পরিবেশ
‘আইন থাকা সত্ত্বেও দেশে পরিবেশ রক্ষিত হচ্ছে না’
‘আইন থাকা সত্ত্বেও দেশে পরিবেশ রক্ষিত হচ্ছে না’





নিজস্ব প্রতিবেদক
Saturday, Oct 3, 2020, 11:13 pm
Update: 03.10.2020, 11:22:45 pm
 @palabadalnet

ঢাকা: পরিবেশ সংক্রান্ত্র বহুসংখ্যক আইন থাকা সত্ত্বেও দেশে পরিবেশ রক্ষিত হচ্ছে না। তবে রাজনীতিবিদদের সহযোগে জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য সরকারী সংস্থার দুর্নীতি পরিবেশ বিষয়ক নীতি ও আইন বাস্তবায়নের পথে অন্যতম বাধা। এই বাধা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় এ সমস্ত আইনের বাস্তবায়নের প্রতি নজর দিতে হবে। 

বাপা-বেন-এর যৌথ উদ্যোগে আজ শনিবার সকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব বক্তব্য উঠে আসে। 

এতে মুল বক্তব্য রাখেন বাপা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির ও সদস্য সচিব ও নির্বাহী সহ-সভাপতি ডা. মো. আব্দুল মতিন। বাপা ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন) যৌথ উদ্যোগে এবং দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবেশ সপক্ষ ৫২টি সংগঠনের সহযোগিতায়  ‘বাংলাদেশে পরিবেশ আন্দোলনের রাজনৈতিক কার্যকারিতা: চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকা ‘ বিষয়ক এক বিশেষ সম্মেলন এ বছরের জানুয়ারিতে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সম্মেলনের ‘চূড়ান্ত প্রস্তাবনা প্রকাশ’ উপলক্ষে এ ওয়েববিনারের আয়েজন করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাপা’র সহ-সভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক। সম্মেলনের চূড়ান্ত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বেন ও বাপা’র প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম। 

বাপা’র প্রস্তাবনায় আরো বলা হয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে সামাজিক ও মানবিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং সে লক্ষ্যে দেশের সকল নাগরিককেই উদ্যোগী হতে হবে।  

এতে আরো  বলা হয়, যেকোনো বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের আগে একটি সমন্বিত, নির্মোহ, স্বচ্ছ, এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ অভিঘাত মূল্যায়ন নিশ্চিতের পরামর্শ দেয়া হয়। এতে আরো বলা হয় পরিবেশ রক্ষার জন্য, বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কর্মকান্ডের জন্য বিভিন্ন দেশী এবং বিদেশী তহবিলের বণ্টন এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করে এগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা বৃদ্ধি করতে হবে। রাজনৈতিক দলসমূহ যাতে পরিবেশ বিষয়ক প্রদত্ত তাদের প্রতিশ্রুতিসমূহ রক্ষা করে তা নিশ্চিত করতে হবে।  

এ ব্যাপারে অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের বন, নদী-জলাশয়সহ সার্বিক পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের হাতেই তুলে দিতে হবে। এ আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ ভবিষ্যত প্রজন্মেও স্বার্থেই দেশের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে।  জাতির স্বার্থে তরুণ প্রজন্মমসহ ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। তাদের হাতেই এখন থেকে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ব তুলে দিতে হবে। 

অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক বলেন, পরিবেশ বিনষ্টকারীদের সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন না দেয়ার পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, দুনীর্তিবাজ,মুনাফালোভীদের দিয়ে দেশের পরিবেশ রক্ষা হবে না। 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলিকে পরিবেশবাদিদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে পারলে দেশ উপকৃত হবে। নদী, বন,পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখতে রাজনৈতিক দলুগলিকে চাপ সৃষ্টি করতে বাপা-বেনের মতো এধরণের সংগঠনের ভূমিকা রাখতে হবে। 

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশবাদি সংগঠনকে বলিষ্ট ভুমিকা রাখার দাবি জানান। তিনি তার দলের পক্ষ এব্যাপারে সব সময়ে সহায়তার আশ্বাস দেন। 

আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও বাপা’র পরিবেশ বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক সঞ্জীব দ্রং নদী বলেন, পাহাড়ি বন ও নদী রক্ষায় আদিবাদিরে সম্পৃক্ত করতে হবে।  আদিবাসী মানুষকে বন নদী রক্ষা দায়িত্ব না দিলে পরিবেশ রক্ষা হবে না। এর পাশাপাশি নদী,বন পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক ও মুনাফা করা দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। 

এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অধ্যাপক এম এম আকাশ, বাপা’র সম্মেলনের কারিগরি অধিবেশন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম শহীদুল ইসলাম, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাপা’র নগরায়ন ও নগরসুশাসন বিষয়ক কমিটির  আহ্বায়ক স্থপতি সালমা এ শাফি।  

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]