শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬
 
অড নিউজ
জীবিত রফিকুলের ‘চল্লিশা’, দাওয়াত ৬ হাজার মানুষকে





কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
Friday, 28 August, 2026
6:14 PM
 @palabadalnet

নিজের চল্লিশার আয়োজনে রফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

নিজের চল্লিশার আয়োজনে রফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

মারা যাওয়ার আগেই নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার এক বাসিন্দা। রফিকুল ইসলাম (৬২) নামের ওই ব্যক্তি নিজ বাড়ির পাশে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর হাজারো মানুষের জন্য ‘গণমেজবানের’ আয়োজন করেন। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রফিকুল উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। এ আয়োজনে বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দল বেঁধে অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল এলাকায় বিত্তশালী হিসেবে পরিচিত। তার কিছু জমিজমা আছে। সম্প্রতি সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য তার দোকান ও জমির একটি বড় অংশ অধিগ্রহণ করা হয়। এ বাবদ তিনি কিছু টাকা পান। সেই টাকায় মৃত্যুর আগে নিজের চল্লিশার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।

রফিকুলের চাচাতো ভাই আবদুস সালাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে রফিকুল গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় দাওয়াত দিয়েছেন। আজ বাড়িতে শামিয়ানা টানিয়ে বাবুর্চি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়। আগের রাতেই কয়েকটি গরু ও খাসি জবাই করা হয়।

খাবার খেতে আসা একই গ্রামের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, কেউ মারা যাওয়ার ৪০ দিন পর অনেক পরিবার চল্লিশার আয়োজন করে। এতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও দরিদ্র মানুষকে খাওয়ানো হয়। তবে রফিকুল জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন। তিনি হয়তো মনে করেছেন, মারা যাওয়ার পর স্বজনেরা এভাবে বড় আয়োজন করে সবাইকে খাওয়াতে পারবেন না। তাই নিজের ইচ্ছাতেই প্রায় ৬ হাজার মানুষের জন্য এমন আয়োজন করেছেন।

বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দল বেঁধে খাবার খেতে আসছেন। পালাক্রমে তাদের খাওয়ানো হচ্ছে। মেনুতে গরু ও খাসির মাংস, ভাত, খিচুড়ি, মাছসহ বিভিন্ন পদ রাখা হয়েছে। আত্মীয়স্বজনের আনাগোনায় রফিকুলের বাড়ি মুখর হয়ে উঠেছে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, তার বয়স হয়েছে। শারীরিকভাবেও তিনি দুর্বল হয়ে পড়ছেন। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। সম্প্রতি ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পাওয়ায় একসঙ্গে কিছু অর্থ হাতে এসেছে। এরপর স্ত্রী বেগম আক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে মৃত্যুর আগেই নিজের চল্লিশার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।

রফিকুলের ভাষ্য, “আমি মারা যাওয়ার পর হয়তো আমার স্বজনেরা সবাইকে ডেকে এভাবে খাওয়ানোর আয়োজন না-ও করতে পারেন। তাই নিজের ইচ্ছায় জীবিত অবস্থাতেই আয়োজনটি করেছি।”

তবে জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করার কোনো নিয়ম ইসলামে নেই বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, মানুষের কখন ও কীভাবে মৃত্যু হবে, তা কেউ আগে থেকে বলতে পারেন না। এমনকি মৃত্যুর ৪০ দিন পর চল্লিশা করাও ইসলামের বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নয়।

খলিলুর রহমানের মতে, দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে আপ্যায়ন করা বা মৃত ব্যক্তির বন্ধু-স্বজনদের খাওয়ানো যেতে পারে। তবে জীবিত অবস্থায় ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজের চল্লিশার আয়োজন করা ইসলাম সমর্থন করে না।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]