বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই ২০২৬ ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই ২০২৬
 
স্পোর্টস
বিশ্বকাপ: সবচেয়ে বেশি গোল রিয়ালের, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি বার্সেলোনার





স্পোর্টস ডেস্ক
Thursday, 23 July, 2026
11:39 AM
 @palabadalnet

ছবি: রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করায় ম্যাচ হয়েছে অনেক বেশি। স্বভাবতই হয়েছে গোলের রেকর্ডও। কোন ক্লাবের খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ সংখ্যক গোল করেছেন, সেই হিসাব কষলে শীর্ষে আছে স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ। তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি এসেছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও লা লিগার চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার একজন তারকার পা থেকে।

রিয়ালের খেলোয়াড়রা মিলে এবারের আসরে মোট ২২ গোল করেছেন। এর মধ্যে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে একাই ১০টি গোল নিয়ে জিতেছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট। এছাড়া, ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম সাতটি, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র চারটি ও তুরস্কের আর্দা গুলের একটি গোল পেয়েছেন। ১৫ গোল নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ফরাসি জায়ান্ট ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাধারী পিএসজি। ১৩ গোল নিয়ে তিনে জায়গা পেয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল।

রিয়ালের খেলোয়াড়রা গোলের ছড়াছড়ি করলেও সবচেয়ে মূল্যবান গোলটি করেছেন বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। তার লক্ষ্যভেদেই গত রোববার রাতে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে স্পেন।

লিগ হিসেবে গোলের ক্ষেত্রে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে প্রিমিয়ার লিগ। বিশ্বকাপের ৩০৮টি গোলের মধ্যে ৭৯টিই এসেছে ইংলিশ লিগে খেলা ফুটবলারদের পা থেকে। এটি টুর্নামেন্টের মোট গোলের ২৫.৬ শতাংশ। ৪১ গোল নিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্প্যানিশ লা লিগা। এরপর আছে যথাক্রমে জার্মানির বুন্দেসলিগা (২৫), ফরাসি লিগ ওয়ান (২৩) ও ইতালিয়ান সিরি আ (২২)।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিসংখ্যানটি হলো ম্যাচপ্রতি গোলের গড়। ১০৪টি ম্যাচে মোট ৩০৮টি গোল হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ম্যাচে গোলের গড় ছিল ২.৯৬। ১৯৭০ সালের (২.৯৭) পর এটাই বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ গোলের গড়। এটি অনায়াসেই কাতার ২০২২ (২.৬৯), রাশিয়া ২০১৮ (২.৬৪) ও ব্রাজিল ২০১৪ (২.৬৭)— আগের তিনটি আসরের গড় গোলকে ছাড়িয়ে গেছে।

আধুনিক ফুটবলে দিন দিন সেট পিস কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার প্রমাণ মিলেছে। কর্নার, ফ্রি কিক বা লম্বা থ্রো-ইন থেকে এসেছে মোট ৩৮টি গোল। ১৬টি পেনাল্টিসহ টুর্নামেন্টের ৫৪টি গোলই এসেছে সেট পিস থেকে। এটি মোট গোলের ১৭.৫ শতাংশ।

শক্তিশালী ও জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে দূরপাল্লার শটও এবার বেশ কার্যকর ছিল। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে গোল হয়েছে ৪৩টি। এর মধ্যে সাতটি সরাসরি ফ্রি কিক থেকে এবং ৩৬টি ওপেন প্লে থেকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের মোট গোলের ১৪.৬ শতাংশই হয়েছে ডি বক্সের বাইরে থেকে।

সবশেষ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে গোলের হার ছিল মাত্র ৮ শতাংশ। অর্থাৎ, দলগুলো এখন রক্ষণভাগ ভেদ করতে যে নতুন নতুন বিকল্প খুঁজছে, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ দেয়।

পালাবদল/এসএ

 


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]