
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কোলাজ ছবি
রাশিয়ার উপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করে ডিজেলের নতুন চুক্তি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই সিদ্ধান্ত মোটেই ভাল চোখে দেখেনি ইউক্রেন। সে দেশের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ-মার্কিন চুক্তির সমালোচনা করতেই তাঁর বিরুদ্ধে সরব হলেন ট্রাম্প। বলে দিলেন, এবার ইউক্রেনে নতুন প্রেসিডেন্ট আসার সময় এসেছে!
আমেরিকার বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভের মধ্যেই ট্রাম্প আচমকা রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির কথা ঘোষণা করেন। ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, আমেরিকা ডিজেল কিনবে রাশিয়া থেকে। অবিলম্বে তিন লক্ষ টন ডিজেল মার্কিন বাজারে পাঠানোর কথাও পাকা হয়ে গিয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর জেলেনস্কি দীর্ঘ বিবৃতি দেন। অভিযোগ, এই চুক্তি আসলে রাশিয়ার কাছে উপহার স্বরূপ। এর মাধ্যমে পরোক্ষে যুদ্ধেই বিনিয়োগ করছে ওয়াশিংটন। শনিবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের সে প্রসঙ্গে বলেন, “আমার মনে হয় ইউক্রেনের উচিত নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়ে আসা। এমন প্রেসি়ডেন্ট, যিনি চুক্তি করতে পারেন। কোনও কারণে জেলেনস্কি সেটা পারেন না।”
২০২২ সালে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে থাকলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কখনও যুদ্ধ শুরুই হত না, দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার কথাই ছিল না। কোনও কারণ ছিল না। যুদ্ধ শুরু হয়েছে অযোগ্যতার কারণে। জেলেনস্কি ওই দেশটার ৩০ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছেন। ২০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছেন। এই যুদ্ধ শুরু হওয়া উচিত ছিল না। আমার মনে হয় ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়ে আসা উচিত।”
রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিকে আমেরিকার ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলেছিলেন জেলেনস্কি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “পুতিনকে উপহার দিলে শান্তি আসবে না। রাশিয়া আরও সন্ত্রাস ও বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে এর প্রতিদান দেবে। ওদের পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া তো যুদ্ধেই বিনিয়োগ করার শামিল। রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে প্রকৃত পদক্ষেপ প্রয়োজন। দুর্বল আলোচনায় লাভ হবে না।”
রাশিয়া-আমেরিকার চুক্তির পরেই ইউক্রেনে রুশ হামলার অভিযোগ উঠেছে শনিবার। অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে তাতে।
আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় নির্বাচন রয়েছে। তাতে খারাপ ফল হলে মার্কিন কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। অনেকের মতে, সেই কারণেই ভোটের মুখে তড়িঘড়ি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেলের চুক্তি করা হলো। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা এর মাধ্যমে কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পরের দিনই জেলেনস্কিকে কটাক্ষ করে ইউক্রেনের প্রেসি়ডেন্ট পরিবর্তনের ডাক দিলেন ট্রাম্প।
পালাবদল/এসএস