
আবার যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক। (বাঁ দিক থেকে) যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্য, সিজেপি নেতা আজিঙ্কা শিন্ডে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ইনচার্জ আজিঙ্কা শিন্ডে এই ঘোষণা দেন।
দীপকে-দের আটক, পুলিশি নিরাপত্তার পরেও অনেকেই শনিবার দিল্লির রাজপথে নেমেছিলেন। অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দেখা গিয়েছে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করতে। যদিও পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে কেউই যন্তর মন্তর পর্যন্ত যেতে পারেননি। বিভিন্ন দিকে আটকে দেওয়া হয় মিছিল। আটক হন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। সেই প্রসঙ্গ টেনে সন্ধ্যার পর আজিঙ্কা শিন্ডে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “এভাবে আমাদের আটকানো যাবে না।”
সিজেপি নেতা আজিঙ্কা শিন্ডের ঘোষণা, “এখন থেকে যত দিন না-পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন বা তাকে সরানো হচ্ছে, প্রতি দিন যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল বার হবে।” তার পরেই ওই সিজেপি নেতা জানান, তারা আরও ‘শক্তিশালী’ হয়ে আবার রোববার রাস্তায় নামবেন। এ-ও দাবি করেন, এই প্রতিবাদ আন্দোলনে ভয় পেয়ে রাজধানী অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এভাবে সিজেপি-র আন্দোলন দমানো যাবে না।
শনিবারের কর্মসূচিকে ‘অর্ধজয়’ বলে অভিহিত করেছে সিজেপি। আজিঙ্কা শিন্ডের সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন এসএফআই, আইসার নেতৃত্ব। এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “রোববার থেকে এই ছাত্রবিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে। সর্বত্রই শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভ দেখানো হবে। আর যেখানেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকাবে, সেই এলাকাই ‘যন্তর মন্তর’ হয়ে উঠবে।”
আজিঙ্কা শিন্ডে বলেন, “মোদি সরকারের আশঙ্কা আমরা যদি আবারও ঐক্যবদ্ধ হই, তবে তাদের মসনদ বিপদের মুখে পড়বে। কিন্তু আমরা পিছু হটছি না। আগামীকাল রোববার আমরা আবারও যন্তর মন্তরে জড়ো হবো এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করব।”
আজ রোববার সকাল ১০টায় সবাইকে যন্তর মন্তরে আসার আহ্বান জানান সিজেপির এই নেতা।
এর আগে আজ বিকেল ৫টার দিকে দিল্লিতে এইচকেএস সুরজিৎ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির নেতারা জানান, নেতৃত্ব থাকুক বা না থাকুক, বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা পুলিশের হাতে আটক রয়েছেন। আজ সকালে উড়োজাহাজে করে দিল্লি পোঁছানোর পর তাদের আটক করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির নেতারা অভিযোগ করেন, দলের শীর্ষ নেতাদের আটক করার পর ইতোমধ্যে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
একটি সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু জানায়, পুলিশ তাদের তিনটি ভিন্ন স্থানে রেখেছে। শনিবার দিনভর আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতাকর্মীসহ পাঁচ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছেন-পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির (এএপি) কনভেনর অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ তিন নেতা কেরলের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারি বিজয়ন, রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে বলেন, “বিক্ষোভের সময় আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নারী ও বয়স্কদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।”
তবে সিজেপির নেতাদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানীতে কড়া অবস্থানে রয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৩ হাজার সদস্য।
এছাড়া বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের গেট আরও চার ঘণ্টা বাড়িয়ে আজ রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে মেট্রো রেল করপোরেশন।
পালাবদল/এসএ