
বিধ্বস্ত নেপাল থেকে দেহ উদ্ধার। ছবি: রয়টার্স।
হিমালয়ের হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে নিহত বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন। আজ শুক্রবার বিকেলে নেপালের পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে বিপর্যয়-পরবর্তী অন্য সঙ্কটে দিশাহীন নেপাল সরকার। এত দেহ উদ্ধার হচ্ছে যে, তা রাখার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। উপচে পড়ছে মর্গ, হাসপাতাল। খুব বেশি দিন দেহ সংরক্ষণ করে রাখার পরিষেবাও নেই সেখানে।
গত বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে বন্যা আসে। তিব্বত সীমান্তের কাছে গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যায় নদীর পানি ও কাদামাটির প্রবল স্রোতে। তার পর থেকে উদ্ধারকাজ চলছে। প্রতিদিনই বহু দেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। তবে সেগুলি সংরক্ষণ করে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে একাধিক মর্গ ভরে গিয়েছে। অন্যত্র অস্থায়ী ভাবে দেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তা কত দিন রাখা যাবে, নিশ্চিত নয়।
পানির তোড়ে ভেসে কয়েক কিলোমিটার দূরে চলে গিয়েছে দেহ। ফলে মৃতের পরিচিত যদি দেহ শনাক্ত করতে আসতে চান, তাকে অনেক পথ পেরোতে হবে। তার জন্য সময় লাগবে। নেপালের পোখরা অ্যাকাডেমি অফ হেল্থ সায়েন্সের অধিকর্তা সুশীল আরিয়াল জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে মর্গে ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দেহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তা ১০ থেকে ১৪ দিন রাখা যাবে। তার পর আর রাখা সম্ভব নয়। এই সময়ের মধ্যে পরিচিত কেউ এসে দেহ শনাক্ত না করলে দেহগুলি সৎকার করে ফেলতে হবে। সে ক্ষেত্রে অশনাক্ত দেহগুলির গণসৎকার শুরু করবে নেপাল সরকার। এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী আর বিকল্প উপায় নেই।
অনেক দেহ অবশ্য সৎকার করা হয়েছে। তবে অশনাক্ত দেহের সংখ্যাই বেশি। এখনও প্রায় ১৫০০ জন নিখোঁজ। এ বিষয়ে চিতওয়ান জেলার সরকারি কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার একটি বৈঠক করেন। ওই জেলায় যত মর্গ রয়েছে, সবমিলিয়ে সেখানে ৩০ থেকে ৫০টি দেহ একবারে সংরক্ষণ করা সম্ভব। সেগুলি আগেই ভরে গিয়েছে। নতুন করে ওই জেলাতেই উদ্ধার হয়েছে ১৩৭টি দেহ। কিছু পরিত্যক্ত ভবন শনাক্ত করে সেখানে অস্থায়ী ভাবে আরও ২৫০ দেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন কর্তৃপক্ষ। যেখানে মর্গ উপচে পড়ছে, সেখান থেকে দেহ অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে। যদি অশনাক্ত দেহ সৎকারের মতো পরিস্থিতি আসে, তবে বিভিন্ন দিক থেকে দেহগুলির ছবি, ভিডিও করে, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তবেই সৎকার করা হবে। যদি পরবর্তী সময়ে পরিবারের কেউ খোঁজ করতে আসেন, সে কথা ভেবেই এই বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।
দেহ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক, শুকনো বরফ সংগ্রহেও হিমশিম খাচ্ছে নেপাল। ইতিমধ্যে নিখোঁজ অনেকের পরিজনেরা মর্গগুলিতে ভিড় করতে শুরু করেছেন। পরিচিতের ছবি হাতে তারা কর্তৃপক্ষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। এর মধ্যে নেপালে ফের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পালাবদল/এসএ