
আমিরুল আজিম। ছবি: সংগৃহীত
লাহোর : জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের সেক্রেটারি জেনারেল এবং দেশের একজন বিশিষ্ট ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও আন্দোলনের নেতা আমিরুল আজিম গতকাল ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তবে অসুস্থতার মধ্যেও অসাধারণ ধৈর্য, দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে তিনি রোগের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ও আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন।
আমিরুল আজিমকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ, কর্মী প্রশিক্ষণ এবং দেশব্যাপী দলীয় নেটওয়ার্ক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার সরল জীবনযাপন, নীতিনিষ্ঠ অবস্থান, প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি দলের সর্বস্তরে অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন।
আমিরুল আজিমের আন্দোলনমুখী জীবন শুরু হয় ছাত্রজীবনে ইসলামী জমিয়তে তালাবার সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে। তিনি ইসলামী জমিয়তে তালাবা লাহোরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ইসলামী জমিয়তে তালাবা পাকিস্তানের সভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্ররাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন।
জমিয়তে তালাবায় দায়িত্ব পালন শেষে তিনি জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী লাহোরের আমির, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের প্রচার সম্পাদক এবং দুই দফায় দলের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব।
মরহুম আমিরুল আজিম তার সমগ্র জীবন ইসলামী জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং পাকিস্তানে সংবিধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য উৎসর্গ করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি রাজনৈতিক ও জনপরিসরে দলের অবস্থান দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তৃতা, লেখালেখি এবং চিন্তাশীল দিকনির্দেশনা দলীয় কর্মীদের জন্য সবসময়ই অনুপ্রেরণার উৎস ছিল।
জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান আমিরুল আজিমের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, দল এমন একজন প্রজ্ঞাবান, মর্যাদাসম্পন্ন, নীতিবান এবং অত্যন্ত নিষ্ঠাবান নেতাকে হারিয়েছে, যিনি আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা, ইসলামী আন্দোলন এবং পাকিস্তানের সেবায় তার পুরো জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
তিনি বলেন, কঠিন অসুস্থতার মধ্যেও আমিরুল আজিম যে ধৈর্য, অধ্যবসায় ও অটল মনোবল প্রদর্শন করেছেন, তা কর্মীদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রোগ কখনোই তাঁর মনোবলকে দুর্বল করতে পারেনি। তার আনুগত্য, আন্তরিকতা, সততা, সাংগঠনিক প্রজ্ঞা এবং আন্দোলনের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, আমিরুল আজিমের মৃত্যু জামায়াতে ইসলামীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তার জীবন, সংগ্রাম এবং আদর্শ আগামী প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।
তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন মরহুমকে পূর্ণ ক্ষমা দান করেন, তার মর্যাদা সমুন্নত করেন, জান্নাতুল ফিরদাউসে সর্বোচ্চ স্থান দান করেন এবং তাঁর পরিবার, স্বজন ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের এই শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন। আমিন।
জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমির দেশের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীল, কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মরহুমের জন্য বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার ধর্মীয়, সাংগঠনিক ও জাতীয় সেবা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সবসময় স্মরণ করা হবে।
সূত্র: নজরানা টাইমস
পালাবদল/এসএ