘গঠনমূলক’ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখা এবং অশুভ দিকটাকে দূরে রাখা যাতে শ্রীলঙ্কা তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিয়ে চলতে পারে।
 
সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুসময় এবং দুঃসময় উভয়ই গেছে। কিছু মারাত্মক দুঃসময়ও গেছে যখন ভারত উসকানি পেয়ে আঘাত হেনেছে, যেমন আশির দশকে তামিল গেরিলাদেরকে মদদ দিয়েছিল ভারত। তবে, মোটের উপর শ্রীলঙ্কার কূটনীতি উত্তর ভারতের ক্ষমতাসীন অভিজাত শ্রেণীকে সংযত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসার অধীনে কলম্বোতে শক্তিশালী নেতৃত্ব আবারও ফিরে আসায়, বৃত্ত পূর্ণ চক্র পূরণ করলো বলে মনে হচ্ছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে, গোতাবায়াকে প্রয়াত জে আর জয়াবর্ধনের সঙ্গে তুলনা করা চলে – যিনি ব্যাপক জাতীয়তাবাদী হওয়া সত্বেও ছিলেন বাস্তববাদী, এবং যে কোন ‘উইন-উইন’ সহযোগিতার সম্পর্কের ব্যাপারে ছিলেন খোলামনের।

জে আর এবং গোতাবায়া উভয়েই তাদের রাজনৈতিক স্টাইলের ক্ষেত্রে ‘পিতৃতান্ত্রিক’ – সাদামাটা এবং ফলাফলমুখী। আগের মৈত্রিপালা সিরিসেনা সরকারের তুলনায় গোতাবায়া তার মন্ত্রিসভার আকার অর্ধেকে নামিয়ে এনেছেন।

গত সপ্তাহে গোতাবায়ার রাষ্ট্রীয় সফরের সময় দিল্লী তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানিয়েছে, কিন্তু তিনি ভারতে আসেন বাণিজ্যিক ফ্লাইটে, এবং তার সাথে ছিলেন হাতেগোনা কিছু সহযোগী।

কিন্তু গোতাবায়া নিঃসন্দেহে পেরেকের মতো কঠিন, ঠিক জে আর যেমনটা ছিলেন। গত সপ্তাহে দিল্লীতে অবস্থানকালে ভারতীয় মিডিয়ার একতরফা বক্তব্যের সাথে দ্বিমত করতে তিনি দ্বিধা করেননি। ভারতীয় মিডিয়া বলেছে যে, গোতাবায়া বেইজিংয়ের সাথে হামবানতোতা বন্দর নিয়ে চীনা কোম্পানির সাথে ৯৯ বছরের লিজ চুক্তি ‘পুনর্বিবেচনার’ প্রস্তাব দিয়েছেন।

কিন্তু সিনহুয়া বার্তা সংস্থা জানিয়েছে যে, রোববার ও সোমবার কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার নেতাদের সাথে সফরকারী চীনা বিশেষ দূত উ জিয়াংহাউয়ের বৈঠকে দুই দেশ বড় প্রকল্পগুলোর সহযোগিতা চুক্তি ‘বিদ্যমান ঐক্যমতের অধীনে’ বাস্তবায়ন কাজের গতি বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কলম্বো বন্দর শহর এবং হামবানতোতা বন্দরও রয়েছে।

দিল্লিতে গোতাবায়ার মন্তব্য সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করতে হবে। এ মন্তব্যে পরস্পর সংযুক্ত দুটো অংশ রয়েছে: শ্রীলঙ্কার তামিল সমস্যা ও ভারত-লংকা সম্পর্ক এবং চীন-লংকান সহযোগিতা।

কলম্বোতে তড়িঘড়ি সফরের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পার্লামেন্টকে বলেছিলেন যে, তিনি প্রত্যাশা করেন যে, গোতাবায়া তার কথা রাখবেন এবং ‘সব শ্রীলঙ্কানের’ প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি – এর অর্থ হলো তামিল সম্প্রদায় সেখানে তাদের ন্যায্য হিস্যা পাবে। কিন্তু, কথা হলো গোতাবায়া এর বাইরে আর কিই বা বলতে পারতেন? প্রধানমন্ত্রী মোদি কি ২০১৪ সালে ঠিক একই কথা বলেননি?

গোতাবায়ার মন্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তামিল ইস্যুতে রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টি একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরিয়ে রাখা হবে। তিনি চীনা আদর্শে বিশ্বাস করেন যে, জাতীয়তাবাদের প্রশ্নটি উন্নয়নের মাধ্যমে সমাধান করতে হয় – আর উন্নয়ন একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া এবং এ জন্য কোন সময়সীমা বেঁধে দেয়া যায় না।

গোতাবায়া আরো বলেছেন যে, তামিল সমস্যার যে কোন সমাধান হতে হবে সংখ্যাগুরু সিংহলী সম্প্রদায়ের মতৈক্যের ভিত্তিতে। গোতাবায়া কাশ্মীর সমস্যার সাথে কোন তুলনা টানেননি, কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলেছেন তিনি।

জবাবে, দিল্লী কূটনৈতিক ভুল চাল খেলেছে এবং প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক এক দিনের মাথায় দ্রুত কলম্বো গিয়ে তার কাছে তামিল ইস্যুর কথা বলেছেন জয়শঙ্কর। গোতাবায়া সুযোগটা না হারিয়ে দিল্লীর জন্য লাল দাগ টেনে দিয়েছেন। নেপালের নতুন সংবিধান নিয়ে ভারত সরকার যে ধাক্কা খেয়েছিল, সেখান থেকে তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত ছিল।

মোদ্দা কথা হলো শ্রীলঙ্কাকে মানবাধিকার ইস্যুতে চাপ দিয়ে তাদেরকে ইন্দো-প্রশান্ত কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের খেলার পরিকল্পনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিলেন গোতাবায়া।

অন্যদিকে, ভারতের সাথে গঠনমূলক বিনিময়ের চেষ্টা করছেন গোতাবায়া। ভারতের (এবং কোয়াড অংশীদারদের) কাছ থেকে বড় ধরনের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবেন তিনি – কিন্তু সেটাকে চীনের সমপরিমাণের হতে হবে এবং চীনের পরিবর্তে সেটা করা যাবে না।

গোতাবায়া দিল্লিকে আগাম সতর্কতা জানিয়ে গেলেন যে, তারা যদি মুঠো বন্ধ করে থাকে, তাহলে “চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ সব জায়গাতেই ছড়িয়ে যাবে”। তিনি এর মাধ্যমে বোঝালেন যে চীন-লংকান অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার কিছু নেই। তবে এটা ঠিক যে, ভারতের স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়গুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টির মতো কোন এজেন্ডা তার নেই।

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, ত্রিণকোমালি তেল ফার্ম, মাতালে বিমানবন্দর ইত্যাদির মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে ভারতের উপস্থিতির সুযোগ কলম্বো দেবে বলে মনে হচ্ছে না। সিংহলী জনমতে ভিন্নতার পাশাপাশি ২০১৫ সালে মাহিন্দা রাজাপাকসাকে যেভাবে ষড়যন্ত্রমূলক উপায়ে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেটার কারণে সৃষ্টি আস্থার সঙ্কট এখনও রয়েছে।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]