
মিজানুর রহমান এবং মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মোল্লা। ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় শুক্রবার ভোরে পুলিশের একটি টহল দলের ওপর কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও বিএনপির এক স্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মোল্লা।
কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে টহল দিচ্ছিল। একই সঙ্গে তারা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও তামিল করছিল।
একপর্যায়ে পুলিশ সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সামনে গাড়ি থামিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকায়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় কাভার্ড ভ্যান তাদের ওপর ধাক্কা দেয়। এতে মিজানুর রহমান, শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক জাভেদ ওমর, গাড়িচালক কনস্টেবল ফজলে রাব্বি এবং বিএনপি নেতা রফিকুল গুরুতর আহত হন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কাভার্ড ভ্যানের চালক মিজানুর রহমানকে ধাক্কা দেওয়ার পর প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। পরে তাকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে চালক পালিয়ে যান। তিনি নরসিংদীর ঘোড়াশালের দিকে চলে যান।
স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিএনপি নেতা রফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুতর আহত মিজানুর রহমান ও জাভেদ ওমরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমান মারা যান।
অন্যদিকে, আহত কনস্টেবল রাব্বিকে চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ কাভার্ড ভ্যানটি ও এর চালককে শনাক্ত করতে পারেনি।
ঘটনার সময় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম সেখানে কেন ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম এবং কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পালাবদল/এসএ