
গাজার আল-রিমাল এলাকায় ধ্বংসস্তুপের পাশে ২ বছর বয়সী আলমা। মার্চ ২০২৫। ছবি: রয়টার্স
গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন।
মঙ্গলবার কমিশনের প্রতিবেদনের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হলে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর সব ধরনের নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক এই তদন্ত কমিশন।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ শিশু নিহত হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছে। এটি গাজায় ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নির্মূল করার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘গণহত্যার উদ্দেশ্য’ প্রমাণ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, গাজায় এই দফায় শিশু মৃত্যুর হার আগের তুলনায় বেড়েছে। ২০০৮-০৯ এবং ২০১৪ সালের সংঘাতে মোট নিহতদের প্রায় ২৪ শতাংশ শিশু ছিল। এবার সেই হার আরও ৬ শতাংশ বেড়েছে।
কমিশন জানায়, এতে বোঝা যায় যে এত বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা ছিল না বরং এই হামলাগুলো ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ইসরায়েলি বাহিনী গাজার যেকোনো বাসিন্দাকেই হামাসের সহযোগী মনে করে এবং এ কারণে শিশুদেরও লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে মত দিয়েছে কমিশন।
শিশু হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে শিশুদের স্বাস্থ্য সংকট ও মানসিক বিপর্যয়ের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা, বারবার বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণ অবরোধের ফলে শিশুদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে আসে যে হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে হামলার কারণে নবজাতকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমেছে এবং গর্ভপাতের হার বেড়েছে।
পশ্চিম তীরেও নির্যাতনের অভিযোগ
অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমেও ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংসতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একইসঙ্গে গণগ্রেপ্তার ও আটক অভিযানের সময় নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং নির্যাতনের শামিল বলে জানায় কমিশন।
তবে জেনেভায় নিযুক্ত ইসরায়েলি মিশন এ প্রতিবেদনকে ‘মানহানিকর ও মিথ্যা প্রচারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবেদনে হামাসের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ আড়াল করা হয়েছে।
পালাবদল/এমএম