রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
আমাকে আটক বা গ্রেফতার নয়, বরং ‘অপহরণ’ করা হয়েছে: ধ্রুব রাঠি





নিজস্ব প্রতিবেদক
Sunday, 11 October, 2026
3:54 PM
 @palabadalnet

 ভারতীয় পাসপোর্ট হাতে ধ্রুব রাঠি। ছবি: ভিডিও থেকে

ভারতীয় পাসপোর্ট হাতে ধ্রুব রাঠি। ছবি: ভিডিও থেকে

শনিবার সকালে আটক করা হয়েছিল। ছাড়া পেয়েছেন গভীর রাতে। আজ রোববার সকালে  দিল্লির উপকণ্ঠে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর বাড়িতে বসেই ভিডিওবার্তা প্রকাশ করলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। দিনভর কী কী ঘটেছে, কী ভাবে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, বর্ণনা করেছেন তিনি। অভিযোগ, আটক বা গ্রেফতার নয়, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। তার বাবা এবং মায়ের সঙ্গেও সাদা পোশাকের পুলিশের হাতাহাতি হয় বলে দাবি করেছেন ধ্রুব। একই সঙ্গে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে মুখ খুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে-ও।

ধ্রুবের অভিযোগ, সকালে তার বাড়িতে ঢুকে শোয়ার ঘর থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জুতা পরার সময়টুকুও দেওয়া হয়নি। ঘটনাবলি বর্ণনা করতে করতে তিনি বলেন, “আমি ঘুমাচ্ছিলাম। সকাল ৭টা নাগাদ বাড়ির বাইরে লোকজন ঘোরাফেরা করছে দেখে আমার মা দরজা খোলেন। কোনও পুলিশ ছিল না। সাধারণ পোশাক পরা লোকজন আমার মাকে ধাক্কা মেরে ভিতরে ঢোকেন এবং সোজা চলে আসেন আমার শোয়ার ঘরে। মা চিৎকার করছিলেন। আমি ঘুম ভেঙে উঠে কিছু বলা বা করার সুযোগ পাইনি। জুতা পরার সময়টুকুও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাড়ি থেকে। অপহরণ শব্দটাই আমি ব্যবহার করতে চাই। কারণ, এটা কোনও গ্রেফতারি বা আটক নয়। যদি কোথাও প্রতিবাদ আন্দোলন করতে যেতাম, সেখান থেকে ধরলে তাকে আটক বলা যেত। গুন্ডা পাঠিয়ে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে। বাড়িতে তখন আমি, বাবা, মা ছাড়া আর কেউ ছিল না।”

ধ্রুবের অভিযোগ, ৫০ জনেরও বেশি ‘গুন্ডা’ তার বাড়ির বাইরে ঘোরাফেরা করছিল সকালে। তার দাবি, শোয়ার ঘর থেকে অপরাধীর মতো টানতে টানতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, গাড়িতে তোলা হয়। অভিযোগ, এই থানা থেকে ওই থানা ঘোরানো হয়। তার কথায়, “আমার ফোন, আমার বাবা-মায়ের ফোন শুরুতেই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। থানায় গিয়ে আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাই। সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফোনও ব্যবহার করতে দেয়নি। শুধু বলা হচ্ছিল, ‘এটা গ্রেফতারি নয়, আটক নয়। আপনাকে ছেড়ে দেওয়া হবে’। টানা ২২-২৩ ঘণ্টা আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল। একে অপহরণ ছাড়া আর কী বলব?”

নরেন্দ্র মোদি সরকারকে কটাক্ষ করে ধ্রুবের বার্তা, এই চিত্র কেবল উত্তর কোরিয়ায় দেখা যায়। দেশে জরুরি অবস্থা জারি হলে এই ছবি দেখা যায়। তার কথায়, “কোনও গণতান্ত্রিক দেশে কি কখনও এটা দেখা যায়? একজন সাধারণ নাগরিক, যিনি কোনও আইন ভাঙেননি, কেবল সত্যের পক্ষে সরব হয়েছেন, তার বাড়িতে ঢুকে শোয়ার ঘর থেকে তাকে অপহরণ করা হচ্ছে, তার বাবা-মার সঙ্গে মারপিট, হাতাহাতি করা হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রে হতে পারে না। মোদী এই দেশে স্বৈরতন্ত্র চালু করে দিয়েছেন। সোজা কথায়, অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। এ সব জরুরি অবস্থার সময় হত। উত্তর কোরিয়ায় হয়।”

সমালোচকদেরও এক হাত নিয়েছেন ধ্রুব। বলেছেন, “যারা আমাকে পছন্দ করেন না, তারা এতে খুব খুশি হচ্ছেন। কিন্তু স্বৈরতন্ত্র যখন একবার চলে আসে, নিজের কথাও ভাবা উচিত। আজ আমার সঙ্গে যা হচ্ছে, আপনার সঙ্গেও কাল তা হতে পারে।” ছাড়া পেলেও তাকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ধ্রুবের। তিনি বলেন, “অন্তত ১৫ জন আমার উপর নজর রাখছেন, যাতে আমি বাড়ি থেকে বেরোতে না পারি। অঘোষিত ভাবে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে আমাকে।” মোদিকে হিটলার এবং মুসোলিনির অন্তিম পরিণতি মনে করিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জনপ্রিয় এই ইউটিউবার। এক দিনের মধ্যে তাদের ছেড়ে দেওয়া না-হলে অনশনে বসবেন, হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ধ্রুব।

ককরোচদের আন্দোলনকে সমর্থন জানানোর পর থেকেই অনেকে ধ্রুবের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট হাতে নিয়ে ভিডিও রেকর্ড করেন তিনি এবং জানান, তিনি ভারতীয় নাগরিক। যে কোনও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অধিকার তার আছে।

সিজেপির তিন প্রধান নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে নামার পরেই তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। রোববার তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ছাড়া পেয়েই কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্দেশ করে পোস্ট করেন দীপকে। লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের লজ্জা। এর চেয়ে বড় কোনও কাপুরুষ ও গুন্ডা প্রকৃতির মানুষকে এই দেশে এর আগে দেখা যায়নি।”

উল্লেখ্য, দীপকে-দের সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়েছিল। বলা হয়েছে, আগামী এক বছর শান্তি ভঙ্গ হয়, এমন কোনও কাজ তারা করতে পারবেন না। সেই শর্তে, ৫০ হাজার টাকার জামিনদার-সহ বন্ডে তিন জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

পালাবদল/এসএস


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]