শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬
 
পরিবেশ
উষ্ণায়নের প্রভাবে তুষারপাতের বদলে উচ্চ হিমালয় বাড়ছে বৃষ্টি, ক্ষতি হচ্ছে হিমবাহের





পালাবদল ডেস্ক
Friday, 28 August, 2026
7:02 PM
 @palabadalnet

হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। ছবি: সংগৃহীত

হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালে মার্চ মাসে জলবায়ু ও পরিবেশ পরিবর্তন সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’ (আইসিমোড) দু’টি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে ১৯৭৫ সাল থেকে হিমবাহের বরফের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমে গিয়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালায় স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ওই সংস্থা জানিয়েছিল, হিমালয় জুড়ে হিমবাহগুলো ক্রমশ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং সহস্রাব্দের শুরু থেকে বরফ ক্ষয়ের হার দ্বিগুণ হয়েছে। যার ফলে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল রিপোর্টে।

ভারত, নেপাল, ভুটান, পাকিম্তানের কাশ্মির, চীনের তিব্বতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার পরে আইসমোডের গবেষকেরা জানিয়েছিলেন, ওই অঞ্চল জুড়ে হিমবাহ বিপর্যয় ঘটলে ধ্বংস ও প্রাণহানির পাশাপাশি হিমালয়ের বরফগলা পানিতে পুষ্ট নদীগুলির উপর নির্ভরশীল প্রায় ২০০ কোটি মানুষ সমস্যায় পড়বেন। বস্তুত, ২০১৯ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এই শতাব্দীর গোড়া থেকে শুরু করে প্রতি বছর দেড় ফুটেরও বেশি উচ্চতার বরফ গলে যাচ্ছে হিমালয়ের হিমবাহগুলিতে। চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রকাশিত রিপোর্টে শুধু বরফ গলাই নয়, উষ্ণায়নের আর এক বিপদ সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। লেখা হয়েছিল, ‘৪০০০ মিটার বা তারও বেশি উচ্চতায় তুষারপাতের পরিবর্তে বৃষ্টি নামছে। যা স্পষ্ট ভাবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিতবাহী।’

ভারত, নেপাল, ভুটান, চীনের তিব্বতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ৪০ বছর ধরে উপগ্রহের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তৈরি করা ২০১৯ সালের গবেষণাপত্রটি ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছিল। সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানিয়েছিলেন, ১৯৭৫ থেকে ২০০০ পর্যন্ত যে গতিতে বরফ গলছিল হিমালয়ের হিমবাহগুলিতে, ২০০০ সালের পর থেকে গলছে তার দ্বিগুণ গতিতে। ওই গবেষকদলের প্রধান, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জোশুয়া মরার জানিয়েছিলেন, গত চার দশকে হিমবাহগুলির চার ভাগের এক ভাগই গলে গিয়েছে। হিমালয় জুড়ে উন্নয়নের নামে বনভূমি ধ্বংস, অপরিকল্পিত নির্মাণ, সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ বন্ধ না হলে বর্ষার মরসুমে বন্যা ও ভূমিধসের মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। নেপালের বিপর্যয়ের পরে বঅরতের দেরাদুনের ‘ইনস্টিটিউট অফ হিমালয়ান জিওলজি’-র এক বিজ্ঞানী বৃহস্পতিবার এনডিটিভি-কে বলেছেন, “এখন হিমালয়ের যে উচ্চতায় বৃষ্টি হচ্ছে, যেখানে একসময় তুষারপাত হতো। এই বৃষ্টিপাত হিমবাহগুলির খুব দ্রুত ক্ষয় করছে।”

২০২১-এর ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরাখণ্ডের চামোলি ও ধৌলিগঙ্গা বিপর্যয়, সে বছরের জুলাই মাসে জম্মু ও কাশ্মিরের কিস্তওয়াড়ের হড়পা বান, ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিকিম গ্লেসিয়ার লেক ভেঙে হড়পা বান, ২০২৫ সালেরিআগস্টে উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী ও ধারালির হড়পা বানের পরে এ বার ভোটেকাশীর ঘটনা হিমালয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করছেন ভূবিজ্ঞানীদের একাংশ। 

২০২০ সালে জাতিসংঘের দেওয়া একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছিল যে, কোশী-গণ্ডকী-কার্নালি নদী অববাহিকা বরাবর বহু হিমবাহের হ্রদ রয়েছে। এগুলির মধ্যে ৪৭টি থেকে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন ভূবিজ্ঞানীরা। এই ৪৭টির মধ্যে ২৫টি রয়েছে চীনের তিব্বতে, ২১টি রয়েছে নেপালে আর একটি রয়েছে ভারতে। কিন্তু হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পানি ও ধ্বংসাবশেষ নীচের নদী অববাহিকায় নেমে এসে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড তৈরি করতে পারে। বরফ এবং পাথর ফাটিয়ে এই সমস্ত হ্রদের পানি নেমে আসতে পারে নদীর নিম্ন অববাহিকায়।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]