শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
কেন বিদেশি সাহায্যে আপত্তি নেপালের?





পালাবদল ডেস্ক
Friday, 28 August, 2026
6:26 PM
 @palabadalnet

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পরে যখন শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ, তখন ভারত, চীন, আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ একাধিক দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করল না কাঠমান্ডু। নেপাল সরকার জানিয়েছে, আপাতত দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাতে সক্ষম। তবে নেপাল জানিয়েছে, বিদেশি আর্থিক ও মানবিক সাহায্য গ্রহণে তাদের আপত্তি নেই।

কেন বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সাহায্যে ‘না’ নেপালের?

নেপালের বিদেশ মন্ত্রণাালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেন, “বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তরফে সাহায্যের প্রস্তাব আসা স্বাভাবিক। কিন্তু আপাতত নেপালের নিরাপত্তা সংস্থাগুলিই উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে এবং এই মুহূর্তে বিদেশি উদ্ধারকারী দলের প্রয়োজন নেই।”

নেপালের সিদ্ধান্তের পিছনে মূলত উদ্ধার অভিযানে কম্যান্ড ও সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়টি কাজ করছে বলে জানা গিয়েছে। বিপর্যয়ের পরে বিমানবন্দর, যাতায়াতের রাস্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা যখন প্রবল চাপের মুখে, তখন বিভিন্ন দেশের পৃথক উদ্ধারকারী দলকে একই সঙ্গে পরিচালনা করা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা কাঠমান্ডুর। নেপাল তাই একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামোর অধীনে নিজেদের সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাতে চাইছে।

কারা বাড়িয়েছিল সাহায্যের হাত ?

ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরে প্রতিবেশী ভারত ও চীন, পাশাপাশি আমেরিকা, ব্রিটেন এবং বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশ নেপালের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেয়। উদ্ধারকারী দল, হেলিকপ্টার এবং প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর প্রস্তাবও আসে।

তবে নেপাল স্পষ্ট করেছে, উদ্ধারকারী দল না নিলেও ত্রাণসামগ্রী, অর্থ এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা গ্রহণ করা হবে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানিয়েছেন, নেপাল যে ধরনের সাহায্য চাইছে, ভারত সেই অনুযায়ী সহযোগিতা করছে। আমেরিকা ইতিমধ্যেই ৫ লক্ষ ডলার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে রিপোর্টে জানা গিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াও ১০ লক্ষ ডলার মানবিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে সিওল এখনও নেপালে নিজেদের উদ্ধারকারী দলকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

২০১৫ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা?

নেপালের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার তুলনা টানা হচ্ছে। সেই সময়ে বহু দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছেছিল। কিন্তু বিপুল সংখ্যক বিদেশি দলের মধ্যে যোগাযোগ ও কো-অর্ডিনেশন, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিকের ব্যবস্থা করা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে চাইছে কাঠমান্ডু। বিশেষ করে বর্তমান বিপর্যয় অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় এবং রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একাধিক বিদেশি দলের সমন্বয় করা কঠিন হতে পারে।

তবে অন্য বিপদও রয়েছে

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়া জেলা সামরিক কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকার একদিকে চীনের তিব্বত, অন্যদিকে নেপাল। ফলে বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে ওই এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া নিয়ে নিরাপত্তা ও সংবেদনশীলতার প্রশ্ন উঠেছে।

কেউ কেউ মনে করছেন, সীমান্তের কৌশলগত অবস্থানেরও কাঠমান্ডুর সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে নেপালের বিদেশ মন্ত্রক এমন কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক কারণের কথা স্বীকার করেনি।

মৃতের সংখ্যা ৫৩৮, নতুন করে বানের অ্যালার্ট

২৬ অগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের পর নেপালে মৃতের সংখ্যা ৫৩৮-এ পৌঁছেছে। সরকারি হিসাবে ৯১৭ জন এখনও নিখোঁজ। ৩২০ জন ভারতীয় রয়েছে নিখোঁজদের তালিকায়। একই সঙ্গে তিব্বতের দিকেও ৫৫৮ জন নিখোঁজ বলে চিন জানিয়েছে। তা দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা দেড় হাজারেরও বেশি হতে পারে। নেপালি সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টার এবং স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

এখনও নিখোঁজ ৫১৭ বিদেশি

বুধের বিপর্যয়ের পরে এখনও প্রায় ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ বা যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় ও চিনা নাগরিকের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া, আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।

এরই মাঝে তিব্বতের বাঁধ ভাঙার খবরে নতুন করে বানের প্লাবন জারি করা হয়েছে। নতুন করে তিব্বতের দিকে তৈরি হওয়া জলাধার উপচে পড়ার আশঙ্কায় উদ্ধারকাজেও বার বার বাধা তৈরি হচ্ছে। শুক্রবার সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বন্যার আশঙ্কায় কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান স্থগিতও রাখতে হয়েছিল।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]