
মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ছবি: রয়টার্স
গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত মিয়ানমারে জান্তাসেনার নৃশংসতার নতুন কাহিনি তুলে ধরল জাতিসংঘের রিপোর্ট। তাতে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে ভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভোটের ফলপ্রকাশ পর্যন্ত ছয় মাসের সময়সীমার মধ্যে সে দেশের সেনাবাহিনী অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিককে খুন করেছে।
নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন মহিলা এবং ১৫৩ জন শিশু বলে জানানো হয়েছে ওই রিপোর্টে। বিভিন্ন সূত্র যাচাই করে নিহতদের পরিচয় সম্পর্কেও নিঃসন্দেহ হয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের (ইউএনএইচআরসি) তদন্তকারী দল। সাধারণ নির্বাচনে প্রাক্তন সেনাকর্তা (বর্তমানে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট) মিন আউং হ্লাইং-এর দল জয়লাভ করার পরেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি বলেও ওই রিপোর্ট জানাচ্ছে।
সাধারণ নির্বাচনের পরে গত ১০ এপ্রিল মিয়ানমারে নতুন সরকার শপথ নিয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে অশান্তির মেঘ জমে বাংলাদেশের পড়শি দেশে। রাখাইন প্রদেশে সক্রিয় আরাকান আর্মি এবং চিন প্রদেশে সক্রিয় তাদের সহযোগী জান্তাবিরোধী নতুন জোট ‘চিন ব্রাদারহুড’-এর শরিক ‘ইয়াও ডিফেন্স ফোর্স’, সাগাইন অঞ্চলে সক্রিয় ‘ইয়াও আর্মি’ এবং ‘মনিওয়া পিপল্স ডিফেন্স ফোর্স’ নতুন করে জান্তাসেনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করে। এর পরে গত দু’মাসে ওই দুই প্রদেশে অসামরিক জনবসতি লক্ষ্য করে জান্তাফৌজ একাধিক বার বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস’ (ইউএনএইচসিআর)-এর দু’মাস আগের একটি রিপোর্ট জানিয়েছিল, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে নৌকায় পালানোর সময় অন্তত ৯০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী বঙ্গোপসাগরে জলে ডুবে মারা গিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
পালাবদল/এমএম