
নিহত সাহেব আলী। ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাহেব আলীকে গুলি করা হত্যা করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাহেব আলী (৪০) ওয়াপদা কলোনির মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
তারেক আল মেহেদী বলেন, সন্ধ্যায় নিজ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ‘অন্তঃকোন্দলের’ জেরে গোলাগুলি হয়। এ সময় সাহেব আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তার পাশের খালে পড়ে যান। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যা, ডাকাতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাহেব আলীর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বউবাজার এলাকায় তাকে গ্রেফতার করতে গেলে তৎকালীন র্যাব সদস্যদের (বর্তমানে এসআরবি) ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। একই বছরের ১৫ অক্টোবর সুনামগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান সাহেব আলী।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ওয়াপদা কলোনি এলাকার ইত্তেহাদ টাওয়ার নামে একটি বহুতল ভবনের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় সাহেব আলীর হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং তিনিও গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত হয়ে সড়কের পাশের খালে পড়ে যান তিনি।
পাশের ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বিপরীত দিক থেকে দৌড়ে আসা সাহেব আলীকে কাছ থেকে গুলি করেন এক যুবক। পরে তিনি পাশের খালে পড়ে গেলে একাধিক গুলি করেন ওই যুবক।
পুলিশ কর্মকর্তা তারেক আল মেহেদী বলেন, সাহেব আলীর নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় ছিল। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, নিজ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কোন্দলের জেরে গুলিতে সাহেব আলীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কী কারণে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পালাবদল/এসএ