
হেমায়েতপুরে একেএইচ গ্রুপের কারখানার নিচে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
শ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ১৭৭টি পোশাক কারখানা এক দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রোববার শ্রমিকেরা বিভিন্ন সড়কে নামলেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়নি। কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি।
আন্দোলন হয়েছে এমন একটি কারখানার এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রোববার মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে, কিন্তু প্রতিনিধি কারা, তা আমরা জানি না।” নতুন মজুরি ঘোষণার আগপর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তবে মিজানুর রহমান নামের এক শ্রমিক বলেন, “মজুরি বোর্ড গঠন স্বস্তির খবর। এখন কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করা ঠিক হবে না।”
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটারস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, মজুরি বোর্ড ও এর কার্যক্রম সম্পর্কে শ্রমিকদের জানাতে মালিকপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শ্রমিকেরা পরিষ্কারভাবে না জানায় তারা মনে করছেন, বোর্ড বসলেই নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, “আমরা শ্রমিকদের ধৈর্য ধরতে বলছি। দর-কষাকষির পর মজুরি নির্ধারণ হলে তা ডিসেম্বরে কার্যকর হবে। কিন্তু শ্রমিকেরা বার্তাটি ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এবার মালিকপক্ষ বা বিজিএমইএর সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ের উদ্যোগও চোখে পড়ছে না।”
তবে মজুরি বোর্ড গঠনের পর আশুলিয়ায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে আনন্দ র্যালি করেছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটি নামের একটি সংগঠন।
হেমায়েতপুরে কারখানায় হামলা, সাংবাদিককে মারধর
সাভারের হেমায়েতপুরে একটি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শেষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। সে সময় ভিডিও করতে গেলে ‘প্রাইম টিভির’ সাভার উপজেলা প্রতিনিধি গোপাল মালাকারকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
গোপাল মালাকার বলেন, “ভিডিও করার সময় কয়েকজন আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। পরে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে হেমায়েতপুরের কয়েকটি কারখানা ছুটি দেওয়া হলেও একেএইচ গ্রুপের কারখানায় কাজ চলছিল। দুপুর আড়াইটার দিকে ছুটি হওয়া কারখানার একদল শ্রমিক এসে শ্রমিকদের বের হতে বলেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা না করায় তারা ভেতরে ঢুকে জানালার কাচ ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। মূল ফটকের নিরাপত্তাকক্ষে আগুন দেন তারা।
একেএইচ গ্রুপের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে ছুটি হওয়া কারখানার ১৫-২০ জন এসে গেট ভাঙচুর করে। পরে ৫০০-৬০০ জন এসে কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর ও স্টাফদের মারধর করেছে। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, “আশপাশের কারখানার শ্রমিকসহ বহিরাগতরা সড়ক অবরোধ করে। মুখোশ পরা আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই বহিরাগত। একেএইচ গ্রুপের পার্কিংয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে তারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।’
পালাবদল/এসএ